মাঠ ছেড়েছেন অধীর, ভবানীপুরে মমতার বিরুদ্ধে তারুণ্যেই আস্থা সিপিএম-এর

কেউ যদি প্রার্থী দিতে না চায়, তবে সেই সব জায়গায় কাস্তে-হাতুড়ি প্রতীকের প্রার্থীরাই লড়বেন। কারণ, আগ বাড়িয়ে মোর্চা ভাঙার দায় কোনওভাবেই নিতে চান না বাম নেতৃত্ব। আগামীতে সবাইকে নিয়েই চলতে চায় সিপিএম।

মাঠ ছেড়েছেন অধীর, ভবানীপুরে মমতার বিরুদ্ধে তারুণ্যেই আস্থা সিপিএম-এর
ফাইল ছবি

কলকাতা: একুশের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর আসনে প্রার্থী দিয়েছিল কংগ্রেস। চলতি বছরেই সেই আসনে উপনির্বাচনে লড়বেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই ভোটে কংগ্রেস প্রার্থী দেবে না বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছেন প্রদেশ সভাপতি অধীর চৌধুরী। কিন্তু বামেরা ময়দান ছেড়ে দিতে রাজি নয় তৃণমূল নেত্রীকে। একুশের নির্বাচনে ঠিক যেভাবে কতিপয় তরুণদের উপর সিপিএম নেতৃত্ব ভরসা রেখেছিল, এ বারও একই পথে হাঁটা হচ্ছে। ভবানীপুরে মমতার বিরুদ্ধে কোনও কোনও তরুণ প্রার্থীই দিতে চাইছে আলিমুদ্দিন। বুধবার সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়েই চূড়ান্ত আলোচনা হয়েছে।

বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুরে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন শাদাব খান। সংযুক্ত মোর্চার আলোচনা অনুযায়ী এই আসন কংগ্রেসকে ছেড়েছিলেন সিপিএম নেতৃত্ব। ৫ হাজারের কিছু বেশি ভোট পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এ বার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সেখানে প্রার্থী দিতে চান না বলে ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। তাই সেখানে প্রার্থী দেবে সিপিএম। তারা চাইছে, একুশের বিধানসভা নির্বাচনে মোর্চার আলোচনা অনুযায়ী যে শরিক যেখানে প্রার্থী দিয়েছিল, সেখানে তারাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুক। কিন্তু কেউ যদি প্রার্থী দিতে না চায়, তবে সেই সব জায়গায় কাস্তে-হাতুড়ি প্রতীকের প্রার্থীরাই লড়বেন। কারণ, আগ বাড়িয়ে মোর্চা ভাঙার দায় কোনওভাবেই নিতে চান না বাম নেতৃত্ব। আগামীতে সবাইকে নিয়েই চলতে চায় সিপিএম।

উল্লেখ্য, তৃণমূল সুপ্রিমো নন্দীগ্রামের আসনে লড়ার সময় তাঁর বিরুদ্ধে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়কে প্রার্থী করেছিল সিপিএম। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারীর মতো দুই হেভিওয়েট নামের মাঝে স্বাভাবিকভাবেই ভোটে আশাব্যঞ্জক ফল হয়নি মীনাক্ষীর। তবে তাঁর প্রচার এবং ভাষণ নজর কেড়েছিল রাজনৈতিক মহলের। এ বারও একই পরিকল্পনা রয়েছে সিপিএমের। যদিও মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কাকে প্রার্থী করা হবে সেই বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছুই জানা যায়নি। অন্যদিকে বিজেপিও কোনও ইঙ্গিত দেয়নি কাকে প্রার্থী করা হবে সেই নিয়ে।

আরও পড়ুন: ‘আপনার ধারাবাহিক অসঙ্গতি হতবাক করছে’, মমতাকে ভ্যাকসিন-খোঁচা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

আজকের বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সামরেশগঞ্জের আসনেও প্রার্থী দেবে সিপিএম। তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রসঙ্গত, বিধানসভা ভোটের সময়ে এই আসনে কংগ্রেস ও সিপিএম দু’পক্ষই প্রার্থী দিয়েছিল। ভবানীপুর ও শামসেরগঞ্জের আসন ছাড়াও চলতি বছরের মধ্যেই উপনির্বাচন হওয়ার কথা খড়দা, শান্তিপুর, জঙ্গিপুর ও দিনহাটা বিধানসভা আসনে।

আরও পড়ুন: সাপুরজি এনকাউন্টারে তীব্র জঙ্গি যোগ, এনআইএ তদন্তের দাবিতে শাহকে চিঠি সৌমিত্রর