Firhad Hakim: শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত… সাম্প্রদায়িকতাকে আমি প্রশ্রয় দেব না: ফিরহাদ
Firhad Hakim: তাঁর বক্তব্য শেষ হওয়ার পর আবার অধিবেশন কক্ষে ফিরে আসেন বিজেপি বিধায়কেরা। এই নিয়ে তুমুল হইচই শুরু করে দেন তৃণমূলের বিধায়করা। একসময় তা রীতিমতো বচসার পর্যায়ে পৌঁছে যায়। এরপর আবার শুরু হয় মেনশন পর্ব। সূত্রের খবর, এদিন মোট তিনবার এই ঘটনা ঘটে।

কলকাতা: ফিরহাদ হাকিমকে বয়কট বিজেপির। এবারের অধিবেশনের শুরুতেই ফিরহাদ হাকিমের কিছু মন্তব্য নিয়েবিধানসভায় মুলতবি প্রস্তাব এনেছিল বিজেপি। স্পিকার সেই প্রস্তাব খারিজ করে দেন। কোনও ব্যক্তি বাইরে কী মন্তব্য করছেন তা নিয়ে বিধানসভার অভ্যন্তরে আলোচনা হতে পারে না এটাই ছিল স্পিকারের বক্তব্য। এরপর বিজেপি পরিষদীয় দল সিদ্ধান্ত নেয় যে হাকিমের বক্তব্য বয়কট করবেন তাঁরা। তাঁকে কোনও প্রশ্ন করা হবে না এবং তাঁর উত্তরও শোনা হবে না। বুধবার ফের একটি প্রশ্নের উত্তরে ফিরহাদ হাকিম জবাব রাখতে উঠলেই স্লোগান দিতে দিতে বেরিয়ে যান বিজেপির বিধায়করা।
তাঁর বক্তব্য শেষ হওয়ার পর আবার অধিবেশন কক্ষে ফিরে আসেন বিজেপি বিধায়কেরা। এই নিয়ে তুমুল হইচই শুরু করে দেন তৃণমূলের বিধায়করা। একসময় তা রীতিমতো বচসার পর্যায়ে পৌঁছে যায়। এরপর আবার শুরু হয় মেনশন পর্ব। সূত্রের খবর, এদিন মোট তিনবার এই ঘটনা ঘটে। তবে শেষে ফিরহাদ যখন বলছিলেন, সেই সময় কিছুটা শুনে বেরিয়ে যান শঙ্কররা।
তারপর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় পরিস্থিতি। আবারও একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে ফিরহাদ হাকিম উঠে দাঁড়াতেই স্লোগান দিতে দিতে বেরিয়ে যান বিজেপির বিধায়কেরা। তুমুল প্রতিবাদও জানান। এর কিছু সময় পর ফের বিধানসভার ভিতরে বিজেপি বিধায়কেরা ফিরে আসেন। স্পিকার বলেন, এই ধরনের আচরণ বিধানসভার গরিমা নষ্ট করছে। সাফ বলেন, এটা একেবারেই শোভনীয় নয়। এই সিদ্ধান্ত আপনাদের ভেবে দেখা উচিত।
পাল্টা বিরোধী মুখ্য সচেতক শঙ্কর ঘোষ বলেন, “এটা আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত। আমাদের দাবি, উনি ওনার মন্তব্য প্রত্যাহার করুন। আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করব।” এরপর ফের বলতে ওঠেন ফিরহাদ। তিনি বলেন, “দলীয় সভায় কে কী মন্তব্য করছেন অথবা ধর্মীয় সভায় গিয়ে কে কী বক্তব্য রাখছেন সেটা বিধানসভার বিচার্য বিষয় হতে পারে না। ধর্মীয় সভায় কোন মন্তব্য নিয়ে বিধানসভায় আলোচনা হওয়ার কোন অবকাশ নেই।”
এরইমধ্যে আবার প্রতিবাদ জানাতে থাকেন বিজেপির বিধায়করা। এবার একেবারেই ওয়াক আউট করে বেরিয়ে যান তারা। যদিও ফিরহাদ বলেন, “আমি যতদিন বেঁচে থাকব একজন ধর্মনিরপেক্ষ মানুষ হিসাবেই বাঁচবে। আমার ধর্মনিরপেক্ষতা কারোর কাছে প্রমাণ করতে হবে না। বাংলার মানুষ জানে আমি কতটা ধর্মনিরপেক্ষ।” বিজেপির পক্ষ থেকে পাল্টা অভিযোগ করে বলা হয়, তিনি যা বলছেন তার সঙ্গে ফিরহাদের কাজের কোনও মিল নেই। যতদিন পর্যন্ত না উনি ওনার মন্তব্য প্রত্যাহার করছে ততদিন পর্যন্ত এই বয়কট চলবে। বিধানসভার অধিবেশনে কোনও মন্ত্রীকে টানা এইভাবে বয়কটের ঘটনা নিঃসন্দেহে যে নজিরবিহীন তা বলার অপেক্ষা রাখে না। যদিও পুরনো মেজাজেই ফিরহাদ এখনও বলছেন, “আমার প্রাণ যতক্ষণ আছে ততক্ষণ কোন সাম্প্রদায়িকতাকে আমি প্রশ্রয় দেব না। জীবনের শেষ দিন শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত আমি ধর্মনিরপেক্ষতার রাস্তায় থাকব। ধর্মনিরপেক্ষতার রাস্তা ছাড়ছি না ছাড়ব না। আমি ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থান থেকে সরছি না সরব না। আমার ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন করার অধিকার কারও নেই।”
