Madan Mitra News: ‘রাস্তায় দেখা হবে মমতার সঙ্গে’, আর তৃণমূলের বিধায়ক নন মদন, ব্যাখ্যা দিলেন নিজেই
Madan Mitra Latest news: এ দিন ঋত শিবিরে যাওয়ার পর অন্য়ান্য় সকল বিধায়কদের মতো মদনও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন। যদিও, এতদিন তিনি অভিষেককে নিয়ে একটি রা-ও কাটেননি। তবে যেই না ঋত শিবিরের হাত ধরলেন, সঙ্গে-সঙ্গে তিনি বলতে শুরু করলেন, "অভিষেকর জন্য গোটা দল ধ্বংস হয়েছে। সবাই মরে যাক, শুধু অভিষেক বেঁচে থাকুন দলে এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছিল। এটা দুঃখজনক। হাত জোড় করে অনুরোধ, এটা ম্যারাথন।"

কলকাতা: কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র (Madan Mitra) হাবভাব নিয়ে মঙ্গলবার রাতেই প্রশ্ন উঠেছিল। আচমকা গতকাল রাতে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের অপর সদস্য সন্দীপন সাহার বাবা স্বর্ণকমল সাহার সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন তিনি। তখন থেকেই প্রশ্ন উঠছিল তবে এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছাড়ছেন কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক? তবে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হল না, বুধবারই সব জল্পনায় জল ঢাললেন তৃণমূল বিধায়ক। দেখা গেল বিধানসভায় ঋতব্রত শিবিরের ঘরে তিনি। আখরুজ্জামানের সঙ্গে বৈঠক করছেন। শুধু তাই নয়, একই সঙ্গে কালীঘাট তৃণমূলের সব পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন তিনি। তারপরই বললেন, “আমি এখন বাংলার বিধায়ক।”
এ দিন ঋত-তৃণমূল শিবিরে যোগ দেওয়ার আগে মদন মিত্র টিভি ৯ বাংলাকে বলেছিলেন, “আমি স্বর্ণদাকে খুব সম্মান করি। আমি ওইখান থেকে আসছিলাম, তখন বলল স্বর্ণদা বিরিয়ানি খাওয়াব। স্বর্ণদা বিরিয়ানি খেতে ডেকেছে তাই গিয়েছি।” এরপর মদন প্রায় ঘুরিয়ে বোঝাতে চান তৃণমূল ভাগাভাগি হয়নি। বলেন, “এটা তো এমন নয় এই আড়ি এই ভাব। আমরা কেউ কারও সঙ্গে দেখা করতে পারব না? স্বর্ণদার সঙ্গে এতদিনের পরিচয়। আমি কি যেতে পারব না?” এই সব কথা বলে এরপর দেখা গেল মদন গাড়িতে উঠে সোজা হাজির হলেন বিক্ষুব্ধ শিবিরে। এখানে উল্লেখ করতেই হয়, মঙ্গলবার
মঙ্গলবার পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মদনের স্ত্রী ও দুই পুত্রকে তলব করেছে ইডি। তারপর সন্ধেতেই স্বর্ণকমলের বাড়িতে হাজির হন মমতার অন্যতম ভরসার সঙ্গী মদন। প্রসঙ্গত, পালা বদলের পর তৃণমূল শিবির যখন আড়াআড়ি দুইভাগে ভাগ হয়ে যায়, সেই সময় সুপ্রিমো মমতার হাত ছেড়ে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দিতে শুরু করেন একে একে সকলে। এমনকী, দীর্ঘদিন যাঁরা মমতার লড়াইয়ের সাক্ষী ছিলেন, মমতা যাঁদের উপর ভরসা করতেন সেই ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অরূপ বিশ্বাস, অনুব্রত মণ্ডলদের মতো নেতারা তাঁর হাত ছাড়েন। কিন্তু মদন সরেননি। শুধু সরেননি বলা ভুল, রীতিমতো ঋতব্রতকে তীক্ষ্ণ ভাষায় আক্রমণ করেছেন।
এ দিন ঋত শিবিরে যাওয়ার পর অন্য়ান্য় সকল বিধায়কদের মতো মদনও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন। যদিও, এতদিন তিনি অভিষেককে নিয়ে একটি রা-ও কাটেননি। তবে যেই না ঋত শিবিরের হাত ধরলেন, সঙ্গে-সঙ্গে তিনি বলতে শুরু করলেন, “অভিষেকর জন্য গোটা দল ধ্বংস হয়েছে। সবাই মরে যাক, শুধু অভিষেক বেঁচে থাকুন দলে এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছিল। এটা দুঃখজনক। হাত জোড় করে অনুরোধ, এটা ম্যারাথন। যেতে যেতে রাস্তায় তো দেখা হবেই। দেখা যাক কোন ঘোড়া আগে বেরিয়ে যায়। শুধু আমার বাবার দেওয়া মদন মিত্র নাম, পড়াশোনা আর MLA পদ বাদে সব ছেড়ে দিয়েছি। যে পদ দেওয়া হয়েছিল সেটা কলাপাতায় লিখে দেওয়া হত। আমি সব ছাড়লাম। আমি তৃণমূলের MLA তবে আমি বাংলার বিধায়ক।” অর্থাৎ ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে মদন কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন মমতার তৃণমূলের দিকে।
