School Education: একের পর এক স্কুল বন্ধ, বাংলার অবস্থা রাজস্থানের থেকেও খারাপ! প্রভাব পড়বে ভোটে?
শিক্ষক সঙ্কটের কথা বারবার স্বীকার করেছেন শিক্ষামন্ত্রী। তাঁর দাবি সরকার বারবার জেলায় শিক্ষক পাঠানোর চেষ্টা করেছে। ভবিষ্যতেও করবে। দমদমে বিদায়ী শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে বাম প্রার্থী এসএফআইয়ের প্রাক্তন ছাত্রনেতা ময়ূখ বিশ্বাস। তিনি অবশ্য নির্বাচনী প্রচারের শীর্ষে রেখেছেন এই ইস্যুকে।

কলকাতা: বাংলায় ভোট আসছে। ভোটের নানা ইস্যু। প্রচারে ব্যস্ত শাসক, বিরোধী সব শিবির। কিন্তু গত বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে বাংলার যে ইস্যু সবথেকে বেশি সামনে এসেছে, তা হল শিক্ষা। দুর্নীতির অভিযোগ তো ছিলই, এখন বন্ধ হচ্ছে একের পর এক স্কুল। মূলত দুটি কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। স্কুলের দুর্বল পরিকাঠামো আর শিক্ষকের অভাব। ৮ হাজারের বেশি স্কুল বন্ধ কেন হল? এই প্রশ্ন বারবার বিধানসভায় তুলেছে বিরোধীরা।
কলকাতায় কিছু স্কুলে শিক্ষক থাকলেও খারাপ অবস্থা জেলাগুলোর। সরকারি স্কুলে মূলত প্রান্তিক বাড়ির শিশুরা পড়তে যায়। সেখানে একাধিক প্রকল্প রয়েছে সরকারের। কিন্তু জেলায় জেলায় সেই স্কুলগুলোই ধুঁকছে। পরিসংখ্যান বলছে, জেলার থেকে প্রায় আড়াই গুন বেশি শিক্ষক রয়েছে কলকাতায়। আর কলকাতায় ছাত্র সংখ্যা অর্ধেকেরও থেকে কম। মূলত উৎসশ্রী প্রকল্পের (শিক্ষক বদলির উদ্যোগ) কারণে জেলার শিক্ষকরা শহরে চলে গিয়েছেন। শিক্ষক না থাকায় কমেছে পড়ুয়া সংখ্যা। ধুঁকতে ধুঁকতে বন্ধ হয়েছে জেলার স্কুলগুলো।
কেন জেলায় জেলায় নেই শিক্ষক?
১. সরকার জেলায় জেলায় শিক্ষক পাঠানোর জন্য তথ্য সংগ্রহ করলেও তা খাতায় কলমে প্রয়োগ হয়নি।
২. শিক্ষানীতিতে দফতর স্থির করেছিল যে, প্রত্যেক শিক্ষকের গ্রামে পড়াতে যাওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু সেই নীতি কার্যকর হয়নি।
৩.উৎসশ্রী পোর্টাল চালু হওয়ার পর, শিক্ষকদের বিভিন্ন প্রয়োজনে বদলির অর্ডার হয়। সেখানে অধিকাংশ বদলিই হয় জেলা থেকে শহরে।
শিক্ষক সংখ্যায় রাজস্থানের থেকেও পিছিয়ে বাংলা
পশ্চিমবঙ্গের থেকে বেশি স্কুল রয়েছে রাজস্থানে। রাজস্থানের থেকেও বেশি স্কুল রয়েছে উত্তর প্রদেশে। তারপরও দেখা যাচ্ছে, বাংলার স্কুলগুলোয় শিক্ষকের সংখ্যা কম।
TV9 বাংলার হাতে থাকা নথিতে দেখা যাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গে মোট স্কুলের সংখ্যা ৯৩ হাজার ৭১৫। রাজস্থানে মোট স্কুল ১ লক্ষ ৬ হাজার ৩০২ আর উত্তর প্রদেশে মোট স্কুল ২ লক্ষ ৬২ হাজার ৩৫৮। অর্থাৎ স্কুলের সংখ্যার নিরিখে অনেক পিছিয়ে বাংলা। তারপরেও বাংলায় শিক্ষক নেই। রাজস্থানে যেখানে স্কুল প্রতি ৬ জনের বেশি শিক্ষক। সেখানে বাংলায় এই গড় ৫ জনেরও কম।
শিক্ষক সঙ্কট
খোদ শিক্ষামন্ত্রীর বিধানসভায় তাকালে স্কুলের বেহাল দশার ছবি স্পষ্ট হয়ে যাবে। দমদম বিধানসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের খেলার মাঠের পাশে একতলা স্কুলবাড়িতে এখন আর ঘণ্টা বাজে না। সূর্য সেন প্রাথমিক বিদ্যালয় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ। এমনকী দমদম বিধানসভাতেই একাধিক স্কুল রয়েছে সেখানে শিক্ষকের অভাবে পড়াশোনা বন্ধ। এখন সন্ধে হলে সেখানে মদের আসর বসে। জেলায় জেলায় চোখ ফেললেই এই একই ছবি।
ভোটে প্রভাব ফেলবে শিক্ষক সঙ্কট?
শিক্ষক সঙ্কটের কথা বারবার স্বীকার করেছেন শিক্ষামন্ত্রী। তাঁর দাবি সরকার বারবার জেলায় শিক্ষক পাঠানোর চেষ্টা করেছে। ভবিষ্যতেও করবে। দমদমে বিদায়ী শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে বাম প্রার্থী এসএফআইয়ের প্রাক্তন ছাত্রনেতা ময়ূখ বিশ্বাস। তিনি অবশ্য নির্বাচনী প্রচারের শীর্ষে রেখেছেন এই ইস্যুকে। প্রধান শিক্ষক সংগঠনের নেতা চন্দন মাইতি বলছেন, “অবশ্যই ভোটাধিকার প্রয়োগের আগে স্কুলবাড়িগুলোর দিকে তাকানো উচিত। বাংলায় বিভিন্ন স্কুলে ১০০ জনকে পড়াচ্ছেন একজন শিক্ষক। এরকম চললে আর ছাত্র থাকবে না।”
