LPG বুকিংয়ের সময়সীমায় আবার বদল, এখন কতদিন বাদে রান্নার গ্যাস বুক করতে পারবেন?
LPG Cylinder Shortage: অনেকেই বলছেন, এই সময়ের মধ্যে গ্যাস ফুরিয়ে গেলে কী হবে? যাদের বড় পরিবার, তাদের তো সমস্যা হবেই। পুরো পরিবারের জন্য রান্না করতে গেলে ২৬ বা ২৮ দিন চলে। যাদের বাড়িতে ১০-১২ জন সদস্য, তাদের তো এক মাস গ্যাস চলে না, তারা কী করবেন?

সোমা দাস ও রঞ্জিৎ ধরের রিপোর্ট
কলকাতা: এলপিজির সঙ্কট কমেনি। আকালের বাজারে কেন্দ্রের বড় সিদ্ধান্ত। আবার পরিবর্তিত হল রান্নার গ্যাস বুকিংয়ের সময়সীমা (LPG Cylinder Booking)। গৃহস্থের বাড়িতে ব্যবহৃত ১৪.২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার এবার থেকে ২৫ দিন নয়, ৩৫ দিন বাদে বুকিং করতে হবে। গ্রাম ও শহরের জন্য এই নিয়ম প্রয়োজ্য।
ডিলারদের দাবি, ডবল বা দুটি সিলিন্ডারের কানেকশন যাদের রয়েছে, তাদের এবার থেকে দুটি সিলিন্ডার বুকিংয়ের মাঝে অন্তত ৩৫ দিনের ব্যবধান রাখতে হবে। সিঙ্গল সিলিন্ডারের কানেকশনে গ্য়াস বুকিংয়ের ক্ষেত্রে সময়সীমা ২৫ দিনই থাকছে। অর্থাৎ একটি গ্যাস ডেলিভার হয়ে যাওয়ার ৩৫ দিন বাদে দ্বিতীয় গ্যাস বুক করা যাবে।
তবে ৫ ও ১০ কেজির সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে গ্রাম ও শহরে গ্যাস বুকিংয়ের সময়সীমা আলাদা। ৫ কেজির সিঙ্গল সিলিন্ডার ৯ দিন বাদে বুক করা যাবে। ডাবল সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে ১২ দিন পর বুকিং করা যাবে। উজ্জ্বলা যোজনার অধীনে কানেকশন হলে, ১৬ দিন বাদে ৫ কেজির সিলিন্ডার ফের বুক করা যাবে। একইভাবে, ১০ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার ডেলিভারির ২৫ দিন পরবর্তী গ্যাস সিলিন্ডার বুক করা যাবে।
ডিলারদের সূত্রে খবর, উজ্জ্বলা যোজনার অধীনে এলপিজি কানেকশন যাদের, তাদের গ্যাস বুকিংয়ের সময়সীমাতেও পরিবর্তন হয়েছে। ডবল সিলিন্ডার হলে, একটি গ্যাস ডেলিভারির ৪৫ দিন বাদে পরবর্তী গ্যাস বুক করা যাবে।
প্রসঙ্গত, এই নিয়ে তৃতীয়বার গ্য়াস বুকিংয়ের নিয়মে বদল হল। প্রথমে ২১ দিন বাদে বুকিং করা যেত। পরে তা বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়। এখন একলাফে আরও ১০ দিন বাড়িয়ে বুকিংয়ের সময়সীমা ৩৫ দিন করা হল।
এই বিষয়ে একজন গ্যাস ডিলার বলেন, “আমাদের কোটা বা বরাদ্দ ৩০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ৭০ শতাংশ বরাদ্দ দিয়ে সকল গ্রাহকদের গ্যাস দিতে হবে। তাই ডবল সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে বুকিংয়ের সময়সীমা বাড়িয়ে ৩৫ দিন করা হল। অর্থাৎ যে দিন আপনার বাড়িতে শেষ গ্যাস সিলিন্ডার ডেলিভার হয়েছে, তার থেকে ৩৫ দিন পর আপনি দ্বিতীয় সিলিন্ডারের জন্য বুকিং করতে পারবেন। তার আগে নয়। বুকিং করার ১২-১৩ দিন পর গ্য়াস ডেলিভার হবে। উজ্জ্বলা যোজনার কানেকশন যাদের, তাদের জন্য এই সময়ের ব্যবধান ৪৫ দিন।”
তিনি আরও জানান যে তাদের কাছে সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ আসে না, অয়েল মার্কেটিং সংস্থাগুলির তরফে মেসেজ এসেছে। সেই বার্তাই তারা গ্রাহকদের জানাচ্ছেন।
এই সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষদের উপরে বেশ চাপ তৈরি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, এই সময়ের মধ্যে গ্যাস ফুরিয়ে গেলে কী হবে? যাদের বড় পরিবার, তাদের তো সমস্যা হবেই। পুরো পরিবারের জন্য রান্না করতে গেলে ২৬ বা ২৮ দিন চলে। যাদের বাড়িতে ১০-১২ জন সদস্য, তাদের তো এক মাস গ্যাস চলে না, তারা কী করবেন?
অনেকেই আবার রান্নার গ্যাসের সঙ্কট দেখা দিতেই ইন্ডাকশন কুকার, এয়ার ফ্রায়ার, ইলেকট্রিক কেটলি, মাইক্রোওয়েভ কিনে, তাতে রান্নার ব্যবস্থা করছেন। যাদের সামর্থ্য নেই, তারা আবার কাঠ-কয়লা বা ঘুঁটের জ্বালানিতে ফিরে গিয়েছেন।
