Mamata sent Legal notice:ব্যক্তিগত রিপোর্ট কীভাবে প্রকাশ্যে আনা হল? পায়ের আঘাত নিয়ে নোটিস পাঠালেন মমতা
Mamata Banerjee: তাঁর জখম পায়ের মেডিক্যাল রিপোর্ট পর্যন্ত প্রকাশিত হয়। দেখানো হয় সংবাদ-মাধ্যমে। চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যক্তিগত মেডিক্যাল রিপোর্ট কীভাবে প্রকাশ্যে আনা হল? এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য ভবনকে আইনি নোটিস পাঠালেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।

কলকাতা: বিগত কয়েকদিন ধরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) জখম পা নিয়ে কম রাজনীতি হয়নি। তাঁর জখম পায়ের মেডিক্যাল রিপোর্ট পর্যন্ত প্রকাশিত হয়। দেখানো হয় সংবাদ-মাধ্যমে। চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যক্তিগত মেডিক্যাল রিপোর্ট কীভাবে প্রকাশ্যে আনা হল? এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য ভবনকে আইনি নোটিস পাঠালেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। উপভোটের আগে সাংবাদিক বৈঠক করে মমতার পায়ের আঘাত সংক্রান্ত মেডিক্যাল রিপোর্ট তুলে ধরে সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপরই এই আইনি নোটিস।
আইনি নোটিসে কী লেখা হয়েছে?
- শুধু সরকারি সংস্থার কাছে মেডিক্যাল রিপোর্ট থাকা মানেই তা প্রকাশ করা যায় না। চিঠিতে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, কোনও তদন্তকারী সংস্থা বা সরকারি কর্তৃপক্ষ আইন মেনে কোনও মেডিক্যাল নথি সংগ্রহ করলেও, তার অর্থ এই নয় যে সেই নথি সাধারণ মানুষের সামনে প্রকাশ করার অধিকার তাদের রয়েছে। অর্থাৎ, আইনসঙ্গতভাবে কোনও রিপোর্ট হাতে পাওয়া এবং সেটি প্রকাশ্যে ছড়িয়ে দেওয়া,দু’টি আলাদা বিষয়।
- আইনি চিঠিতে ভারতের সংবিধানের Article 21-এর উল্লেখ করে বলা হয়েছে। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকারের অংশ। সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন রায়ের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। মমতার আইনজীবীর বক্তব্য,ব্যক্তিগত তথ্যের মধ্যে চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ব্যক্তিগত তথ্য।
- সংশ্লিষ্ট চিঠিতে Indian Medical Council (Professional Conduct, Etiquette and Ethics) Regulations, 2002-এর উল্লেখ করে বলা হয়েছে, রোগীর চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য গোপন রাখা চিকিৎসকের দায়িত্ব। নির্দিষ্ট আইনগত অনুমতি ছাড়া সেই তথ্য প্রকাশ করা উচিত নয়।
চিঠির একটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য হল,মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হলেও তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসা তথ্যের গোপনীয়তার অধিকার রয়েছে।
সিআইডি তদন্ত নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী কী বলেছিলেন?
সাংবাদিক বৈঠক করে শুভেন্দু বলেন, “নন্দীগ্রামে আমি একটা বক্তব্যে বলেছিলাম, ২০২১ সালে পুরো নন্দীগ্রামকে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী অপমান করেছিলেন। ওঁর পা নাকি ভেঙে দেওয়া হয়েছিল।” এরপরই বাঙুর ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স, ডিপার্টমেন্ট অব রেডিও ডায়াগোনাস্টিকের ২০২১ সালের ১১ মার্চের রিপোর্ট দেখিয়ে বলেন, “নো এভিডেন্স অব ফ্র্যাকচার। আমি এটা নিয়ে বাড়তি কিছু বলছি না। সিআইডি তদন্ত করছে। নির্বাচনী বিধি উঠে গেলে এই মিথ্যে প্রচারের জন্য আমরা নতুন করে তদন্ত করবে। এটা আমি ৯ তারিখের পরে জানাব।”
“আমরা আগেই বলেছিলাম। সেই সময় বাংলার মানুষ ২০২১ সালে ওঁকেই বিশ্বাস করেছিলেন। এখন মিথ্যাটা সরে সত্যিটা প্রকাশ্যে এসেছে। তাই উনি এখন রিয়্যাক্ট করবেন, রাগ করবেন, মাথা গরম করবেন এটাই স্বাভাবিক। মমতার বৈশিষ্ট্য তাই পাঠিয়েছেন। হাসপাতাল আর স্বাস্থ্য ভবন এর জবাব দেবে।” গণতান্ত্রিক তৃণমূল নেতা শান্তনু সেন বলেন, “উনি আইন নোটিস পাঠাতে পারেন। বর্তমান মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সিআইডি তদন্ত হবে বলেছেন। আমরা তারও অপেক্ষা রয়েছে।” এখানে উল্লেখ্য, শান্তনুবাবুও মমতার পায়ের ছবি পোস্ট করেছিলেন।
