
কলকাতা: নবান্নে জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী। সেই বৈঠকেই আচমকা ঢুকে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে যেমন তিনি কাউকে ভয় না পেয়ে কাজ করার বার্তা দেন। সূত্রের খবর, বৈঠকেই ৩ জেলাশাসকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, মঙ্গলবার ওই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী নাম না করে বলেন, তাঁর কাছে খবর রয়েছে, তিন জন জেলাশাসক কমিশন ও কেন্দ্রের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। পাশাপাশি রাজ্যের আধিকারিক হয়েও যাঁরা রোল অবজার্ভারের দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁদের একাংশের ভূমিকা নিয়েও তোপ দাগেন মমতা।
জানা গিয়েছে, গতকাল মুখ্যসচিবের সঙ্গে ওই বৈঠকে ফোন বাইরে রেখে ভিতরে ঢুকেছিলেন জেলাশাসকরা। নির্বাচনের আগে উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে চলছিল আলোচনা। তখনই আচমকা সেখানে আসেন মুখ্যমন্ত্রী। জেলাশাসকদের উদ্দেশে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের সব রায় মেনে এসআইআরের কাজ করতে হবে। হতে হবে আরও মানবিক। এখানেই শেষ নয়, মুখ্যমন্ত্রী আরও বার্তা দেন, যাঁরা হিয়ারিং-এ আসতে পারছেন না, তাঁদের সুবিধা মতো জায়গায় এসআইআর করতে হবে।
এরপরই তিন জেলাশাসকের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী ক্ষোভ উগরে দেন। সূত্রের খবর, মমতা বলেন, কমিশনকে খুশি করতে তিন আধিকারিক যা খুশি করছেন। কমিশন ও কেন্দ্রের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছেন। তাঁর কাছে সব খবর রয়েছে। তাঁদের আর প্রয়োজন নেই বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি। তবে কোনও নাম বলেননি মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি রাজ্যের আধিকারিক হয়েও যাঁরা রোল অবজার্ভারের দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁদের একাংশের উপরেও রীতিমতো তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী। সূত্রের খবর, বিশেষ করে রোল অবজার্ভার সি মুরুগান এবং রণধীর কুমারের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মমতা।
এই নিয়ে রাজ্যের শাসকদলকে তোপ দেগেছে গেরুয়া শিবির। রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর গণতন্ত্র ও সংবিধানের প্রতি কোনও বিশ্বাস নেই। মুখ্যমন্ত্রী ধমকাচ্ছেন জেলাশাসকদের। এই রাজ্যে গণতন্ত্র বলে কিছু নেই। এটাকে বদলে দিতে হবে। বিজেপি না এলে এটা বদলাবে না।”