কেন তৈরি হয়েছিল আজকের কলেজ স্ট্রিট? স্বাধীনতার আগে কেমন জমত আড্ডা?
১৯৩৫ সালের ম্যাগাজিন , সংবাদপত্র থেকে জানা যায় সেই সময় কলেজ স্ট্রিট ছিল মুক্ত মঞ্চের মত। এখানে বসে কবি, লেখক, ছাত্ররা তাঁদের ভাবনা, সাহিত্য, কবিতা নিয়ে আলোচনা করতেন। এক কাপ কফির সাথে তাঁরা তাঁদের কাজের ভবিষ্যত পরিকল্পনা করতেন।

আজকের কলকাতার কলেজ স্ট্রিটের দিকে তাকালেই চোখে পরে পড়ুয়াদের ভিড়, সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে থাকা বইয়ের দোকান। এখনও বহু দুর থেকে আড্ডা জমাতে কফি হাউস আসেন অনেকে। জানেন এই কলেজ স্ট্রিট আর কফি হাউসের ইতিহাস?
ইংরেজরা বুঝেছিলেন সুষ্ঠুভাবে শাসন চালানোর জন্য রাস্তাঘাটের উন্নতি করা জরুরি। অষ্টাদশ শতকের শুরু থেকে লর্ড কর্নওয়ালিসের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত পর্যন্ত কলকাতার রক্ষণাবেক্ষণের মূল দায়িত্ব ছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির এক কর্মচারী বা সিভিল সারভেন্টের উপর। যাকে কলকাতার জমিদার বলা হত। কাজ পছন্দ না হওয়ার জন্য ১৯৭৪ সালে তৈরি হয় নতুন আইন । জমিদারদের থেকে কেড়ে নেওয়া হয় অধিকার। ওয়েলেসলির উদ্যোগে ১৮০৬-১৮৩৬ তৈরি হয় আর্টেরিয়াল সড়ক। হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠার পর ১.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তাটির নাম হয় কলেজ স্ট্রিট।
১৯২৭ সালে কফি হাউস প্রতিষ্ঠার সময় কেমন ছিল আজকের কলেজ স্ট্রিটের ছবি?
১৯৩৫ সালের ম্যাগাজিন , সংবাদপত্র থেকে জানা যায় সেই সময় কলেজ স্ট্রিট ছিল মুক্ত মঞ্চের মত। এখানে বসে কবি, লেখক, ছাত্ররা তাঁদের ভাবনা, সাহিত্য, কবিতা নিয়ে আলোচনা করতেন। এক কাপ কফির সঙ্গে তাঁরা তাঁদের কাজের ভবিষ্যত পরিকল্পনা করতেন। স্বাধীনতা আন্দোলনের সময়, এখানে মিলিত হত বিপ্লবী ছাত্ররা। এক কাপ কফির পাশে তারা নতুন আন্দোলনের পরিকল্পনা করত, রাজনৈতিক কাগজপত্র বিতরণ করত এবং কলেজে আন্দোলনের সংগঠন তৈরি করত।
শুধু রাজনৈতিক আড্ডার জন্যই যে এখানকার খ্যাতি ছিল তা নয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সুভাষচন্দ্র বসু , শান্তিনিকেতন থেকে আসা ছাত্ররা, এবং পরবর্তীকালে সাহিত্যিকরা এখানে বসে কবিতা, সাহিত্য ও প্রবন্ধ নিয়ে আলোচনা করতেন। এখন থেকেই সূচনা হয়েছে বহু কবিতা, গল্পের।
এক সময় এখানে আড্ডা জমাতেন সাহিত্যিক গৌরীশঙ্কর ভট্টাচার্য, দীপেন বন্দ্যোপাধ্যায়, সমরেশ বসু, নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, গৌরকিশোর ঘোষ, মণিশঙ্কর, ভবানী মুখোপাধ্যায়, বিমল মিত্র, তারাপদ রায়,সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় শক্তি চট্টোপাধ্যায়রা। আড্ডা দিতে আসতেন বহু পরিচালক, অভিনেতা, অভিনেত্রীরাও।
বহুবার কফিহাউস বন্ধ হওয়ার কথা ওঠে। ১৯৯৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর কফি হাউসের নির্দিষ্ট অংশ রাজ্য সরকার কিনে নেয় । তারপর সেটি কফি হাউস সমবায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয় আজও, ২৫০ বছর পরেও কফি হাউস বহন করে চলেছে তার পুরনো ইতিহাস।
