Tiljala Incident: বেআইনি নির্মাণের প্রতিবাদ, বাঁশ দিয়ে বেধড়ক ‘মার’ প্রৌঢ়কে, আঙুল ভাঙল ছেলের
Tiljala Father-Son allegedly beaten: তিলজলার পিকনিক গার্ডেনের বাসিন্দা কৃষ্ণগোপাল দে। সেখানেই এক আবাসনে থাকেন তিনি। শনিবার রাতের ঘটনা। আবাসনের ঢোকার গেটের মুখে মাটি খুঁড়ে বিদ্যুতের তার বসানোর কাজ চলছিল। অভিযোগ, বাড়ির সামনে বেআইনি নির্মাণের বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ দেখে প্রতিবাদ করেন কৃষ্ণগোপাল দে। তারপরই তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।

কলকাতা: বেআইনি নির্মাণ নিয়ে কড়া পদক্ষেপ করেছে রাজ্য সরকার। বিভিন্ন জায়গায় চলছে বুলডোজ়ার। কিন্তু, তারপরেও বেআইনি নির্মাণ নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠছে। শুধু তাই নয়, বেআইনি নির্মাণ (Illegal Construction) নিয়ে প্রতিবাদ করায় এবার বেধড়ক মারধর করা হল এক প্রৌঢ়কে (Old Man Beaten)। বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে আক্রান্ত হলেন ছেলেও। এমনই অভিযোগ উঠেছে তিলজলার (Tiljala Incident) পিকনিক গার্ডেনে। এই ঘটনায় আরও একবার প্রোমোটার রাজের অভিযোগ উঠে এল।
ঠিক কী ঘটেছে?
তিলজলার পিকনিক গার্ডেনের বাসিন্দা কৃষ্ণগোপাল দে। সেখানেই এক আবাসনে থাকেন তিনি। শনিবার রাতের ঘটনা। আবাসনের ঢোকার গেটের মুখে মাটি খুঁড়ে বিদ্যুতের তার বসানোর কাজ চলছিল। অভিযোগ, বাড়ির সামনে বেআইনি নির্মাণের বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ দেখে প্রতিবাদ করেন কৃষ্ণগোপাল দে। সেই সময় প্রোমোটার ও তাঁর দলবল প্রথমে ওই প্রৌঢ়কে ধাক্কা মারে বলে অভিযোগ। ধাক্কা মারার ফলে মাটিতে পড়ে যান তিনি। তারপর তাঁকে বাঁশ দিয়ে পেটানো হয় বলে অভিযোগ। সেইসময় বাবাকে বাঁচাতে ছুটে আসে ছেলে কৃষ্ণেন্দু। তিনিও আক্রান্ত হন বলে অভিযোগ।
ঘটনায় বাবা-ছেলে দু’জনেই গুরুতর আহত হন। কৃষ্ণেন্দু জানিয়েছেন, তাঁর বাবার বুকে, হাতে চোট লেগেছে। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কালসিটে, আঘাতের চিহ্ন। এদিকে, তাঁরও দু’টি আঙুল ভেঙেছে বলে জানিয়েছেন কৃষ্ণেন্দু।
আক্রান্ত বাবা-ছেলের কী অভিযোগ?
আক্রান্ত প্রৌঢ় এই বিষয়ে বলেন, “সারাজীবনই আমরা ভয়ে ভয়ে থাকি। এখন নতুন মুখ্যমন্ত্রী বলছেন ভয় আউট, ভরসা ইন। সেইকারণেই এখন বলতে সাহস পেয়েছি। অত্যাচার অনেকদিন ধরেই চলছে। আমাকে প্রমোটার বিনোদ চৌধুরী ও তার ভাই মারল। ওর সঙ্গে আরও একজন লোক ছিল। সেও মারল। আমি পড়ে গেলাম।”
কৃষ্ণেন্দু বলেন, “বেআইনি কাজকর্ম করছিল প্রোমোটার। আমার বাবা বলেছিল, কেন বেআইনি কাজ করছেন, মুখ্যমন্ত্রী নিজে বলেছেন যেখানে। এটা বলার পর বাবাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে আমাকে মার খেতে হয়। এখন হুমকি দিচ্ছে অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য। তা না হলে রাতে রাস্তাঘাটে ফিরতে পারব না।” পেশায় ইঞ্জিনিয়ার কৃষ্ণেন্দু বর্তমানে রাজ্যের একটি নামকরা বহুজাতিক সংস্থায় কর্মরত। কিন্তু, শনিবারের ঘটনার পর থেকে তিনি রীতিমতো ভয়ে রয়েছেন। প্রোমোটার যেভাবে হুমকি দিচ্ছে তাতে এ রাজ্য ছেড়ে অন্য রাজ্যে চলে যাওয়ার চিন্তাভাবনা করছেন তিনি।
ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় তিলজলা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন তাঁরা। কিন্তু প্রোমোটারের বিরুদ্ধে এখনও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। তবে, তাঁদের আশা, মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশ প্রশাসন সুবিচার করবেন। প্রোমোটারের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ করবেন।
উল্লেখ্য, এই তিলজলাতেই বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে বুলডোজ়ার চালিয়েছে রাজ্য সরকার। মূলত, তিলজলা অগ্নিকাণ্ডের পরই বিভিন্ন অবৈধ নির্মাণের বিদ্যুৎ এবং জলের লাইন কেটে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নির্দেশ মেনে চলে বুলডোজ়ার অ্যাকশনেরও। তবে, ঘটনার জল গড়ায় হাইকোর্ট পর্যন্ত। আপাতত, বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলার উপর স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে।
