Suvendu Adhikari: এই সব বেসরকারি হাসপাতাল গরিবদের জন্য বেড দিতে বাধ্য, কারা? স্পষ্ট করে দিলেন শুভেন্দু
Free beds in private hospitals: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হয়েই রাজ্যের চিকিৎসা পরিষেবা ঢেলে সাজাতে বড়সড় ঘোষণা করেছিলেন ডাক্তার শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। বেসরকারি হাসপাতালগুলির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর তিনি জানালেন, এবার থেকে বেসরকারি হাসপাতালেও রোগীরা শয্যা পাবেন বিনামূল্যে। বৃহস্পতিবার আবারও এই বিষয়টা স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

কলকাতা: সরকারের লক্ষ্য প্রান্তিক ও গরিব মানুষের পরিষেবা। ক্ষমতায় আসার পর বিষয়টা প্রত্যেকটা মানুষদের কাছে স্পষ্ট করে দিতে চাইছে শুভেন্দু-সরকার। আর সেটা সবচেয়ে বড় পরিসর স্বাস্থ্যক্ষেত্র। কারণ বিগত সরকারে স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী হয়েই রাজ্যের চিকিৎসা পরিষেবা ঢেলে সাজাতে বড়সড় ঘোষণা করেছিলেন ডাক্তার শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। বেসরকারি হাসপাতালগুলির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর তিনি জানালেন, এবার থেকে বেসরকারি হাসপাতালেও রোগীরা শয্যা পাবেন বিনামূল্যে। বৃহস্পতিবার আবারও এই বিষয়টা স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মুখ্যমন্ত্রী আগেও একবার বলেছিলেন। এবার আবারও স্পষ্ট করলেই সরকারি জমিতে তৈরি বেসরকারি হাসপাতালগুলোর কর্তব্যের মধ্যে পড়ে গরিবদের জন্য ১৫ শতাংশ বেড দেওয়া। তারা করতে বাধ্য। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ, বিগত সরকারের ঢিলেমিতে তা হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী এদিন স্পষ্ট করে দেন, “বিগত ১৫ বছরে সরকার কোনও বেসরকারি হাসপাতালই করেনি। তার আগে যাঁরা সরকারে ছিলেন, বিধানচন্দ্র রায় থেকে জ্যোতিবাবুর সময় পর্যন্ত- জায়গা সরকার দিয়েছে। কেনা জায়গায় কিন্তু কোনও চুক্তি নেই।”
বাম আমলের কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, জায়গা সরকার দিয়েছিল ১ টাকাতে, সেই চুক্তিপত্রে পরিষ্কার লেখা ছিল, ১৫ শতাংশ বেড বিনামূল্যে গরিব মানুষকে দেবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এটা মানা হত না। আমি, স্বাস্থ্য়মন্ত্রী প্রাইভেট হাসপাতালগুলোতে বসে ১০ শতাংশ রাজি করিয়েছি। যে জমি কিনে হাসপাতাল করেছেন, তাঁর কাছে গিয়ে মানবিক কারণে দাবি করতে পারেন। কিন্তু অধিকার নয়। কিন্তু যাঁদের সরকারি জমিতে প্রাইভেট হাসপাতাল তৈরি হয়েছে, তাঁরা বাধ্য করতে।”
বেসরকারি হাসপাতালে গরিবদের বিনামূল্যে পরিষেবা দেওয়ার বিষয়টি গত আমলে ‘একেবারে শুরুতে ০ ছিল’, যেখানে ১৫ শতাংশ দেওয়ার কথা। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, “এখন অন্তত ১০ শতাংশ রাজি করানো গিয়েছে। আস্তে আস্তে মানসিকতা বাড়বে।”
পাশাপাশি নবান্ন সূত্রে আগেই জানানো হয়েছিল, বাংলার স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বড় বিনিয়োগ করতে চলেছে আদানি গ্রুপ। নিউটাউনে একটি ২০০০ শয্যাবিশিষ্ট বেসরকারি হাসপাতাল তৈরি হচ্ছে। সেখানে ১০০০ বেড গরিবদের জন্য থাকবে। সেকথা এদিনও স্পষ্ট করে দেন মুখ্যমন্ত্রী।
মূলত রাজ্যের প্রান্তিক মানুষরা তাঁদের স্বাস্থ্য পরিষেবার জন্য মূলত নির্ভরশীল সরকারি হাসপাতালগুলোতেই। কিন্তু সেক্ষেত্রে সরকারি হাসপাতালগুলোর ওপর ভয়ঙ্কর চাপ বাড়তে থাকে। নানাক্ষেত্রে চিকিৎসকদের ওপর চাপ, রোগী পরিষেবা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছিল সরকারি হাসপাতালগুলোতে। এবার রোগীর ভিড় সামলাতে বেসরকারি ও সরকারি হাসপাতালের মেলবন্ধন করতে চাইছে সরকার।
