Dilip Ghosh’s secretary on Suvendu Adhikari: ‘সনাতনী হিন্দু টা কী?’, দিলীপের ব্যক্তিগত সচিবের পোস্টে বিতর্ক!

Kolkata: বঙ্গ বিজেপিতে শুভেন্দুর 'সর্বময়তা'  অনেকেই সহজে গ্রহণ করতে পারেননি। বস্তুত একুশের বিধানসভা নির্বাচন আবহে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন শুভেন্দু

Dilip Ghosh's secretary on Suvendu Adhikari: 'সনাতনী হিন্দু টা কী?', দিলীপের ব্যক্তিগত সচিবের পোস্টে বিতর্ক!
দিলীপের ব্যক্তিগত সচিবের পোস্ট বিতর্কের কারণ, নিজস্ব চিত্র

কলকাতা:  বিজেপির অন্দরে ‘বিদ্রোহের’ ছবি বেশ কিছুদিন ধরে অব্যাহত। একের পর এক বিজেপি নেতারা হোয়াটস্যাপ গ্রুপ ত্যাগ করেছেন। দলের অন্দরে যখন এভাবে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখা গেল, তখন সম্পূর্ণ একটি অন্য ধরনের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে বিস্তর চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে যাওয়া ওই পোস্টটি করেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতির ব্যক্তিগত সচিব দেব সাহা। নিজের  ব্যক্তিগত সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে দেব লিখেছেন, ‘সনাতনী হিন্দু ব্যাপারটা কী’ তা জানেন না। আর এতেই প্রশ্ন। কারণ? উল্লিখিত ওই বিশেষ শব্দবন্ধ কার্যত ব্যবহার করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।

দিলীপ ঘোষের ব্যক্তিগত সচিব ঠিক কী লিখেছেন? 

দেব সাহা সোশ্যাল হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “কেউ একটু বোঝাবে, সনাতনী হিন্দু টা কী? লাস্ট ৬ মাস (last 6) মাস থেকে শুনছি! প্রায় একশো বছর আগে এরকম শোনা যেত।” উল্লেখ্য, ‘সনাতনী হিন্দু’–এই বিশেষ শব্দবন্ধ ব্যবহার করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদানের পর থেকেই অধিকারী পুত্রের মুখে এই বিশেষ শব্দবন্ধ প্রাধান্য পেতে শুরু করে। বিভিন্ন জনসভা থেকে শুরু করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও  বিরোধী দলনেতা নিজেকে ‘সনাতনী হিন্দু’ বলে অ্যাখ্যায়িত করতে শুরু করেন।

viral post

সেই বিতর্কিত পোস্ট, নিজস্ব চিত্র

বিতর্ক কোথায়? 

বস্তুত,  হিন্দুধর্মে ‘সনাতনী হিন্দু’ হিসেবে একটি বিশেষ মতাদর্শ রয়েছে। মূলত বেদ-উপনিষদ-গীতার মতো ধর্মগ্রন্থগুলির চর্চা যাঁরা নিরবধিকাল করে আসছেন তাঁরাই সনাতনী হিন্দু নামে পরিচিতি লাভ করেন। সহজভাবে অন্তত এটুকুই বলা যায়। কিন্তু ঐতিহাসিক বিতর্কে না গিয়ে বর্তমান রাজনীতির আঙিনায় রাজ্যের বিরোধী দলনেতার মুখে এই বিশেষ ধরনের ‘বিভাজন’টি নজর এড়ায়নি রাজনৈতিক মহলের। আর এই বিশেষ শব্দবন্ধটির ব্যবহার শুরু করেন শুভেন্দু, বিজেপিতে যোগদানের পর। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, নতুন দলে নিজের বিশ্বস্ততা অর্জন করতেই কি শুভেন্দুর এই পদক্ষেপ? অন্তত এমনটাই মত সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশের।

অন্যদিকে, দিলীপের ব্যক্তিগত সচিবের এই পোস্টের নেপথ্যে খোদ দিলীপের মদত রয়েছে বলেও কানাঘুষো শোনা গিয়েছে।  এখানেই শেষ নয়, আরও শোনা গিয়েছে, বঙ্গ বিজেপিতে শুভেন্দুর ‘সর্বময়তা’  অনেকেই সহজে গ্রহণ করতে পারেননি। বস্তুত একুশের বিধানসভা নির্বাচন আবহে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন শুভেন্দু। তার আগে ধীরে ধীরে একাধিক সাংগঠনিক পদ, মন্ত্রিত্ব ছেড়েছিলেন অধিকারী পুত্র। তখনই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল শিশিরপুত্র শিবির বদলাতে পারেন। এরপর অমিত শাহের জনসভায়  ঘাসফুল ছেড়ে পদ্মে যোগ দেন শুভেন্দু।

যোগদানের অবব্যহিত পরে শুভেন্দু জানিয়েছিলেন, দল যা ঠিক করবে তিনি তাই করবেন। তারপর ধাপে ধাপে ক্রমশ সামনের সারির নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। জুট কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান থেকে নন্দীগ্রামের বিধায়ক, শেষে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। পাশাপাশি বিভিন্ন সভা-সমিতিতে সম্পূর্ণ নতুন অবতারে দেখা গেল শুভেন্দুকে।

কানাঘুষো শোনা গিয়েছে, শুভেন্দুর যোগদান অনেকেই ভালভাবে মেনে নিতে পারেননি। পরবর্তীতে মুকুল রায়ের ‘ঘরওয়াপসির’ একটা বড় কারণ ছিল অধিকারী পুত্রের এই সর্বময়তা, এমনটাও শোনা যায়। একইভাবে, বারবার  ‘সনাতনী হিন্দু’ —এই ধরনের শব্দবন্ধ ব্যবহার ও একইসঙ্গে তথাকথিত সংখ্যাসঘু  জনগোষ্ঠীর প্রতি ‘বিরূপ’ মনোভাব প্রকাশও খুব ভাল চোখে দেখেননি দলের শীর্ষ নেতারা। সেই তালিকায় রয়েছেন দিলীপ ঘোষও। অন্তত এমনটাই মনে করেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। যদিও কখনওই, শুভেন্দু বা দিলীপ কাউকেই এমন কোনও আচরণ প্রকাশ করতে দেখা যায়নি যে তাতে কোনও পরস্পরবিরোধিতা প্রকাশ পায়। তবে, খোদ দিলীপের ব্যক্তিগত সচিবের এ হেন পোস্টে বিতর্ক থাকছেই। যদিও এ নিয়ে শুভেন্দু হোন বা দিলীপ, এখনও কেউই কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি।

আরও পড়ুন: Jago Bangla: ‘দ্বিচারী কংগ্রেস’! গোয়ায় জোট নিয়ে সিদ্ধান্তের আগেই ফের দলীয় মুখপত্রে ‘আক্রমণাত্মক’ তৃণমূল

Related News

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla