Urban Vote Bank: আর্বানা থেকে সাউথ সিটি, শহরের অভিজাত আবাসনের বাসিন্দারা বিজেপিকে কত শতাংশ ভোট দিলেন জানেন
Election Commission: আবাসনের বাসিন্দারাই জানাচ্ছেন তাঁদের অনেক সমস্যা রয়েছে। নেই পানীয় জল, কোনও কোনও আবাসনে পৌঁছয়নি কলকাতা পুরসভার জল। চাকরি, রাস্তা- এসব সমস্যা তো আছেই। বাসিন্দাদের একটাই কথা, 'যে কাজ করবে, তাকেই ভোট দেব।' আরবানার মতো অভিজাত আবাসনে বারবার বলার পরেও জলের সমস্যা মেটেনি বলে অভিযোগ।

কলকাতা: শহরের আবাসনগুলির জন্য এবার বিশেষ ব্যবস্থা করেছিল নির্বাচন কমিশন (Election Comission)। আবাসনের বাসিন্দারা যাতে বুথমুখী হন, তার জন্য এবার শহরের একাধিক অভিজাত আবাসনের ভিতরেই বুথ তৈরি করা হয়েছিল। সেই প্রচেষ্টা যে অনেকটাই সফল হয়েছে, তা নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য থেকেই স্পষ্ট। বেশিরভাগ আবাসনেই ৮০ শতাংশ বা তার বেশি ভোট পড়েছে এবার। প্রশ্ন হল সেই ভোট কার দিকে পড়ল?
অভিজাত আবাসনের ভোট পেল কে?
আবাসনের বুথেও গেরুয়া ঝড় দেখা গিয়েছে। কলকাতাকে ভোটমুখী করতে কমিশনের আবাসনে বুথ করা হয়েছিল। সেই ভোটেও বিজেপির বাজিমাৎ৷ কলকাতার ভোট বাড়ার পাশাপাশি আবাসনের বাসিন্দারা বেছে নিয়েছেন বিজেপিকেই।
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে কলকাতা ও লাগোয়া অঞ্চলের ৪১টি আবাসনে বুথ তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। রাজ্যে মোট আবাসনের সংখ্যা ছিল ৭৯টি। অতীত ভুলে নির্বিঘ্নে ভোট দিয়েছেন আবাসনের বাসিন্দারা। কমিশনের তথ্য় বলছে, সেই ভোটেও বাসিন্দারা মুখ ফিরিয়েছে তৃণমুল থেকে।
পরিসংখ্যান বলছে, ‘আরবানা’র মতো অভিজাত আবাসনে মোট ৯২০ জন ভোটারের মধ্যে ৭৪৯ জন ভোট দিয়েছেন। অর্থাৎ প্রায় ৭৪ শতাংশ ভোট পড়েছে। ওই বুথে মুখ থুবড়ে পড়েছে তৃণমূল। ৫৫০ জন বিজেপির পক্ষে ভোট দিয়েছেন। টলিউডের একাধিক তারকার বাস এই আবাসনে।
ইএম বাইপাসের ‘অ্যাক্টিভ একরস’ আবাসনে ৫৩৪ জন ভোট দিয়েছেন অর্থাৎ মোট ৮৫.৫৮ শতাংশ ভোট পড়েছে। তথ্য বলছে, এর মধ্যে ৭০ শতাংশ মানুষ বিজেপিকে বেছে নিয়েছেন।
যাদবপুরের সাউথ সিটি আবাসন। শহরের আরও একটি অভিজাত আবাসন। সেখানেও বহু তারকা, বড় ব্যবসায়ীদের বাস। সেখানে ৭০৩ জন ভোটারের মধ্যে ৫৪৩ জন ভোট দিয়েছেন। অর্থাৎ প্রায় ৭৭ শতাংশ ভোট পড়েছে। এর মধ্যে ৬৭ শতাংশ বিজেপির ঝুলিতে গিয়েছে।
এছাড়াও ডায়মন্ড সিটি, জেনেক্স ভ্যালি, সিলভার স্প্রিং, ইমামি সিটি সহ শহরের নামজাদা সবকটি আবাসনে ভোটের হার ৭৫-৯০%। সব কটি আবাসনে ৬০-৭০ শতাংশ ভোট বিজেপির দিকেই পড়েছে বলে সূত্রের খবর।
কেন এমন ফলাফল?
আবাসনের বাসিন্দারাই জানাচ্ছেন তাঁদের অনেক সমস্যা রয়েছে। নেই পানীয় জল, কোনও কোনও আবাসনে পৌঁছয়নি কলকাতা পুরসভার জল। চাকরি, রাস্তা- এসব সমস্যা তো আছেই। বাসিন্দাদের একটাই কথা, ‘যে কাজ করবে, তাকেই ভোট দেব।’ আরবানার মতো অভিজাত আবাসনে বারবার বলার পরেও জলের সমস্যা মেটেনি বলে অভিযোগ। বাসিন্দারা বলছেন ফ্ল্যাট কেনার পর নীচে খাবারের দোকান বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। সারাদিন তীব্র খাবারের গন্ধে তাঁদের প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়ে গিয়েছে। আপাতত আগামী পাঁচ বছরের আশায় বুক বাঁধছেন বাসিন্দারা।
