Left-ISF Alliance: প্রার্থী সরাতে হল সিপিএম-কে, আলিমুদ্দিনে কতটা জোর খাটল নওশাদের?
CPIM-ISF: সবথেকে বড় দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল যে নাম ঘিরে, সেটা হল আরাবুল ইসলাম। একসময় ভাঙড় এলাকায় বামেদের ত্রাস ছিলেন আরাবুল। বামকর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে আরাবুলের বিরুদ্ধে। সেই আরাবুল তৃণমূল ছেড়ে আইএসএফে যোগ দেওয়া পর্যন্ত ঠিক ছিল, তাই বলে ক্যানিং পূর্ব থেকে তাঁকে প্রার্থী করায় তীব্র আপত্তি ছিল সিপিএমের। ফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুও বোঝানোর চেষ্টা করেছেন যে দীর্ঘদিনের শরিকদের সঙ্গেই থাকবেন তাঁরা।

কলকাতা: ঠিক পাঁচ বছর আগে এমন একটা সময় বামেদের ব্রিগেড মঞ্চে দেখা গিয়েছিল পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকীকে। তাঁকে নিয়ে বিস্তর বিতর্ক-আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু নওশাদ সিদ্দিকীকে বাংলার মানুষ চিনতেনও না। আলোচনা তো দূরের কথা। সেই নওশাদ আজ পোড় খাওয়া বাম নেতাদের চোখে চোখ রেখে কথা বলেন। ঠোঁটের কোনে হাসি নিয়ে বলেন, ‘এটাই রাজনীতি।’
২০২১ থেকে ২০২৬। ছবিটা বদলেছে অনেকটাই। আলিমুদ্দিনে গিয়ে নিজের দর বুঝিয়ে দিয়েছেন নওশাদ। শেষ পর্যন্ত কত আসনে রফা হল, আপত্তি জানিয়েও পিছু হটল সিপিএম?
সেদিন ব্রিগেডের মঞ্চে আব্বাস উঠতেই হইহই রব উঠেছিল। কিছুটা বিরক্ত হয়েই মাঝপথে বক্তব্য থামিয়ে দিয়েছিলেন তৎকালীন জোট শরিক কংগ্রেসের অধীর চৌধুরী। আইএসএফের মতো দল, তাদের আদর্শ নিয়ে ছুৎমার্গ ছিল অনেক নেতারই। একুশের ফল প্রকাশের পর দেখা গেল, সংযুক্ত মোর্চার দলগুলির মধ্যে একমাত্র আইএসএফ-ই একটি আসন পেল। জোটের একমাত্র বিধায়ক হলেন নওশাদ সিদ্দিকী। পাঁচ বছর পেরিয়ে শুধু বিধায়ক নন, রীতিমতো ভোটের ফ্য়াক্টর হয়ে উঠেছেন সেই নওশাদ বা আইএসএফ।
এবার ভোট ঘোষণার অনেক আগে থেকেই আসন নিয়ে আলোচনা চলছে। শূন্যে থাকা সিপিএম হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বৈঠক করায় মহম্মদ সেলিমকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল। কিন্তু আইএসএফ-কে অনেকটা মেনেই নিয়েছে বামেরা। পাঁচ বছর বয়সী দলও অনেকটা আত্মবিশ্বাসী এবার। দফায় দফায় বিমান বসুর সঙ্গে আলোচনা হয় তাঁদের। তবে শুরু থেকেই নওশাদ বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁরা নিজেদের অবস্থাব থেকে সরবেন না। এরপর থেকে বাম ও আইএসএফের জোট সমীকরণ আলোচনায় উঠে আসে।
আইএসএফ এবার মোট ৩০টি আসনে লড়াই করছে। আগে ৪৪টি আসনে লড়ার কথা বলেছিলেন নওশাদ। পরে আলোচনা হতে হতে তা নেমে আসে ৩০টিতে। মোট ৩১টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল আইএসএফ। তবে, মুরারই আসনে বামেরা সিপিএম প্রার্থীকেই সমর্থন করবে বলে সূত্রের খবর। এর জন্য বামেদেরও অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। সহযোগী আইএসএফ নাকি শরিক দল, কাদের সন্তুষ্ট করবে, তা বুঝে উঠতেও বেগ পেতে হয়েছে বামেদের। শেষ পর্যন্ত কী দাঁড়াল?
পাঁশকুড়া পশ্চিম বিধানসভার কথাই বলি। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সম্পাদক নিরঞ্জন সিহির নাম প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়ে গিয়েছিল। দেওয়াল লিখন , পতাকা বাধা এবং ব্যানার টাঙানোও হয়েছিল। বুধবার রাতে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা বামফ্রন্টের কাছে বার্তা পৌঁছয় নিরঞ্জন সিহি কে প্রার্থী পদ প্রত্যাহার করতে হবে। কারণ ওই কেন্দ্রে লড়ছেন আইএসএফ প্রার্থী আফজাল শা।
তবে সবথেকে বড় দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল যে নাম ঘিরে, সেটা হল আরাবুল ইসলাম। একসময় ভাঙড় এলাকায় বামেদের ত্রাস ছিলেন আরাবুল। বামকর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে আরাবুলের বিরুদ্ধে। সেই আরাবুল তৃণমূল ছেড়ে আইএসএফে যোগ দেওয়া পর্যন্ত ঠিক ছিল, তাই বলে ক্যানিং পূর্ব থেকে তাঁকে প্রার্থী করায় তীব্র আপত্তি ছিল সিপিএমের। ফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুও বোঝানোর চেষ্টা করেছেন যে দীর্ঘদিনের শরিকদের সঙ্গেই থাকবেন তাঁরা। আর তাছাড়া সেই আরাবুলের হয়ে প্রচার করাটা সিপিএম তথা বামফ্রন্টের জন্য মোটেই খুব একটা স্বস্তির নয়। কিন্তু মাত্র পাঁচ বছরের বিধায়ক নওশাদ সাফ বলেছেন, দলের অভ্যন্তরের নীতি, অন্য কোনও দল ঠিক করে দেবে না। ফলে রয়েই গেলেন আরাবুল। যা দেখে বাঁকা হাসি হাসছে তৃণমূলও।
এমনকী নন্দিগ্রামের মতো হাই প্রোফাইল কেন্দ্রে সিপিআই প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হলেও শেষ পর্যন্ত আইএসএফের দাবিই মান্যতা পেতে চলেছে। বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর মুখেও শোনা যাচ্ছে আইএসএফের নাম। তিনি বলছেন, সংখ্যালঘু বুথগুলিতে তৃণমূলের থেকে বেশি ভোট পাবে আইএসএফ।
সব মিলিয়ে এবার সিপিএম ১৯৫, ফব ২৩, সিপিআই ও আরএসপি ১৬টি করে আসনে লড়ছে। তবে জটিলতা রয়েই গিয়েছে। বাসন্তীতে আইএসএফ প্রার্থী থাকলেও আরএসপি আর মধ্যমগ্রামে ফব প্রার্থীকে সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছিলেন বিমান বসু। পরে বামেরা ওই দুই কেন্দ্রে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। ফলে ক্ষুব্ধ আরএসপি বাসন্তীতে তাদের প্রার্থী দিয়েছে। মধ্যমগ্রামেও প্রার্থী দিয়েছে ফব। অর্থাৎ সবদিক সামলেও অসন্তোষ মেটাতে পারছে না বামফ্রন্ট।
তৃণমূল মনে করে আইএসএফ আসলে ভোট ভাগ করে বিরোধীদের সুবিধা করে দেবে, আবার বিজেপি মনে করে, তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাবে নওশাদরা। কিন্তু নওশাদ বলছেন,আমাদের কাছে মানুষই ফ্যাক্টর।
গত নির্বাচনে ৩৩টি আসনে লড়েছিল আইএসএফ। এবার আসন সংখ্যায় খুব একটা হেরফের হচ্ছে না। তবে রাজনৈতিকভাবে ভোটের ফলাফলে আইএসএফের প্রভাব কতটা জোরাল হবে, তার জন্য ৪ মে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
