Mukul Roy Demise: মুকুলের সঙ্গে ছবি পোস্ট প্রধানমন্ত্রীর, ‘মন শক্ত করো’, শুভ্রাংশুকে বললেন মমতা

Mukul Roy Demise: তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন মুকুল রায়। যদিও পরে আবার তৃণমূলে ফিরে আসেন তিনি। তবে বিজেপির তরফেও শোক প্রকাশ করা হয়েছে মুকুল  রায়ের মৃত্যুতে। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী লিখেছেন, "প্রবীণ রাজনীতিবিদ মুকু রায়ের প্রয়াণে অত্যন্ত দুঃখিত। ওঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা রইল। ওঁর আত্মার শান্তি কামনা করি।"

Mukul Roy Demise: মুকুলের সঙ্গে ছবি পোস্ট প্রধানমন্ত্রীর, মন শক্ত করো, শুভ্রাংশুকে বললেন মমতা
ফাইল চিত্র।Image Credit source: X

|

Feb 23, 2026 | 1:09 PM

কলকাতা: বঙ্গ রাজনীতিতে আজ শোকের ছায়া। প্রয়াত বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মুকুল রায়। গতকাল মধ্য রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। পুত্র শুভ্রাংশু রায় তাঁর প্রয়াণের খবর জানিয়েছেন। মুকুল রায়ের প্রয়াণের খবর আসতেই তৃণমূল, বিজেপি, সিপিএম- সমস্ত রাজনৈতিক দল থেকে শোকবার্তা উপচে পড়ছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সকলেই শোক প্রকাশ করেছেন।

তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠার সময় থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে ছিলেন মুকুল রায়। আজ তাঁর প্রয়াণে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় এক্স হ্য়ান্ডেলে লেখেন, “প্রবীণ রাজনীতিবিদ মুকুল রায়ের সহসা প্রয়াণের সংবাদে বিচলিত ও মর্মাহত বোধ করছি। তিনি আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী ছিলেন, বহু রাজনৈতিক সংগ্রামের সহযোদ্ধা ছিলেন। তাঁর বিদায়ের খবর আমাকে বেদনাহত করেছে।”

তিনি আরও লেখেন, “প্রয়াত মুকুল রায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা-লগ্ন থেকে দলের জন্য প্রাণপাত করেছেন। তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হয়েছিলেন, দলের সর্বস্তরে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ছিল। পরে তিনি ভিন্ন পথে যান, আবার ফিরেও আসেন। বাংলার রাজনীতিতে তাঁর অবদান এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কথা ভোলার নয়। দলমত নির্বিশেষে তাঁর অভাব অনুভব করবে রাজনৈতিক মহল। এই অভিজ্ঞ নেতা ও সহকর্মীর পরিবার ও অনুরাগীদের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা জানাই। শুভ্রাংশুকে বলব, মন শক্ত করো, এই সংকটে আমরা তোমার সঙ্গে আছি।”

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও এক্স হ্য়ান্ডেলে মুকুল রায়ের সঙ্গে ছবি পোস্ট করে লেখেন, “প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী মুকুল রায় জি’র প্রয়াণে শোকাহত। তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সমাজসেবামূলক প্রচেষ্টা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর পরিবার ও সমর্থকদের প্রতি সমবেদনা জানাই। ওঁ শান্তি।”

তৃণমূল কংগ্রেসের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও শোক প্রকাশ করেছেন। এক সময়ে মুকুল রায় এই পদে ছিলেন। স্মৃতিচারণ করে অভিষেক লিখেছেন, “মুকুল রায়ের প্রয়াণে বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের একটা অধ্যায় শেষ হয়ে গেল। প্রবীণ নেতার বিপুল অভিজ্ঞতা, তাঁর অবদান রাজ্যের নাগরিক ও রাজনৈতিক যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল। তিনি তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠাতা স্তম্ভ ছিলেন। তিনি সংগঠন গঠন ও তা বৃদ্ধির উদ্দেশে কাজ করছেন। তাঁর পরিবার, বন্ধু ও সমর্থকদের প্রতি  বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই। ওঁর আত্মার শান্তি কামনা করি।”

তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন মুকুল রায়। যদিও পরে আবার তৃণমূলে ফিরে আসেন তিনি। তবে বিজেপির তরফেও শোক প্রকাশ করা হয়েছে মুকুল  রায়ের মৃত্যুতে। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী লিখেছেন, “প্রবীণ রাজনীতিবিদ মুকু রায়ের প্রয়াণে অত্যন্ত দুঃখিত। ওঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা রইল। ওঁর আত্মার শান্তি কামনা করি।”

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা সুকান্ত অধিকারী লিখেছেন, “বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুকুল রায়ের প্রয়াণে আমি গভীরভাবে মর্মাহত। ঈশ্বরের কাছে তাঁর বিদেহী আত্মার সদগতি কামনা করি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাই।”

সিপিআইএম নেতা শতরূপ ঘোষও ফেসবুকে দীর্ঘ পোস্ট করে লিখেছেন, “প্রয়াত হয়েছেন মুকুল রায়। ওনার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা, ওনার পরিবার ও কাছের মানুষদের সমবেদনা জানাই। একটা সময় আমাদের রাজ্য-রাজনীতির উনি ছিলেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। যদিও চিরকালই ছিলেন আমাদের বিরোধী শিবিরে। আজ উনি মারা গেছেন বলে ওনার প্রতি সব সমালোচনা ভুলে ওনাকে প্রশংসায় ভরিয়ে দেওয়ার মতো দ্বিচারিতা করব না। তবে এটা ঘটনা, মানুষের ভালো খারাপ নিয়েই তার মূল্যায়ণ হওয়া উচিত। আর কোনো মানুষ যখন মারা যান, সেই দিনটায় তাঁর হাজারটা দোষ থাকলেও সেই কিছুটা সময়ের মতো সেটাকে ভুলে ভালোটাকে নিয়েই আমরা আলোচনা করি। সেটাই হওয়া উচিত। মুকুল রায়ের সঙ্গে আমাদের হাজার বিরোধ থাকলেও বাংলার রাজনীতিতে ওনার একটি অত্যন্ত ইতিবাচক কন্ট্রিবিউশন স্মরণ করতে চাই আজকের দিনে। মুকুল রায় এমন এক সৎ রাজনীতিবিদ যিনি বাংলার মানুষের কাছে অফিসিয়ালি কনফার্ম করেছিলেন, “…তৃণমূল তো বটেই, ভারতীয় জনতা পার্টি মানেই তৃণমূল।”

জানা গিয়েছে, আজ মুকুল রায়ের দেহ বিধানসভায় এনে রাখা হবে। তারপর তা বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে।