DG-CP Change: রাতারাতি বদলে গেল প্রশাসনের খোলনলচে, DGP-CP বদল করে দিল কমিশন
DG-CP Change: যখন মধ্যরাতে মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবকে বদলের নোটিফিকেশন জারি হল, তখনই মিলেছিল আভাস। মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবের পর এবার ডিজিপি, সিপি বদল। নতুন ডিজি হলেন সিদ্ধিনাথ গুপ্তা। সিপি হলেন অজয় নন্দ। এডিজি আইন শৃঙ্খাল হচ্ছেন অজয় রানাডে।

কলকাতা: যখন মধ্যরাতে মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবকে বদলের নোটিফিকেশন জারি হল, তখনই মিলেছিল আভাস। মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবের পর এবার ডিজিপি, সিপি বদল। নতুন ডিজি হলেন সিদ্ধিনাথ গুপ্তা। তিনি ১৯৯২ ব্যাচের আইপিএস। সিপি হলেন অজয় নন্দ। এডিজি আইন শৃঙ্খাল হচ্ছেন অজয় রানাডে। মুখ্যসচিবের কাছে কমিশনের তরফে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজ্যপ্রশাসনের ওপর রিভিউ করা হয়েছে , তারপরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কমিশনের সিদ্ধান্ত পীযুস পাণ্ডে ডিজি থাকতে পারবেন না, তার জায়গায় ডিজি হবেন সিদ্ধিনাথ গুপ্তা। সুপ্রতীপ সরকার কলকাতা পুলিশের কমিশনার থাকতে পারবেন না। তাঁর জায়গায় আনা হয় অজয় নন্দকে। দুটো গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। পাশাপাশি এডিজি আইন শৃঙ্খাল হচ্ছেন অজয় রানাডে। তিনি ১৯৯৫ ব্যাচের আইপিএস। ডিজি (কারা) পদে নিয়োগ করা হয়েছে নটরাজন রমেশ বাবুকে। তিনি ১৯৯১ ব্যাচের আইপিএস।
অজয় নন্দ একজন দক্ষ পুলিশ কর্তা। পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার ছিলেন। মাওবাদী দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে তাঁর। আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনারও ছিলেন তিনি। এর আগে তিনি স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্সের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। তাঁকেই এবার কলকাতার সিপি করে আনল কমিশন।
প্রসঙ্গত, গত নির্বাচনের সময়ে সিদ্ধিনাথ গুপ্তাকে ডিজি করেও, পরে বদলাতে হয়েছিল। তারপর সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়কে ডিজি করা হয়েছিল । এক্ষেত্রেও তেমনি হতে পারে বলে রাজ্য পুলিশ সূত্রে খবর। সিদ্ধিনাথ গুপ্তা পদাধিকার বলে এবং ব্যাচে জুনিয়র থাকায় গত লোকসভা নির্বাচনে সিদ্ধিনাথ গুপ্তাকে ডিজি করেও এক ঘণ্টার মধ্যে বদলে সঞ্জয়কে ডিজি করতে হয়েছিল। এইবারও একই সেই জটিলতা দেখা দিতে পারে বলে প্রশাসন অন্দরের খবর। ৩০ এপ্রিল অবসর সিদ্ধিনাথ গুপ্তার। যদিও কমিশন চাইলে তিন মাসের জন্য মেয়াদ বৃদ্ধি করতে পারে।
উল্লেখ্য, ভোট পর্বে কখনও কারা প্রশাসন, কারা দফতর বদল করতে পদক্ষেপ করেনি নির্বাচন কমিশন।কিন্তু এবার সেই ক্ষেত্রেও পদক্ষেপ করল কমিশন। কারণ, ভোট এলেই জেল থেকে অনেক অপরাধীকে ছেড়ে দেওয়া এই অভিযোগ উঠছে গত কয়েকটি ভোটে। নির্বাচন কমিশনের কাছেও সেই বিষয়ে নির্দিষ্ট অভিযোগ জমা পড়েছে। রাজ্যে এসে কমিশনের ফুল বেঞ্চের কাছেও তা নিয়ে অভিযোগ জমা পড়েছে। সেই কথা উল্লেখ করেছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারও। সেই কারণেই কি কারা দফতরের ডিজি নিয়ে পদক্ষেপ করল কমিশন? চর্চা প্রশাসনিক মহলে। কারা দফতরের ডিজি হয়েছেন এন রমেশ বাবু।
উল্লেখ্য, রবিবার রাতে সাড়ে বারোটার পর বদলি করে দেওয়া হল রাজ্যের মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবকে। ১৯৯৩ ব্যাচের আইএএস দুষ্মন্ত নারিয়ালাকে মুখ্যসচিব নিয়োগ করা হয়েছে। আর ১৯৯৭ ব্যাচের আইএএস সংঘমিত্রা ঘোষকে স্বরাষ্ট্রসচিব পদে বসানো হচ্ছে। নন্দিনী চক্রবর্তী ও জগদীশ প্রসাদ মীনাকে শুধু পদ থেকে সরানোই নয়, কমিশন নির্দেশ দিয়েছে, এই দু’জনকে নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত কোনও পদেও বসানো যাবে না বলে নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
