Abhishek Banerjee Office: প্রভাব খাটিয়ে ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস দখল অভিষেকের? আইনি নোটিস মালিকপক্ষের
Abhishek Banerjee Camac Street Office Controversy: আইনজীবী সাগ্নিকা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "সিসি এখনও পর্যন্ত ওনাদের দেওয়া হয়নি। তারপরও ওঁরা বিল্ডিংটা বেআইনিভাবে ও গায়ের জোরে দখল করে বসে রয়েছেন। যতবার আমরা বলতে গিয়েছিলাম, ওনারা বলেছেন কেএমসি থেকে দেখে নেবেন। ওঁরা পজিশন নিয়ে নেবেন ও সিসি কীভাবে নেবেন তা ওঁরা বুঝে নেবেন।"

কলকাতা: বিলবোর্ডের পর ফের বিতর্কে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস (Abhishek Banerjee Camac Street Office)। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের বিরুদ্ধে অফিস জবরদখলের অভিযোগ। চুক্তি লঙ্ঘন করে প্রভাব খাটিয়ে বিল্ডিংয়ের দু’টি ফ্লোর দখলের অভিযোগ তুলেছে মালিকপক্ষ। কালীঘাট তৃণমূলকে (Kalighat TMC) আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে। দিন দু’য়েক আগে ক্যামাক স্ট্রিটে বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। পুরসভা কর্মী ও পুলিশের গায়ে হাত তোলার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে। জল গড়ায় আদালত পর্যন্ত। কিন্তু, সেখানেও ধাক্কা খায় কালীঘাট তৃণমূল। এবার নতুন অভিযোগ উঠল অভিষেকের বিরুদ্ধে।
কী অভিযোগ অভিষেকের বিরুদ্ধে?
২০২০ সালে ৯ নম্বর ক্যামাক স্ট্রিটের বাড়ির মালিকের সঙ্গে চুক্তি হয় তৃণমূল যুব কংগ্রেসের। কিন্তু, মালিকপক্ষের অভিযোগ চুক্তিতে যে যে শর্ত ছিল তা মানা হয়নি। জেলবন্দি তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তী সই করেছিলেন ওই চুক্তিতে৷ মালিকের তরফ থেকে সিসির জন্য বারবার বলা হয়। কিন্তু, সিসি ছাড়াই প্রভাব খাটিয়ে দু’টো ফ্লোর দখল করে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, বাড়ির মালিককে না জানিয়েই বিল বোর্ড লাগানো হয়েছিল বলে অভিযোগ।
মালিকপক্ষের আইনজীবী কী বলছেন?
আইনজীবী সাগ্নিকা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “সিসি এখনও পর্যন্ত ওনাদের দেওয়া হয়নি। তারপরও ওঁরা বিল্ডিংটা বেআইনিভাবে ও গায়ের জোরে দখল করে বসে রয়েছেন। যতবার আমরা বলতে গিয়েছিলাম, ওনারা বলেছেন কেএমসি থেকে দেখে নেবেন। ওঁরা পজিশন নিয়ে নেবেন ও সিসি কীভাবে নেবেন তা ওঁরা বুঝে নেবেন। সরকার বদলের আগেও আমরা অভিযোগ করেছিলাম। কিন্তু কোনও পাত্তা দেয়নি। সরকার বদলের পর আমরা ভরসা পেয়েছি, তারপরই আবার আমরা এগিয়েছি। আইনি পদক্ষেপ করেছি। প্রথমে একটি নোটিস পাঠানো হয়েছে। নোটিসের পর যদি কোনও অ্যাকশন না নেওয়া হয়, তাহলে এবার আমরা থানায় যাব। থানাও অ্যাকশন না নিলে আদালতে যাব।
এই বিষয়ে পুর ও নগরোন্নায়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “জবরদখলের বিষয় পরে আসছে। আমাদের পুরসভা ও পুলিশ গেছিলাম যে উপরে যে লোহার একটা ফ্রেমের মধ্যে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের যে হোর্ডিং লাগানো হয়েছিল, সেটা খুবই বিপজ্জনক। আজ যদি ঝড়-বৃষ্টি জলে ওই লোহার বিমটা উপর থেকে নীচে পড়ে, তাহলে ১০০-২০০ লোক ঘটনাস্থলেই মারা যাবে। সেই কারণেই হোর্ডিংটা সরানো হয়েছে। তারপর এখন যে দখলের অভিযোগ উঠছে, সেটা তো খতিয়ে দেখা হবে। কোন জমি, কী ট্যাক্স দিয়েছে, আইনি না বেআইনি। অবাক হওয়ার কিছু নেই। তৃণমূল তো গত ১৫ বছর ধরে বেআইনি কাজ করেছে।”
ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে বিলবোর্ড বিতর্ক
বৃহস্পতিবার বিকেলে ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসের হোর্ডিংকে ঘিরে তুলকালাম পরিস্থিতি তৈরি হয়। হোর্ডিং অবৈধ বলে অভিযোগ তুলে তা ভাঙতে আসেন পুরসভার কর্মীরা। সঙ্গে ছিল পুলিশ। কিন্তু, অভিযোগ, অফিসে ঢুকতেই বাধা পান পুরসভার কর্মীরা। পুলিশের সঙ্গে তীব্র বচসা শুরু হয় তৃণমূল কর্মীদের। অফিসে পৌঁছন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ওব্রায়েনরা। অফিসে জোর করে ঢুকতে গেলে পরিস্থিতি ভয়ংকর হয়ে ওঠে। তারপর দেড় ঘণ্টা ধরে চলতে থাকে পুলিশের সঙ্গে ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসের কর্মীদের হাতাহাতি। অভিযোগ, উর্দি পরা পুলিশের গায়ে হাত তোলা হয়। কলার টেনে হিঁচড়ে চলতে থাকে কিল চড় ঘুষি। পরে অবশ্য পুলিশ ও পুরসভার কর্মীরা ভিতরে ঢুকে বিল বোর্ড গ্যাস কাটার দিয়ে কেটে দেন।
হাইকোর্টে মামলা
ঘটনার পর আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন অভিষেক। অভিযোগ, এই ভাবে বিলবোর্ড ভেঙে ফেলা বেআইনি। পুরসভার কাছে এই সংক্রান্ত কোনও নোটিস ছিল না বলে অভিযোগ তোলেন। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন অভিষেক। প্রধান বিচারপতির নির্দেশ অনুযায়ী শুক্রবার রাজা বসুচৌধুরীর বেঞ্চে মামলা করা হয়। কিন্তু, বিচারপতি বসুরায়চৌধুরী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই মামলার কোনও প্রাসঙ্গিকতা নেই। সাইনবোর্ড যেহেতু ইতিমধ্যেই ভাঙা হয়েছে, তাই অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দেওয়া সম্ভব নয়।
