Agnimitra Paul: ‘মমতার লড়াইকে তো অস্বীকার করতে পারি না, ওঁরা সুবিধাবাদী’, হঠাৎ কেন বললেন অগ্নিমিত্রা?,
Agnimitra Paul on Mamata Banerjee: এই পরিস্থিতিতে মমতার লড়াইয়ের প্রসঙ্গ উত্থাপন করলেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর বক্তব্য, দুঃসময়ে যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়েছেন, তাঁদের সুবিধাবাদী বলে নিশানা পুরমন্ত্রী। মমতার সঙ্গত্যাগীদের উদ্দেশে তাঁর প্রশ্ন, যেখানে সুবিধা পাব, সেখানেই চলে যাব? এত তাড়াতাড়ি তৃণমূল শেষ হয়ে যাবে, সেটাও কখনও ভাবিনি। রাজনীতিতে দম্ভ মানুষ গ্রহণ করে না, এটাও আমাদের কাছে একটা শিক্ষার।

কলকাতা: দলীয় কমিটি ভেঙে যাওয়া থেকে প্রতীক ও নামের অস্তিত্ব নিয়ে বড় ধরণের সঙ্কট! শেষমেশ হারাতে হয়েছে দলের নাম! জোড়া ফুল প্রতীক হারাতে হয়েছে মমতাকে। বিধানসভা নির্বাচনে ৮০টা আসন পাওয়ার পর থেকেই দলের ভেতরে তীব্র অসন্তোষ ও ভাঙন, যার ফলে এখন দলটাই ভেঙে টুকরো টুকরো! এক সময় তাঁর চারপাশে ঘিরে থাকতেন যাঁরা, এখন তাঁরাই মমতার প্রতিদ্বন্দ্বী। ৪ মের আগের দিন পর্যন্ত যাঁরা মমতার হয়ে গলা ফাটিয়েছেন, সেই তাঁরাই নতুন শিবির…নতুন দল গড়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই বলেন, এই দল ভাঙানোর খেলা তো পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূলই এনেছিল, অন্য় দল থেকে নেতা-নেত্রীদের নিজেদের দলে টানার কৌশল অন্য়মাত্রায় নিয়ে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় ও তাঁর তৎকালীন সেনাপতিরা!
এই পরিস্থিতিতে মমতার লড়াইয়ের প্রসঙ্গ উত্থাপন করলেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর বক্তব্য, দুঃসময়ে যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়েছেন, তাঁদের সুবিধাবাদী বলে নিশানা পুরমন্ত্রী। মমতার সঙ্গত্যাগীদের উদ্দেশে তাঁর প্রশ্ন, যেখানে সুবিধা পাব, সেখানেই চলে যাব? এত তাড়াতাড়ি তৃণমূল শেষ হয়ে যাবে, সেটাও কখনও ভাবিনি। রাজনীতিতে দম্ভ মানুষ গ্রহণ করে না, এটাও আমাদের কাছে একটা শিক্ষার।
অগ্নিমিত্রা বলেন, “আমরা অনেক সময়েই বক্তব্য রাখার সময়ে বলেছি, অস্তিত্ব থাকবে না, কিন্তু সেটা যে এত তাড়াতাড়ি সত্যি হয়ে যাবে, ভাবতে পারিনি। এটা আমাদের কাছে শিক্ষনীয়। ঔদ্ধত্য, নিজেকে সর্বোত্তম মনে করা, মানুষকে সম্মান না দেওয়া- তার পরিণাম কী হতে পারে, শেখার আছে।” আর সে প্রসঙ্গে বলতে গিয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াইয়ের পক্ষ নেন তিনি। বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো লড়াই করেছিলেন, সেটা তো অস্বীকার করতে পারি না। কিন্তু আজকে যাঁরা তাঁর হাত ছেড়ে দিলেন, এটাও কিন্তু একটা শিক্ষার। কারণ লয়্যালটি কোথায় গেল রাজনীতিতে? আজ ক্ষমতায় নেই বলে ছেড়ে চলে গেলেন?”
গণতান্ত্রিক তৃণমূলের পক্ষ থেকে প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “মন্ত্রী কেন তৃণমূল ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়লেন, সেটাই বুঝতে পারলাম না। মন্ত্রী হয়তো ভুলে গিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটা সময়ে বাজপেয়ীর ক্যাবিনেটে মন্ত্রী ছিলেন, পরবর্তীতে সঠিক সময়ে তিনি UPA তে যোগ দেন। সেটা যদি অন্যায় না হয়ে থাকে, তাহলে এখনকার পরিস্থিতিতে কেন ন্যায় অন্যায় খোঁজা হচ্ছে?”
মমতা তৃণমূল কংগ্রেস নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এটা থেকে মানুষ বুঝবে ইতিহাস কোনওদিন বেইমানদের ক্ষমা করে না। বেইমানরা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে থাকে।”
