কলকাতা: প্রয়াত রাজ্যের প্রাক্তন কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও জৈবপ্রযুক্তি মন্ত্রী রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায় (Rabiranjan Chattopadhyay)। তাঁর প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee)।
দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন বর্ধমান দক্ষিণের প্রাক্তন বিধায়ক (TMC MLA)। এ জন্য একুশের ভোটে নিজে থেকেই প্রার্থী হবেন না বলে জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছিলেন। সম্প্রতি অসুস্থ হয়ে কলকাতার এক হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন বলে খবর। সেই দু’ বারের বিধায়ক অধ্য়াপক রবিরঞ্জনবাবু এদিন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।
জানা গিয়েছে, প্রায় ২৫দিন ধরে কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন রবিরঞ্জনবাবু। নানা কারণে অসুস্থ ছিলেন তিনি। চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা সত্ত্বেও সুস্থ করা যায়নি তাঁকে। মঙ্গলবার মৃত্যু হয় তাঁর। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর শোকবার্তায় বলেন, “রাজ্যের প্রাক্তন কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও জৈবপ্রযুক্তি মন্ত্রী রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়ের প্রয়াণে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি। তাঁর প্রয়াণে রাজনৈতিক জগতে এক শূন্যতার সৃষ্টি হল। আমি রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়ের পরিবার-পরিজন ও অনুরাগীদের আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।”
রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি অধ্যাপক হিসাবেও তিনি পড়ুয়াদের কাছে সমাদৃত ছিলেন রবিরঞ্জনবাবু। ২০১১ সালে তাঁর প্রথম ভোট রাজনীতিতে যোগদান। তৃণমূলের প্রথম পর্বে তিনি ছিলেন কারিগরী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দফতরের মন্ত্রী।
আরও পড়ুন: WB By-Election Result 2021: বাড়ল ভোট শতাংশ, বিজেপির ভরাডুবিতে উত্থানের স্বপ্ন দেখছে বামেরা
২০১১ সালে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়কে প্রার্থী করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাতে নাকি সাহিত্য়িক মহাশ্বেতা দেবীর সুপারিশ ছিল। বর্ধমান দক্ষিণ কেন্দ্র জিতেই মন্ত্রী হয়েছিলেন তিনি। তাঁকে বর্ধমান উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যানও করা হয়েছিল। সেবার বর্ধমান দক্ষিণ কেন্দ্রে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সিপিএমের হেভিওয়েট নেতা নিরুপম সেন। তাঁকে ৩০ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নেন রবিরঞ্জন। ২০১৬ সালে ওই কেন্দ্র থেকেই তিনি ফের জেতেন। রাজ্যের কারিগরী শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, বায়ো টেকনোলজি দফতরেরও মন্ত্রিত্ব সামলান।
আরও পড়ুন: Kalyan Banerjee: ‘রাগ করিস না ভাই শুভেন্দু,’ বিরোধী নেতার কাছে আচমকা ‘ক্ষমাপ্রার্থী’ কল্যাণ!
তবে একুশের ভোটে আর লড়তে চাননি রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়ে জানিয়েছিলেন সে কথা। লিখেছিলেন, বয়স ও শারীরিক কারণে এবার আর ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেতে চাননা তিনি। এহেন রবিরঞ্জনবাবুর মৃত্যুতে শোকের ছায়া রাজনৈতিক মহলে।
আরও পড়ুন: Kalyan Banerjee: ‘গঙ্গা আমার মা, পদ্মা আমার মা…’ এবার রাজীবকে ব্যঙ্গ ‘গায়ক’ কল্যাণের
আরও পড়ুন: Municipality Election: উপনির্বাচন ৪-০ করেই পুরভোট চাইল রাজ্য, কমিশনকে চিঠি পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের