Suvendu Adhikari: কমলা গোলাপ দিয়ে স্বাগত, দিলেন গীতা; মমতাকে নিয়ে নয়া রাজ্যপালকে কী বলে এলেন শুভেন্দু?
Suvendu Adhikari meets RN Ravi: রাজ্যপাল তাঁর কথা শুনেছেন জানিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "উনি আমার কথা শুনেছেন। উনি কী বলেছেন, সেটা বলা ঠিক হবে না। গণতন্ত্র ও সংবিধানকে রক্ষা করতে প্রথম দিন যেটুকু রাজ্যপালকে জানানোর দরকার ছিল, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে তা করেছি। সবার চোখে মুখে ভয়। সেই ভয়টা কাটানো দরকার। আমার বিশ্বাস, উনি ব্যবস্থা নেবেন।"

কলকাতা: বাংলার নতুন রাজ্যপাল হিসেবে আর এন রবির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে গতকাল তিনি থাকতে পারেননি। একদিন পরই লোকভবনে গিয়ে নতুন রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। কমলা রঙের গোলাপ দিয়ে রাজ্যপালকে স্বাগত জানান। নয়া রাজ্যপালের হাতে গীতাও তুলে দেন শুভেন্দু। আর রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাতের পর বাইরে বেরিয়ে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা বলেন, “আমি রাজ্যপালকে হাতজোড় করে বলেছি, সংবিধান বাঁচান।”
এদিন রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করার পর বিধানসভার বিরোধী দলনেতা বলেন, “রাজ্যপালের শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য মুখ্যসচিব আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। কিন্তু, আমি দিল্লিতে থাকায় শপথ অনুষ্ঠানে থাকতে পারিনি। এদিন রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করার জন্য সময় চেয়েছিলাম। উনি সময় দেন। আজ গিয়ে দেখা করলাম। ৩০ মিনিট কথা হয়েছে।”
রাজ্যপালের সঙ্গে তাঁর কথা নিয়ে শুভেন্দু বলেন, “আমি হাতজোড় করে রাজ্যপালকে বলেছি, সংবিধান বাঁচান। ৫ বছরে বিরোধী দলনেতা সাড়ে এগারো মাস বিধানসভার বাইরে থেকেছে। পাঁচ বার সাসপেন্ড করেছে। রাজ্যপালকে বলেছি, আপনি এটা অন্য কোথাও দেখেননি।” একইসঙ্গে তিনি বলেন, “খগেন মুর্মুকে যেভাবে মারা হয়েছে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা এখানে আক্রান্ত হয়। বিরোধীদের এমপি, এমএলএ রাজ্যে নিরাপদ নন।”
রাজ্য সরকারকে নিশানা করে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা বলেন, “এখানে আমলারা কেউ অবসর নেন না। যেটুকু সুযোগ পেয়েছি প্রাথমিকভাবে বুঝিয়ে বলেছি। কিভাবে বিচারব্যবস্থাকে এরাজ্যে আক্রান্ত হতে হয়েছে, সেটা জানিয়েছি।” মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে রাজ্যপালের কাছে তিনি জানিয়েছেন, “এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান লক্ষ্য তোষণ। ৫৫০ কিমি বেড়া নেই। সীমান্ত থেকে হু হু করে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী, রোহিঙ্গারা আসছে। ফলে জনবিন্যাস বদলে গিয়েছে। রাজ্যপালকে জানিয়েছি, বাংলাকে বাঁচান।”
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর বাংলা সফর ঘিরে যা হয়েছে, তা নিয়েও রাজ্যপালকে জানিয়েছেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা। তিনি বলেন, “রাষ্ট্রপতির সঙ্গে যা হয়েছে, সেটা ক্লোজ চ্যাপ্টার হতে পারে না। এটা নিয়ে যা যা করার দরকার করব। পদক্ষেপ করা দরকার।”
রাজ্যপাল তাঁর কথা শুনেছেন জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, “উনি আমার কথা শুনেছেন। উনি কী বলেছেন, সেটা বলা ঠিক হবে না। গণতন্ত্র ও সংবিধানকে রক্ষা করতে প্রথম দিন যেটুকু রাজ্যপালকে জানানোর দরকার ছিল, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে তা করেছি। সবার চোখে মুখে ভয়। সেই ভয়টা কাটানো দরকার। আমার বিশ্বাস, উনি ব্যবস্থা নেবেন।”
এদিন লোকভবনের বাইরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় সরকারি কর্মচারীদের আন্দোলনকেও সমর্থন করেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা। বলেন, “বেতন কাটলে আর আজ না আসার কারণে কারও উপর যদি কোনও জুলুম হয়, বিরোধী দলনেতা পাশে থাকবে। বেতন বৃদ্ধি হবে বিজেপি সরকার এলে।” গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে তৃণমূলের আন্দোলন নিয়ে শুভেন্দু বলেন, “তৃণমূল ইরান চলে যাক। কেন্দ্রীয় সরকার টিকিট করে দেবে। খামেনেই-র বাড়ির সামনে ধর্না দিক।”
