‘এই মা-ও একজন প্রতিবাদী, সাহসী মা’, তিলোত্তমার মা কেন অভিযুক্তের মায়ের প্রশংসা করলেন?
Baruipur Encounter Update: মঙ্গলবার রাত ১২ টা ৪৫ মিনিট নাগাদ অভিযুক্তকে নিয়ে বারুইপুরের সূর্যপুরে ওই ঘটনাস্থলে গিয়েছিল পুলিশের টিম। ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় অভিযুক্ত পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোয় আত্মরক্ষা করতে পুলিশও গুলি করে।

বারুইপুর: বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় এনকাউন্টার (Encounter)। ঘটনার পুননির্মাণের সময় এক অভিযুক্ত পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালাতেই পাল্টা গুলি চালাতে বাধ্য হয় পুলিশও। এই এনকাউন্টার নিয়ে এবার মুখ খুললেন রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায় (Tapas Roy)। এনকাউন্টারের খবরে খুশি পানিহাটির বিধায়িকা রত্না দেবনাথ (Ratna Debnath)।
মঙ্গলবার রাত ১২ টা ৪৫ মিনিট নাগাদ অভিযুক্তকে নিয়ে বারুইপুরের সূর্যপুরে ওই ঘটনাস্থলে গিয়েছিল পুলিশের টিম। ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় অভিযুক্ত পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোয় আত্মরক্ষা করতে পুলিশও গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় অভিযুক্তকে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে, চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করে।
কী বলছেন তাপস রায়?
বারুইপুর কাণ্ডে এনকাউন্টার নিয়ে রাজ্যের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী তাপস রায় বলেন, “বিষয়টি যা হয়েছে, তার যে গুরুত্ব, তাতে পুনর্নির্মাণের সময় পালানোর চেষ্টা এবং পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালায়, তাহলে এই ধরনের ক্রিমিনালকে পুলিশের কী করা উচিত? পুলিশের যা করা উচিত, সেটাই করেছে।”
কী বলছেন তিলোত্তমার মা?
আরজি করের ঘটনা নাড়া দিয়েছিল গোটা রাজ্য তথা দেশকে। সেই ঘটনার সুবিচার এখনও বাকি। নতুন বিজেপি সরকারের আমলে নাবালিকা খুন-ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তের এনকাউন্টারের খবর পেয়ে তিলোত্তমার মা তথা বিধায়িকা রত্না দেবনাথ বললেন, “এখানে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিগত সরকারের আমলে আমরা যেমন এখনও বিচার পাইনি। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী শাসকের আইন নয়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছেন। ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় অভিযুক্ত পুলিশের বন্দুক নিয়ে তাদের দিকেই তাক করেছিল, তাই গুলি চালিয়েছে পুলিশ। আমি মনে করি, পুলিশ ভালো করেছে। একজন ধর্ষক শেষ হয়েছে। এভাবে যদি পদক্ষেপ করা হয়, তাহলে হয়তো বাচ্চা মেয়েদের বাঁচানো যাবে আগামিদিনে।”
এনকাউন্টারে নিহত অভিযুক্তের মা, তিনি ছেলের দেহ গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, পুলিশ সঠিক কাজ করেছে। এই নিয়ে বিধায়িকা রত্না দেবনাথ বলেন, “এই মা বুকে পাথর রেখে এই কথা গুলি বলছেন। তাঁরও কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু অপরাধের বিরুদ্ধে তিনিও আমাদের মতোই প্রতিবাদ করেছেন। নিজের সন্তানকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। তিনি গতকালও বলেছিলেন, আমার ছেলে যদি অপরাধ করে থাকে, মায়ের কোল ফাঁকা করে থাকে, তাহলে ওঁকেও সাজা দেওয়া হোক। আমি ওঁর প্রতিক্রিয়া শুনেছিলাম। এই মা-ও একজন প্রতিবাদী, সাহসী মা।”
