Gede-Petrapole: ট্রেনের তলায় লুকিয়ে কেউ সীমান্ত পার হচ্ছে না তো? গেদে-পেট্রাপোলে বসছে অত্যাধুনিক ক্যামেরা
Indian Railways: রেল সূত্রে খবর, ভবিষ্যতে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যাত্রী রেল পরিষেবা ফের চালু হলে এই প্রযুক্তি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সীমান্ত পেরিয়ে চলাচলকারী ট্রেনগুলিতে বাড়তি নিরাপত্তার স্তর তৈরি করতে পারে আন্ডার-ফ্রেম ক্যামেরা।

কলকাতা: সীমান্তের রেলপথে এবার প্রযুক্তি দিয়ে কড়া নজরদারি। বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া গুরুত্বপূর্ণ রেলপথের নিরাপত্তা জোরদার করতে নদিয়ার গেদে এবং উত্তর ২৪ পরগনার পেট্রাপোল স্টেশন সংলগ্ন রেললাইনে বসানো হল অত্যাধুনিক আন্ডার-ফ্রেম ক্যামেরা। রেললাইনের মাঝখানে বসানো এই বিশেষ ক্যামেরার নজর রাখা হবে সরাসরি ট্রেনের নিচের অংশে।
কী কাজে লাগবে আন্ডার-ফ্রেম ক্যামেরা?
আরপিএফ (RPF) সূত্রে জানা গিয়েছে, সীমান্ত পেরিয়ে ট্রেনের সঙ্গে কেউ লুকিয়ে প্রবেশ করছে কি না, ট্রেনের নিচে কোনও সন্দেহজনক বস্তু রয়েছে কি না কিংবা কোনও অস্বাভাবিকতা দেখা যাচ্ছে কি না- সেই সমস্ত বিষয়েই নজরদারি চালানো হবে এই ক্যামেরার মাধ্যমে।
পূর্ব রেলের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক রেলপথগুলির মধ্যে অন্যতম গেদে এবং পেট্রাপোল রুট। এতদিন এই রেলপথে ট্রেনের ভিতর এবং আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তার নজরদারি চললেও, এবার নজর পৌঁছে গেল ট্রেনের নিচেও।
কীভাবে কাজ করবে ক্যামেরা?
এই আন্ডার-ফ্রেম ক্যামেরাগুলি রেললাইনের মাঝখানে এমনভাবে বসানো হয়েছে, যাতে ক্যামেরার মুখ উপরের দিকে থাকে। ফলে কোনও ট্রেন যখন ক্যামেরার উপর দিয়ে যাবে, তখন তার নিচের অংশের ছবি ও ফুটেজ সরাসরি ক্যামেরায় ধরা পড়বে। শুধু দিনের আলোতেই নয়, নাইট ভিশন প্রযুক্তির সাহায্যে কম আলোতেও নজরদারি চালানো সম্ভব হবে।
পূর্ব রেলের আইজি তথা প্রিন্সিপাল চিফ সিকিউরিটি কমিশনার অনিল শর্মা জানান, সীমান্তের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতেই এই প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে।
বিশেষ করে সীমান্ত পেরিয়ে আসা পণ্যবাহী ট্রেনের ক্ষেত্রে এই নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে আরপিএফ। ট্রেনের বগির তলায় লুকিয়ে কেউ সীমান্ত পার করছে কি না, কিংবা আন্ডার-ফ্রেমে কোনও সন্দেহজনক বস্তু রয়েছে কি না—তা দ্রুত চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে এই ক্যামেরা সাহায্য করতে পারে।
শিয়ালদহ ডিভিশনের ডিআরএম রাজীব সাক্সেনার কথাতেও উঠে এসেছে এই প্রযুক্তির বহুমুখী ব্যবহারের বিষয়টি। নিরাপত্তার পাশাপাশি ট্রেনের নিচের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশেও নজর রাখা যাবে। কোনও দৃশ্যমান ত্রুটি ধরা পড়লে দ্রুত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
রেল সূত্রে খবর, ভবিষ্যতে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যাত্রী রেল পরিষেবা ফের চালু হলে এই প্রযুক্তি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সীমান্ত পেরিয়ে চলাচলকারী ট্রেনগুলিতে বাড়তি নিরাপত্তার স্তর তৈরি করতে পারে আন্ডার-ফ্রেম ক্যামেরা।
অর্থাৎ, সীমান্তের রেলপথে এখন শুধু ট্রেনের ভিতর বা চারপাশ নয়, ট্রেনের নিচেও থাকবে নজরদারি। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে রেল ও আরপিএফ।
