AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Fanush: এবারের কালীপুজোয় ফানুস উড়বে আকাশে, কিন্তু নজরদারির দায় কার? চরম ধোঁয়াশায় প্রশাসন

Fire Crackers: ফানুস ওড়ানোর ক্ষেত্রে একাধিক শর্ত আরোপের কথা আগেই জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রসচিব। তবে সেই শর্ত কার্যকর করা, লাইসেন্স প্রদান এবং নজরদারির দায়িত্ব কোন দফতরের হাতে থাকবে, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট ধারণা নেই। শুক্রবার পরিবেশ ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশমন্ত্রী মনোজ ওঁরাও, দফতরের প্রধান সচিব সুমিত গুপ্তা এবং রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের বোর্ড সদস্যরা।

Fanush: এবারের কালীপুজোয় ফানুস উড়বে আকাশে, কিন্তু নজরদারির দায় কার? চরম ধোঁয়াশায় প্রশাসন
ফানুস (প্রতীকী ছবি)Image Credit: Facebook
| Edited By: | Updated on: Oct 30, 2026 | 5:05 PM
Share

কলকাতা: ফানুস ওড়ানো নিয়ে ধোঁয়াশা অব্যাহত, নজরদারি ও লাইসেন্স দেওয়ার দায়িত্ব কার, স্পষ্ট নয়। বাজি ফাটানো নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজরদারির আশ্বাস পরিবেশ দফতরের। ফানুস ওড়ানোর অনুমতি কে দেবে, নজরদারির দায়িত্ব কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে এখনও কাটেনি ধোঁয়াশা।

ফানুস ওড়ানোর ক্ষেত্রে একাধিক শর্ত আরোপের কথা আগেই জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রসচিব। তবে সেই শর্ত কার্যকর করা, লাইসেন্স প্রদান এবং নজরদারির দায়িত্ব কোন দফতরের হাতে থাকবে, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট ধারণা নেই।

শুক্রবার পরিবেশ ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশমন্ত্রী মনোজ ওঁরাও, দফতরের প্রধান সচিব সুমিত গুপ্তা এবং রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের বোর্ড সদস্যরা।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে পরিবেশ দফতরের কর্তারা জানান, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ, শব্দদূষণ এবং নিষিদ্ধ বাজি ফাটানো বন্ধ করার ক্ষেত্রে নজরদারি চালাতে পারে পরিবেশ দফতর।

কিন্তু ফানুস ওড়ানোর বিষয়টি মূলত দমকল দফতরের এক্তিয়ারভুক্ত। ফানুস ওড়ানোর অনুমতি বা লাইসেন্স প্রদান থেকে শুরু করে নজরদারি এবং প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব দমকল দফতরের।

ফানুস ওড়ানো নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ দফতরের হাতে নির্দিষ্ট কোনও আইন নেই বলেও জানানো হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে পুজোর আগেই দমকল দফতরের সঙ্গে বৈঠক করে পরবর্তী পদক্ষেপ চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশমন্ত্রী।

গত বছর যে সমস্ত এলাকায় ব্যাপকভাবে নিষিদ্ধ বাজি ফাটানোর অভিযোগ উঠেছিল, সেই চিহ্নিত এলাকাগুলিতে এবার বাড়তি নজরদারি চালানো হবে। এ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন পরিবেশমন্ত্রী ও দফতরের প্রধান সচিব।

আবাসনগুলিতে বাজি ফাটানো নিয়ন্ত্রণ এবং সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগী পরিবেশ দফতর। শনিবার শহরের বিভিন্ন আবাসনের কমিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ ও পরিবেশ দফতর।

নজরদারি এবং সচেতনতা কর্মসূচিতে আবাসন কমিটিগুলির সহযোগিতা চাওয়া হবে। আবাসনগুলির ভিতরে নিষিদ্ধ বাজি ফাটানো বন্ধ করতে তাদের সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আবেদন জানানো হবে।

দীপাবলির রাতে বাজি ফাটানো নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও পরিবেশ দফতরের যৌথ নজরদারি দল তৈরি করা হবে। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে পরিস্থিতির উপর নজর রাখবে সেই বিশেষ দল।

প্রতি বছর কালীপুজোর রাতে রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের কন্ট্রোল রুমে ফোন করেও সাড়া মেলে না বলে অভিযোগ ওঠে। নিষিদ্ধ বাজি ফাটানোর অভিযোগ জানিয়েও যথাযথ ব্যবস্থা না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

অতীতে এই ধরনের গাফিলতির অভিযোগের সত্যতা কার্যত স্বীকার করে পরিবেশমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগের সরকারের আমলে যে ভুল হয়েছে, এবার তার পুনরাবৃত্তি হবে না। অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে এদিন থেকেই। পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে অনিয়মের অভিযোগ জানানো যাবে।

অভিযোগ জানানোর নম্বর, ০৩৩-২২২০২৩০৫৭, ১৮০০-৩৪৫-৩৯০

কালীপুজোর রাতে রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত বাজি ফাটানোর সময়সীমা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। একইভাবে ছটপুজোর দিন সকাল ৬টা থেকে ৮টা পর্যন্ত বাজি পোড়ানোর অনুমতি থাকবে।

এই সময়সীমার বাইরে বাজি ফাটালে, বিশেষত নির্ধারিত সময়ের আগে বা পরে নিষিদ্ধ বাজি ব্যবহার করলে, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পরিবেশ দফতর।

বাজি পোড়ানোর সময় শুধু মানুষের অসুবিধার কথা নয়, পশুপাখিদের কথাও মাথায় রাখার কথা বলা হয়েছে।

এছাড়াও এদিন সাংবাদিক বৈঠকে প্রধান সচিব বলেন, বাজি উৎপাদনকারী ইউনিটগুলির উপর নজরদারি জোরদার করা হবে। পুলিশ ও পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের মাধ্যমে অভিযোগ গ্রহণ এবং নিয়ম লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শব্দ উৎপাদনকারী বাজির ক্ষেত্রে নির্ধারিত সর্বোচ্চ শব্দসীমা ১২৫ ডেসিবেল এবং আলোক উৎপাদনকারী বাজির ক্ষেত্রে ৯০ ডেসিবেলের সীমা মেনে চলতে হবে।

এদিন বৈঠক থেকে পুলিশকে বলে দেওয়া হয়, হাসপাতাল, নার্সিংহোম ও বৃদ্ধাশ্রমের ১০০ মিটারের মধ্যে বাজি পোড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই নির্দেশটি যেন বিশেষ ভাবে দেখা হয়।

Follow Us