Dilip Ghosh: ‘শিয়ালদহ কারও বাপের সম্পত্তি নয়’, ত্রিপুরা-কাণ্ডে যুক্তি দিলীপের
Sealdah Photo used in Tripura Government Campaign: "শিয়ালদার ফ্লাইওভার কারও বাপের সম্পত্তি নয়। কেউ যদি আইফেল টাওয়ারের ছবি দেয়, কেউ যদি কুতুব মিনারের ছবি দেয়, কেউ যদি শহিদ মিনারের ছবি দেয়, তাহলে চুরি করা বলেনা। প্রচারের জন্য ভাল জিনিস, সুন্দর ছবি সবাই ব্যবহার করে।''
কলকাতা: কলকাতার মা উড়ালপুল বা অন্ডাল বিমানবন্দরের ছবি দিয়ে উন্নয়নের প্রচার করতে গিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েছে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি। নয়া সংযুক্তি শিয়ালদহ। ত্রিপুরা সরকারের বিজ্ঞাপনে কলকাতার বিদ্যাপতি সেতুর ছবি ব্য়বহার নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। বিপ্লব দেবের সরকারকে তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছে তৃণমূল। আর এই প্রেক্ষিতে পাল্টা কটাক্ষ ছুড়লেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। তাঁর মন্তব্য, ‘শিয়ালদহ কারও বাপের সম্পত্তি নয়, প্রচারে সুন্দর ছবি দেওয়াই যায়’।
শনিবার কলকাতার ১৩২ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপি প্রার্থীর হয়ে প্রচার করতে আসেন দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। বেহালা অজন্তা এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার করেন তিনি। সেখানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ত্রিপুরা সরকারের বিজ্ঞাপনে শিয়ালদহ সেতুর ছবি দেওয়া নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেন। তাঁর কথায়, “শিয়ালদার ফ্লাইওভার কারও বাপের সম্পত্তি নয়। কেউ যদি আইফেল টাওয়ারের ছবি দেয়, কেউ যদি কুতুব মিনারের ছবি দেয়, কেউ যদি শহিদ মিনারের ছবি দেয়, তাহলে চুরি করা বলেনা। প্রচারের জন্য ভাল জিনিস, সুন্দর ছবি সবাই ব্যবহার করে।”
দিলীপ আরও যোগ করেন, “ভারতবর্ষের অনেক জায়গার ছবি আমরা বিভিন্ন জায়গায় দেখে থাকি। এটা কারও পৈত্রিক সম্পত্তি নয়।” প্রসঙ্গত, ড্রাইভিং আইনের জন্য স্লোগান লেখার প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে ত্রিপুরা সরকার। সেই প্রতিযোগিতার এক বিজ্ঞাপনে শিয়ালদহ উড়ালপুল বা বিদ্যাপতি সেতুর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। ছবিতে কলকাতার ট্রাম লাইন, বাস, ট্যাক্সি দেখা যায়। বিপ্লব দেবের রাজ্যের সরকারি বিজ্ঞাপনে পশ্চিমবঙ্গের ছবি দেওয়ায় তীব্র কটাক্ষ করেছে ঘাসফুল শিবির। যদিও বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতির দাবি, এ নিয়ে বিতর্ক অমূলক।
আবার কলকাতার তৃণমূলের দশদিগন্ত ইশতাহার আসলে বিজেপির অনুকরণ বলে পাল্টা অভিযোগ করেছেন দিলীপ। তাঁর কথায়, “কলকাতায় বহু বছর ধরে তৃণমূলের মেয়র রয়েছে। এতদিন কেন এই পরিকল্পনাগুলো সম্পূর্ণ হয়নি? সুব্রত মুখার্জি মেয়র ছিলেন। এখন কেন এসব ইশতাহার প্রকাশ করছে। জলনিকাশী ব্যবস্থা এখানে কিছুই হয়নি। মানুষ কীভাবে বিশ্বাস করবে যে এই কাজগুলো আবার হবে?”
আবার হাওড়া ভোট নিয়ে রাজ্যপালের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে দিলীপ ঘোষ বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেসে একজনের কথায় চলে, রাজ্যপালকে এরা তোয়াক্কা করছে না। রাজ্যপাল কোন বিরোধিতা করছে না। উনি জানতে চেয়েছিলেন। কিন্তু রাজ্যপালের কাছে কেউ যায়নি। বরং রাজ্যপালকে টার্গেট করা হচ্ছে, অসম্মান করা হচ্ছে। তিনি সংবিধানিক পোস্টে থেকে যেটা তাঁর করণীয়, সেটাই করছেন এবং ওঁনাকে তৃণমূল কংগ্রেস অন্ধকারে রাখছে”।
আরও পড়ুন: Mamata-Adani-Mahua: ভরা বৈঠকে ধমক কেন? আদানির বিরুদ্ধে সরব হয়েই কি মমতার স্নেহ-বৃত্তের বাইরে মহুয়া?