
কলকাতা: ভোট যত এগোচ্ছে, ততই জোটের অঙ্ক কঠিন হয়ে উঠছে বাম শিবিরের কাছে। একদিকে হুমায়ুন-সাক্ষাতে বিক্ষোভের সুর, অন্যদিকে নওশাদের চাল!
সিপিএমে আপাতত হুমায়ুন পর্বের সমাপ্তি! আইএসএফকে সঙ্গে নিয়েই ২৬-এর বৈতরণী পার করতে চায় বামেরা। শরিকদের মতানৈক্য মেটাতে এবার ত্রাতার ভূমিকায় বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। কয়েকদিন আগেই ছিল সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠক। সেখানে সিপিএম নেতাদের একাংশের অসন্তোষের মুখে জবাব দিতে হয় রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমকে। কেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে তাঁকে বৈঠকে বসতে হল, তা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। বামফ্রন্টের বৈঠকেও শরিকরা প্রশ্ন করতে ছাড়েননি। সূত্রের খবর সেদিন তুলকালাম হয় আলিমুদ্দিনে।
সূত্রের খবর, এই পরিস্থিতি সামাল দিতে শরিকদের সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠকে বসছেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান। প্রয়োজনে বড় শরিক সিপিএম অন্যদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করবে বলে জানা গিয়েছে। শরিকদের মতে, হুমায়ুনের সঙ্গে বৈঠকের জন্য ভোটারদের কাছে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে।
এদিকে, আইএসএফের জন্য বাড়তি কোনও সিট ছাড়তে নারাজ ফরওয়ার্ড ব্লক সহ অন্যান্য দল। আইএসএফ আগের থেকে বেশি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইছে বলেই জানা যাচ্ছে। এদিকে ৫০ আসনে লড়তে চাইছে আইএসএফ। নওশাদকে ৫০ আসন ছাড়লে বামফ্রন্টকে নতুন করে জোট অঙ্ক করতে হবে।
২২ ফেব্রুয়ারি ডেডলাইন ধরে এগোচ্ছে সিপিএম। ২২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে চূড়ান্ত আসন সমঝোতা শেষ করতে চাইছেন সেলিম-সুজনরা। আগামী ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি রাজ্য কমিটির বৈঠকে সব চূড়ান্ত হয়ে যাবেই বলে মত সিপিএমের। বামেরা হুমায়ুনের থেকে দূরত্ব বাড়ালেও হুমায়ুনের সঙ্গে আলোচনার রাস্তা খোলা রাখছেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। আগামিকাল রাজ্য কমিটির বৈঠকে হুমায়ুন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে আইএসএফ।