AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Gujrati Controversy: ভবানীপুরে গুজরাটি ভোটার কত? কোন ওয়ার্ডে প্রভাব বেশি?

Mahua Moitra: দলেরই দফতরে বসে, সাংবাদিক বৈঠকে দলের সাংসদ এমন কথা বলে ফেলেছেন, যাতে ক্ষমা চাইতে হয়েছে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। যে ভবানীপুর এবার দু'পক্ষের কাছেই পাখির চোখ, সেই ভবানীপুরে সুপ্রিমোকেই বিপাকে ফেলে দিলেন সাংসদ মহুয়া মৈত্র! 'গুজরাটি বিতর্ক' দানা বাঁধতেই আসরে নেমেছেন ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। গুজরাটি ভাষায় এক্স মাধ্যমে একটি পোস্ট করেছেন তিনি।

Gujrati Controversy: ভবানীপুরে গুজরাটি ভোটার কত? কোন ওয়ার্ডে প্রভাব বেশি?
প্রতীকী ছবিImage Credit: TV9 Bangla
| Updated on: Apr 01, 2026 | 10:46 PM
Share

কলকাতা: ‘বাঙালি অস্মিতা’ যখন ভোটের অন্যতম ‘ইস্যু’, তারই মধ্যে সামনে এল ‘গুজরাটি-বিতর্ক’। খাস কলকাতায় গুজরাটি-আবেগকে অস্ত্র করে ফেললেন বিরোধীরা। বুধবার সন্ধ্যায় যেভাবে গুজরাটি ভাষায় পোস্ট করেছেন শুভেন্দু অধিকারী, তাতেই স্পষ্ট, এই বিতর্ক শাসক দলের অস্বস্তি ক্রমশ বাড়াচ্ছে।

দলেরই দফতরে বসে, সাংবাদিক বৈঠকে দলের সাংসদ এমন কথা বলে ফেলেছেন, যাতে ক্ষমা চাইতে হয়েছে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। যে ভবানীপুর এবার দু’পক্ষের কাছেই পাখির চোখ, সেই ভবানীপুরে সুপ্রিমোকেই বিপাকে ফেলে দিলেন সাংসদ মহুয়া মৈত্র! ‘গুজরাটি বিতর্ক’ দানা বাঁধতেই আসরে নেমেছেন ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। গুজরাটি ভাষায় এক্স মাধ্যমে একটি পোস্ট করেছেন তিনি।

মহুয়া বলেছেন, “ইংরেজদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার লড়াইয়ে বাঙালিরা নেতৃত্ব দিয়েছেন। গুজরাটি কজন ছিলেন? আপনি যখন কালাপানিতে যাবেন, কাদের নাম দেখতে পাবেন? আপনাদের বড় হিরো বীর সাভারকার ছাড়া একজন গুজরাটির নাম বলতে পারবেন, যিনি ওখানে ছিলেন? আর বীর সাভারকার ক্ষমা চেয়ে চিঠি লিখেছিলেন।” তাঁর এই মন্তব্যের পরই তড়িঘড়ি ক্ষমা চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় দলের সাংসদের মন্তব্যের নিন্দা করে গুজরাটিদের বার্তা দেন তৃণমূল কাউন্সিলর অসীম বসু। তিনি মমতার দেওয়া একটি চিঠি পড়ে শোনান, যাতে লেখা, “আমার গুজরাটি ভাই ও বোনেদের কাছে আমি ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চাইছি। আমি আপনাদের জন্য গর্বিত। সংশ্লিষ্ট সাংসদের সঙ্গে এই নিয়ে কথা বলা হয়েছে। আমরা এই মন্তব্যকে অনুমোদন করছি না। এইরকম দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যের জন্য আমি ক্ষমা চাইছি।”

এই বিতর্ক নিয়ে বুধবার শুভেন্দু এক্স মাধ্যমে গুজরাটি ভাষায় লিখেছেন, “সম্প্রদায়ের মধ্যে পরিকল্পিত বিভাজন সৃষ্টি করা ও ঘৃণা ছড়ানোই তৃণমূলের সংস্কৃতি। মহুয়া মৈত্র শুধু গুজরাটি সমাজকেই অপমান করেননি। ভারতের আত্মাকেও অপমান করেছেন। স্বাধীনতা সংগ্রামে গুজরাতিদের অবদান নিয়ে প্রশ্ন তোলা শুধু একটি রাজ্য বা সম্প্রদায়ের অপমান নয়। এটি মহাত্মা গান্ধী ও লৌহ মানব সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের ঐতিহ্যের ওপর আঘাত।” তিনি আরও লিখেছেন, “আমি ভবানীপুরে বসবাসকারী গুজরাটি সমাজের সম্মানিত সদস্যদের কাছে বলতে চাই, তৃণমূলের এই অপমানজনক মনোভাবকে সহজ করে দেখা উচিত নয়। আমি আশ্বস্ত করতে চাই, বাঙালিরা মারোওয়ারি, বিহারি বা পাঞ্জাবি সবাইকে আপন মনে করেন। দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য কখনও সেই অনুভূতিকে বদলাতে পারবে না।”

কিন্তু কেন গুজরাটি ইস্যুতে কেন দু’পক্ষের এত তৎপরতা? বিশ্লেষকরা মনে করেন, ভবানীপুর কেন্দ্রের জনবিন্যাসই এর অন্যতম কারণ। এই কেন্দ্রে বহু সম্প্রদায় ও ভাষাভাষির মানুষের বসবাস।

ভবানীপুরে রয়েছে বাঙালি হিন্দু, অবাঙালি হিন্দু, মুসলিম, শিখ, জৈন সম্প্রদায়ের মানুষের বাস। পরিসংখ্যান বলছে, এই কেন্দ্রে ৪২ শতাংশ বাঙালি হিন্দু ভোটার, ৩৪ শতাংশ অবাঙালি হিন্দু ভোটার ও ২০ শতাংশ মুসলিম ভোটার রয়েছে। এর মধ্যে ৭০ ও ৭১ নম্বর ওয়ার্ডে ৪০ শতাংশ ভোটারই গুজরাটি। ২০২৪-এর লোকসভা ভোটের ওয়ার্ড ভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, ৭০ নম্বর ওয়ার্ডে ৩ হাজার ৮৬৫ ভোটে এগিয়েছিল বিজেপি, ৭১ নম্বর ওয়ার্ডে ১ হাজার ভোটে এগিয়েছিল বিজেপি।

Follow Us