Supreme Court: বাংলায় SIR প্রক্রিয়ায় এবার ট্রাইবুনাল গঠনের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
SIR in Bengal: আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "সুপ্রিম কোর্ট বলল, আমাদের জুডিশিয়াল অফিসারদের অর্ডার ডিইও কী করে দেখবে। তাহলে ডিইও-রা যদি দেখতে না পারেন, সিইও কী করে দেখবেন? তিনিও একজন আমলা। জুডিশিয়াল অফিসারদের অর্ডার আমলারা কী করে দেখবেন? সেই জন্য সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি হাইকোর্টকে বললেন, এক বা একাধিক ট্রাইবুনাল তৈরি করতে।"

নয়াদিল্লি: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই এসআইআর-র চূড়ান্ত তালিকায় ৬০ লক্ষ অমীমাংসিতের নথি খতিয়ে দেখতে জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। এবার ট্রাইবুনাল গঠনের নির্দেশ দিল শীর্ষ আদালত। বিচারাধীন ভোটারদের সমস্যা মেটাতেই এই ট্রাইবুনাল তৈরির নির্দেশ। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির পরামর্শে এই ট্রাইবুনাল তৈরি হবে। জুডিশিয়াল অফিসারদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আবেদন ওই ট্রাইবুনাল খতিয়ে দেখবে।
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার ঘটনায় গতকাল সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল রাজ্য সরকার। এদিন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত রাজ্যের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামীকে সেই আবেদন ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বলেন। মেনকার উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, “জুডিশিয়াল অফিসারদের কোনও প্রশ্নের মুখে ফেলবেন না।” তখনই জুডিশিয়াল অফিসারদের নেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আবেদন কোথায় করা যাবে, সেই প্রশ্ন উঠে। তার পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইবুনাল গঠনের নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত। অমীমাংসিতদের নিয়ে জুডিশিয়াল অফিসারদের সিদ্ধান্তর বিরুদ্ধে আবেদন ওই ট্রাইবুনালের কাছে করতে হবে।
মেনকা গুরুস্বামীর পাশাপাশি এদিন রাজ্যের আইনজীবী ছিলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ট্রাইবুনাল গঠনের নির্দেশ নিয়ে তিনি বলেন, “যাঁদের নাম ডিলিট অথবা রিজেক্ট হয়ে যাচ্ছে, সেক্ষেত্রে ডিইও-র কাছে আবেদন করতে হয়। সিইও একটা নির্দেশ দিয়েছেন, ডিইও-র কাছে আবেদন করা যাবে না। সব আবেদন করতে হবে সিইও-র কাছে। সুপ্রিম কোর্ট বলল, আমাদের জুডিশিয়াল অফিসারদের অর্ডার ডিইও কী করে দেখবে। তাহলে ডিইও-রা যদি দেখতে না পারেন, সিইও কী করে দেখবেন? তিনিও একজন আমলা। জুডিশিয়াল অফিসারদের অর্ডার আমলারা কী করে দেখবেন? সেই জন্য সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি হাইকোর্টকে বললেন, এক বা একাধিক ট্রাইবুনাল তৈরি করতে। তাতে একজন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি থাকবেন। এবং ২ জনকে করে সিনিয়র জজ থাকবেন। যে আবেদন হবে, সেই আবেদনগুলি তাঁরা খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন।”
ট্রাইবুনাল গঠন নিয়ে রাজ্য সরকারকে তোপ দেগে রাজ্য বিজেপির সহ সভাপতি তাপস রায় বলেন, “ভারতের সব রাজ্যে এসআইআর হচ্ছে। এ কী রাজ্য, এ কাদের শাসন, কে মাথায়, সুপ্রিম কোর্টও বিরক্ত হয়ে যাচ্ছে এবং ট্রাইবুনাল গঠন করতে হচ্ছে।”
আবার প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, “বিচারকদের এত ঝামেলা সামলানোর ক্ষমতা রয়েছে বলে আমার তো মনে হয় না। বিচারকরা কোন তৎপরতায় ৬০ লক্ষ অমীমাংসিতের সব তথ্য খতিয়ে দেখে ভোট দেওয়ার অধিকার দেবে, তা আমার জানা নেই। তবে সুপ্রিম কোর্টের উপর ভরসা রাখতে হবে। কিন্তু, ভোটের আগে সব নিষ্পত্তি হবে কি না, তা নিয়ে আমার ঘোর আশঙ্কা রয়েছে।”
