Abhishek Banerjee On Gyanesh Kumar: ‘বাংলার অভিশাপ লেগে গিয়েছে’, কলকাতায় পা দিয়েই জ্ঞানেশ নিয়ে স্বর গরম অভিষেকের
Election commission of india: অভিষেক এ দিন এও বলেছে, "বিড়াল ঝুলি থেকে বেরিয়েছে...বাংলার অভিশাপ লেগে গেছে। গায়ের জোরে বাংলা দখলে এসেছিল। সারা ভারতে বিজেপির পরিস্থিতি করুণ, আগামীতে খারাপ হবে। যাঁদের সাংবিধানিক পদে ইন্সস্টিটিউশনগুলিকে ব্যবহার করে স্বার্থ চরিতার্থ করতে বিজেপির নেতারা নেমেছিলেন, আগামীদিনে তাঁদের সকলকে শ্রীঘরে থাকতে হবে। দেশের অধপতন করা এত সহজ নয়।"

ঐন্দ্রিলা ঘোষের রিপোর্ট
কলকাতা: চোখের চিকিৎসা করিয়ে কলকাতায় (Kolkata) ফিরে আসার পরই নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে তীব্র আক্রমণ ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee)। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, SIR-এর পদ্ধতি নিয়ে তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই তোপ দাগতে শুরু করেছেন বিরোধীরা। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জ্ঞানেশ কুমারের গ্রেফতারির দাবি তুলেছেন। পাশাপাশি তিনি বলেছেন, বাংলার অভিশাপ লেগে গিয়েছে।
‘জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে NOC ইস্যু করা উচিত’
আজ বিমানবন্দর থেকেই অভিষেক ফের একবার বাংলায় SIR-এর পদ্ধতি নিয়ে বলেন, “প্রায় তিরিশ লক্ষ লোককে ভোট দিতে দেওয়া হয়নি। সেখানে আপনারা বিচারপতিদের বক্তব্যতে কিছু মত পার্থক্য রয়েছে। বৃহত্তর বেঞ্চ বসানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে NOC ইস্যু করা উচিত। অনেকের চিন্তা ছিল আমি বাইরে যাব, ফিরব কি না। আমি কলকাতায় ফিরে এলাম। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে NOC ইস্যু করা উচিত যাতে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে। তাঁকে গ্রেফতার করা উচিত।”
‘ওঁর বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট আনা হয়েছিল’
ভোটার লিস্ট চুরি করে বিজেপি বাংলা দখল করেছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিষেক। বলেন, “যে ভাবে বিজেপির হয়ে ভোটার লিস্টে চুরি করে নির্বাচন চুরি করেছে। আমি মনে করি ওঁকে গ্রেফতার করা উচিত। ওঁর বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট আনা হয়েছিল। কোনও কারণ না দেখিয়ে ইমপিচমেন্ট রিজেক্ট করা হয়েছে। ভূভারতে স্বাধীনতার পর কোনও দিন হয়নি। তাঁকে নিয়োগ করার রুল পাল্টে দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের জাজমেন্টকে মান্যতা দিয়ে পার্লামেন্টে নতুন বিল এনে নতুন আইন আনা হয় যাতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি নির্বাচন কমিশনারকে নির্বাচন করতে পারে। যে প্রধানমন্ত্রীর মনোনয়নে পদে বসবে সে তো প্রধানমন্ত্রী আর বিজেপি নেতার জন্যই কাজ করবে এটা স্পষ্ট।”
‘বিড়াল ঝুলি থেকে বেরিয়েছে’
অভিষেক এ দিন এও বলেছে, “বিড়াল ঝুলি থেকে বেরিয়েছে…বাংলার অভিশাপ লেগে গেছে। গায়ের জোরে বাংলা দখলে এসেছিল। সারা ভারতে বিজেপির পরিস্থিতি করুণ, আগামীতে খারাপ হবে। যাঁদের সাংবিধানিক পদে ইন্সস্টিটিউশনগুলিকে ব্যবহার করে স্বার্থ চরিতার্থ করতে বিজেপির নেতারা নেমেছিলেন, আগামীদিনে তাঁদের সকলকে শ্রীঘরে থাকতে হবে। দেশের অধপতন করা এত সহজ নয়।”
‘অভিশাপ বৃথা যাবে না’
তিনি আরও বলেন, “যাঁর ভোট দিতে পারেনি, তাঁদের অভিশাপ চোখের জল, যাঁরা লাইনে দাঁড়িয়ে মারা গেছে কারও ৮২ বছর বয়স, অন্তসত্বা অবস্থায় মহিলাদের দাঁড় করিয়ে রেখেছে তাঁদের চোখের জল বৃথা যাবে না। আমরা যা বলেছি অক্ষরে অক্ষরে স্পষ্ট।”
এ নিয়ে বিধায়ক সজল ঘোষ বলেন, “আমি প্রথমেই কুশল মঙ্গল করি। মাথাটা গেছে পুরো। নিজের দল বাঁচাতে পারছে না, কেন্দ্র বাঁচাতে পারছে না জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ নয়, গ্রেফতারি দাবি করছে। এর আগে অমিত শাহের গ্রেফতারির দাবি তুলেছিল। তারপর যা অবস্থা হয়েছিল নিজের দিকে তাকিয়ে দেখুক। বাইরে থেকে ঘুরে আসার পর মনে হয়েছে বাংলা বিজেপি গায়ের জোরে দখল করেছে? গায়ের জোরে এভাবে ভোট হয়?”
