Sealdah Station: লোকাল ট্রেনের চালকের কেবিনে যাত্রী, আচমকাই বাজাতে শুরু করলেন হর্ন! শিয়ালদহ স্টেশনে হুলস্থূল কাণ্ড
Sealdah station incident: রেল সূত্রে খবর, ওই সময় ট্রেনটি খালি করে ফের যাত্রার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছিল। সেই কারণে যাত্রীরাও ট্রেনে উঠতে শুরু করেছিলেন। তবে ট্রেন চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় চাবি লক করা থাকায় অভিযুক্ত ট্রেনটি চালু করতে পারেননি বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু তা না থাকলে কী পরিস্থিতি তৈরি হতে পারত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

শিয়ালদহ : শিয়ালদহ স্টেশনে (Sealdah Station) হুলস্থূল কাণ্ড। প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে রয়েছে ট্রেন। হঠাৎ ক্রমাগত বাজতে শুরু করে হর্ণ। অথচ চালকের কেবিনের কোনও চালকই নেই। রীতিমচো হইচই পড়ে যায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছন রেলের আধিকারিকরা। তখনই দেখা যায়, ট্রেনের চালকের কেবিনে উঠে এক ব্যক্তি জোরে জোরে হর্ন বাজাচ্ছেন। পরে ওই যাত্রীকে গ্রেফতার করে রেল পুলিশ (RPF)। তবে কীভাবে এক যাত্রী অনায়াসে লোকাল ট্রেনের চালকের কেবিনে ঢুকে পড়লেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
কীভাবে ঘটল ঘটনা?
শিয়ালদহ ডিভিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, সকাল ১১টা নাগাদ লোকাল ট্রেনটি শিয়ালদহ স্টেশনের ৯ নম্বর প্ল্যাটফর্মে এসে পৌঁছয়। নিয়ম অনুযায়ী, ট্রেনটি স্টেশনে ঢোকার পর এক লোকো পাইলট দায়িত্ব ছেড়ে নেমে যান। এরপর অন্য এক লোকো পাইলট ট্রেনটির দায়িত্ব নেওয়ার কথা ছিল।
অভিযোগ, সেই সময়ই শিয়ালদহের দিকে ট্রেনটির সামনের অংশে থাকা চালকের কেবিনে ঢুকে পড়েন এক যাত্রী। তারপর আচমকাই জোরে জোরে হর্ন বাজাতে শুরু করেন তিনি। হর্নের আওয়াজ শুনে রেলের আধিকারিক ও ইঞ্জিনিয়াররা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন। পরে ওই যাত্রীকে আটক করে আরপিএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
অল্পের জন্য এড়াল বিপদ?
রেল সূত্রে খবর, ওই সময় ট্রেনটি খালি করে ফের যাত্রার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছিল। সেই কারণে যাত্রীরাও ট্রেনে উঠতে শুরু করেছিলেন। তবে ট্রেন চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় চাবি লক করা থাকায় অভিযুক্ত ট্রেনটি চালু করতে পারেননি বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু তা না থাকলে কী পরিস্থিতি তৈরি হতে পারত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
কেন লক করা হয়নি কেবিন?
এই ঘটনার পর রেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠছে। প্রথমত, লোকো পাইলট দায়িত্ব ছেড়ে নেমে যাওয়ার পর চালকের কেবিনের দরজা লক করা ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। দ্বিতীয়ত, এক যাত্রী কীভাবে নিরাপত্তার নজর এড়িয়ে কেবিনে ঢুকে পড়লেন, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।
শিয়ালদহ স্টেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় প্ল্যাটফর্মে আরপিএফ জওয়ানদের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও কেন তাঁদের নজরে বিষয়টি এল না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। ট্রেন চালানোর চাবি লক করা না থাকলে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।
মানসিক স্বাস্থ্য খতিয়ে দেখছে আরপিএফ
ঘটনায় অভিযুক্ত যাত্রীকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে আরপিএফ। তিনি মানসিকভাবে সুস্থ কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে রেল পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, লোকো পাইলট নেমে যাবার পর কেন কেবিনের দরজা লক করে দেওয়া হয় না? যদি চাবির জায়গাটি অন থাকতো, তাহলে দুর্ঘটনা ঘটে গেলে তার দায় কে নিত?
