Agnimitra-Firhad: ‘এই সরকার সংখ্যালঘুদের হাতে বন্দুক তুলে দিচ্ছে’, নজিরবিহীন তরজা বিধানসভায়

Agnimitra and Firhad confrontation: অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, "স্বাধীনতা আন্দোলনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অবদান নিয়ে কোনও দ্বিমত নেই। কিন্তু এই সরকার সংখ্যালঘুদের ক্রিমিনাল তৈরি করছে। এই সরকার সংখ্যালঘুদের হাতে বন্দুক তুলে দিচ্ছে।"

Agnimitra-Firhad: এই সরকার সংখ্যালঘুদের হাতে বন্দুক তুলে দিচ্ছে, নজিরবিহীন তরজা বিধানসভায়
বিধানসভার অধিবেশনে তরজায় জড়ালেন ফিরহাদ হাকিম ও অগ্নিমিত্রা পালImage Credit source: TV9 Bangla

| Edited By: সঞ্জয় পাইকার

Feb 06, 2026 | 2:19 PM

কলকাতা: বিধানসভার বাজেট অধিবেশনে নজিরবিহীন তরজা। বিতণ্ডায় জড়ালেন বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল ও তৃণমূল বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম। বাজেটে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উন্নয়নে বরাদ্দ বৃদ্ধি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অনুপ্রবেশকারী ও ক্রিমিনাল ইস্যু তুলে শাসকদলকে নিশানা করেন অগ্নিমিত্রা। তিনি অভিযোগ করেন, “এই সরকার সংখ্যালঘুদের হাতে বন্দুক তুলে দিচ্ছে।” তাঁর এই মন্তব্য নিয়ে বিধানসভায় হট্টগোল শুরু হয়। অগ্নিমিত্রার মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করেন ফিরহাদ হাকিম। 

শুক্রবার বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অগ্নিমিত্রা বলেন, “এই সরকার মাদ্রাসা শিক্ষায় বাজেট বাড়িয়েছে। মাদ্রাসা পড়ার পরে কেন ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হচ্ছে না কেউ? কেউ কেউ কেন ক্রিমিনাল হওয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে?” তিনি আরও বলেন, “সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও মাদ্রাস শিক্ষায় বাজেটে বরাদ্দ ১০ শতাংশ বেড়েছে। তা সত্যিই শিক্ষায় নাকি অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাতে?”

অগ্নিমিত্রার মন্তব্যের প্রতিবাদ করতে ওঠেন ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, “স্বাধীনতা আন্দোলনে বহু সংখ্যালঘু মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। আমরা ক্রিমিনাল নই। এপিজে আব্দুল কালাম আজাদ ক্রিমিনাল? কাজী নজরুল ইসলাম ক্রিমিনাল? আপনাদের ধিক্কার। আপনাকে ক্ষমা চাইতে হবে। আপনাদের ধিক্কার। লজ্জা করে না।” 

তুমুল হইচই শুরু হয় বিধানসভায়। স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় অগ্নিমিত্রার উদ্দেশে বলেন, “এমন কোনও শব্দ বলবেন না, যাতে অন্য কেউ আঘাত পান।” ফের বক্তব্য রাখতে গিয়ে অগ্নিমিত্রা বলেন, “স্বাধীনতা আন্দোলনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অবদান নিয়ে কোনও দ্বিমত নেই। কিন্তু এই সরকার সংখ্যালঘুদের ক্রিমিনাল তৈরি করছে। এই সরকার সংখ্যালঘুদের হাতে বন্দুক তুলে দিচ্ছে।” রাজ্যে যতগুলো হিংসার ঘটনা ঘটেছে, সেটা কেন শুক্রবার হচ্ছে, প্রশ্ন তোলেন অগ্নিমিত্রা পাল।

অগ্নিমিত্রার মন্তব্যের প্রতিবাদে তৃণমূল বিধায়করা চিৎকার করতে থাকেন। হইহট্টগোল শুরু হয়ে যায়। তৃণমূল বিধায়কদের দেখা যায় ওয়ালে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানাতে। পাল্টা স্লোগান দিতে শুরু করেন বিজেপি বিধায়করা। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে রীতিমতো বাকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন তৃণমূল বিধায়করা। 

দুই পক্ষের হইহট্টগোলের মধ্যেই উঠে দাঁড়ান স্পিকার। বলেন, “এমন কোনও মন্তব্য করবেন না যা নির্দিষ্ট করে কোন‌ও একটি সম্প্রদায়কে আঘাত করে।” সংখ্যালঘু আর ক্রিমিনাল নিয়ে অগ্নিমিত্রা পালের বক্তব্য রেকর্ড থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিলেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।

পরে বিধানসভার বাইরে বেরিয়ে অগ্নিমিত্রা বলেন, “আমি অন্যায় কিছু তো বলিনি। তৃণমূল সরকার তোষণের রাজনীতি করে, এটা তো সারা পৃথিবী জানে। ধর্মের রাজনীতি আর চলবে না। ২০২৬ সালে বিজেপির সরকার আসবে। এখন শুধু উন্নয়নের সরকার চলবে।” একইসঙ্গে ফিরহাদকে নিশানা করে তিনি বলেন, “আপনি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মন্ত্রী, মেয়র হয়ে আপনার সম্প্রদায়ের জন্য কী করেছেন? আপনি ১৫ বছরের রেকর্ড দেখান, যে মাদ্রাসা থেকে কতজন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইএফএস কিংবা ইসরোর মতো বিজ্ঞানী বেরিয়েছেন। আপনাদের ভোটব্যাঙ্কের জন্য শুধু সংখ্যালঘুদের ব্যবহার করেন।”