Suvendu Adhikari: ‘প্রত্যেক মাসে ৬০ হাজার টাকা স্থানীয় বিধায়কের প্রতিনিধিকে দিতেন গোডাউন মালিক’, জতুগৃহ নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য দিলেন শুভেন্দু
Suvendu Adhikari at Najirabad: নাজিরাবাদে তিন দিন পর জারি করা হয়েছে ১৬৩ ধারা। আর এদিন যাওয়ার কথা ছিল শুভেন্দু অধিকারীর। কিন্তু নরেন্দ্রপুর থানা তাঁকে অনুমতি দেয়নি। তাহলে কি বিরোধী দলনেতা যাবেন বলেই আগে থেকে জারি করা হল ১৬৩ ধারা? খোদ এই প্রশ্ন তোলেন শুভেন্দু নিজেই।

কলকাতা: আনন্দপুরের ‘জতুগৃহ’ ওই গোডাউন প্রতি মাসে দেড় লক্ষ টাকায় ভাড়া দেওয়া হত। আর ভাড়ার টাকার থেকে ৬০ হাজার টাকা যেত স্থানীয় বিধায়কের কাছে। বুধবার আদালত থেকে অনুমতি নিয়ে নাজিরাবাদ যাওয়ার আগে বিস্ফোরক দাবি করলেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “কলকাতার এক এক জায়গায় জতুগৃহ তৈরি হয়েছে, এগুলোর জন্য স্থানীয় থানা ও স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব দায়ী। গোডাউনটা দেড় লক্ষ টাকায় ভাড়া দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে ৬০ হাজার টাকা, স্থানীয় বিধায়কের প্রতিনিধির হাতে মালিক দিয়ে দেন। লাইসেন্স নেই, অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থাও নেই। সরকার নিরুত্তাপ।” এক্ষেত্রে উল্লেখ্য, নাজিরাবাদে যে গোডাউনে আগুন লেগেছে সেটি আনন্দপুরের একদম কাছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ‘সোনারপুর উত্তর’ বিধানসভা কেন্দ্রের আওতায় পড়ে, বিধায়ক ফিরদৌসি বেগম। ঘটনার পর পরিদর্শনে গিয়েছিলেন বিধায়ক, তবে শুভেন্দুর এই দাবি নিয়ে তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
ইতিমধ্যেই গোডাউনের মালিক গঙ্গাধর দাসকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ উঠেছে, ৩৫ হাজার বর্গফুটের ওপর ওই গোডাউন জলাভূমি বুজিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। গোডাউনে ছিল না কোনও অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থাও। ফরেন্সিক রিপোর্টেও স্পষ্ট হয়েছে, আগুন লাগে গোডাউনের পাশের তিন তলা বিল্ডিংয়ে। গোডাউনে যে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না, তা স্বীকার করেছে দমকলের ডিজি, খোদ দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুও। কেন ফায়ার অডিট হয়নি, তা নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
ওই রাতে সেখান থেকে পর পর দুটি গুদামে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ভিতরে আটকে পড়েন অন্ততপক্ষে ৪০ জন। বুধবার বেলা পর্যন্ত ভিতর থেকে তিনটি পোড়া শরীর-সহ ১৯ টি দেহাংশ উদ্ধার হয়েছে। দুটো বস্তায় ভরে সেসব গিয়েছে কাটাপুকুর মর্গে। এখনও নিখোঁজ অন্ততপক্ষে ২০! এই নিয়ে শুভেন্দু বলেন, “আমাদের ধারণা, ৩৫-৪০ জনের মতো মৃতের সংখ্যা হতে পারে।” ঘটনার চার দিন হতে চলেছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেখানে যাননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কেন তিনি যাননি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শুভেন্দু। ভোটব্যাঙ্কের তত্ত্বও খাড়া করেছেন। তাঁর কথায়,”অধিকাংশই মেদিনীপুরের লোক, আমরা যতটা পেরেছি পাশে থাকার চেষ্টা করছি। ক্রেডিট নিতে চাই না, দুর্ভাগ্য এটাই, এটা মুখ্য়মন্ত্রীর ভোটব্যাঙ্ক নয় বলে, রাজধর্ম পালন করেননি। মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি এখান থেকে ১০ কিমি দূরে। ওনার আসা উচিত ছিল।” উল্লেখ্য, ঘটনার তিন দিন পরও মুখ্যমন্ত্রী ঘটনাস্থলে না গেলেও সিঙ্গুরের সভা থেকে আনন্দপুর নিয়ে মুখ খুলেছেন। মৃতদের পরিবারকে ১০লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ ও পরিবারের ১ জনকে সিভিকে চাকরি দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
নাজিরাবাদে তিন দিন পর জারি করা হয়েছে ১৬৩ ধারা। আর এদিন যাওয়ার কথা ছিল শুভেন্দু অধিকারীর। কিন্তু নরেন্দ্রপুর থানা তাঁকে অনুমতি দেয়নি। তাহলে কি বিরোধী দলনেতা যাবেন বলেই আগে থেকে জারি করা হল ১৬৩ ধারা? খোদ এই প্রশ্ন তোলেন শুভেন্দু নিজেই। তিনি বলেন, “ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, সুজিত বসুরা এসেছে, কাউকে বাধা দেয়নি। আমি আসার আগেই ১৬৩ ধারা করে দেওয়া হল। আমাদের আটকানোর জন্য। পুলিশকে চালানো হচ্ছে।” হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন শুভেন্দু। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ তাঁকে নরেন্দ্রপুর যাওয়ার অনুমতি দেন। কোন পথে মিছিল হবে, সেই রুটও নির্ধারিত করে দেওয়া হয়। শুভেন্দু জানান, অকুস্থলের ১০০ মিটার দূর থেকে পরিস্থিতি দেখার চেষ্টা করবেন তাঁরা। হাইকোর্টের নির্দেশিত পথে আমাদের মিছিল হবে। ১২টার সময়ে মিছিল শুরু হবে। থানা থেকে ২০০ মিটার দূরে মিছিল পৌঁছবে, সেখানে প্রতিবাদ সভা হবে।
