Madan Mitra: ‘আশা করেছিলাম একবার বলবেন, আসুন না…’ দিদির উপরে আক্ষেপ মদনের, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই ‘আল্টিমেট তৃণমূল’ বললেন!
Madan Mitra on Mamata Banerjee: কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র বলেন, "ভোট কন্ট্রোল যারা করে আর টিয়া পাখি নিয়ে যারা বসে, তাদের সঙ্গে আমি নেই। মেট্রোপলিটন তৃণমূল ভবনে এসেছি। দুই জায়গাতেই আবার অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস লেখা। তবে তলায় কি ব্রত? পরমব্রত না অনুব্রত, তা লেখা নেই।"

কলকাতা: আবার বোমা ফাটালেন মদন মিত্র। গতকাল, একাদশীর দিনই একরাশ আক্ষেপ নিয়ে মদন মিত্র বলেছিলেন যে ধর্ম-কর্ম করা গেলেও, আর হয়তো রাজনীতি করা যাবে না। জানিয়েছিলেন যে তিনবারের বিধায়ক হলেও, তিনি এখন নিজের কেন্দ্র কামারহাটিতে যেতে পারছেন না। এবার আরও বিস্ফোরক মন্তব্য। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে নাম লেখালেও আজ তিনি বললেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হলেন আল্টিমেট তৃণমূল”। তবে কি আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেই ফিরতে চাইছেন তাঁর একসময়ের ছায়াসঙ্গী?
এ দিন বাইপাসের ধারে তৃণমূল ভবনে বৈঠকে বসে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস। সেই বৈঠকে যোগ দিতে আসেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শান্তনু সেন থেকে শুরু করে অরূপ রায়, মদন মিত্রের মতো নেতারা। বৈঠকে ঢোকার আগেই মদন মিত্র বলে বসেন যে তাঁর কাছে আল্টিমেট নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র বলেন, “ভোট কন্ট্রোল যারা করে আর টিয়া পাখি নিয়ে যারা বসে, তাদের সঙ্গে আমি নেই। মেট্রোপলিটন তৃণমূল ভবনে এসেছি। দুই জায়গাতেই আবার অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস লেখা। তবে তলায় কি ব্রত? পরমব্রত না অনুব্রত, তা লেখা নেই।”
তিনি আরও বলেন, “মানুষ খুব বুদ্ধিমান। মানুষ জানে, ডাবল ইঞ্জিনের পরে ট্রিপল ইঞ্জিন না হলে কাজ বন্ধ হয়ে যাবে। কিছু লড়াই বোর্ড গড়তে আর কিছু লড়াই রিংয়ে আছি বোঝাতে লড়তে হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাকি বন্ধুদের ডাকছেন। একবার বলতে পারতেন আসুন আমরা একসঙ্গে লড়ি। তারপর নাহয় ভাবতাম। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হলেন আল্টিমেট তৃণমূল। সিরিয়াসলি রিংয়ে নামলে সিরিয়াসলি লড়ব।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই তৃণমূলের সমার্থক বলে মদন বলেন, “কংগ্রেসের নেতা গান্ধী, নেহেরু। আজ ঘটনাচক্রে অনেকে আসছেন। তেমনই তৃণমূল কংগ্রেস ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমার্থক। প্রতীক যে-ই পাক না কেন…।”
মদন আরও বলেন, “উনি সবার সঙ্গে গিয়ে বন্ধুত্বের কথা বলছেন, বলতে পারতেন না যে এসো না আমরা সব তৃণমূল একসঙ্গে লড়ি। উনি আল্টিমেট তৃণমূল, সিম্বল ছাড়া। সিম্বল পাওয়ার পর কমিশন যদি আমাদের পক্ষে রায় দেয়, তাহলে সিম্বল-কম্বল সব এক হয়ে যাবে। আমি আশা করেছিলাম যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হয়তো একবার বলবেন, আসুন না আমরা সবাই একসঙ্গে লড়ি। পুরাতন স্মৃতি ভুলে যাও। দায়িত্বটা কার? দায়িত্বটা আমাদের নয়। ছোট চায়, সবসময় বড়র দাবি দাবিয়ে চলে। আমরা সঙ্গে আছি। কিন্তু ব্যানারের মুখে নেই। ইন্ডি জোটে কিন্তু আমাদের ডাকেনি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডেকেছে।”
শেষে তিনি বলেন, “একসঙ্গে সবাই লড়লে বিজেপি পরাস্ত হবে কলকাতা পুরসভায়। নাহলে সবাই আলাদা দাঁড়িয়ে, ভোট ভাগ করে বিজেপির সঙ্গে সেটিং বুঝিয়ে দিই।”
