
কলকাতা: উল্কার মতো উত্থান। কিন্তু তা স্থায়ী হল না। উত্থানের এক বছরের মধ্যেই আরজি কর আবহে ছবি-বিতর্কে তাঁকে নিলম্বিত (সাসপেন্ড) করেছিল তৃণমূল। তারপর শুধুই সময়ের অপেক্ষা। মোক্ষম সময়ে দলের ‘দাদা-সংস্কৃতি’ নিয়ে সরব হয়েছিলেন তিনি। ব্য়াকফুটে পড়েছিল শাসকশিবির। দিন কতকের জন্য প্রচারের আলোয় এসেছিলেন রাজন্য়া।
সেই তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেত্রী রাজন্যা হালদার এখন বার্তা দিয়েছেন ‘পরিবর্তনের’। সোমবার নিজের সমাজমাধ্যমেই একটি পোস্ট করেছেন তিনি। যা ইঙ্গিতপূর্ণ বলেই মনে করছেন একাংশ। স্বামী বিবেকানন্দের ছবিতে মালা চড়িয়ে একটি ছবি পোস্ট করেছেন রাজন্যা। ক্য়াপশনে লিখেছেন, ‘আমার বাংলা রক্তাক্ত হয়ে উঠেছে। গণতন্ত্র ধার চাই।’ ক্যাপশনের নীচে লিখেছেন ‘লেটস চেঞ্জ’।
কিন্তু হঠাৎ এই পোস্টের কারণ কী? তৃণমূল ছেড়ে কি বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন রাজন্যা? এই জল্পনা কিন্তু আজকের নয়। বিতর্কিত ছবি, ‘দাদা সংস্কৃতি’ নিয়ে সরব হয়েছিলেন রাজন্যা-প্রান্তিক। দলের কাছে হয়ে উঠেছিলেন ‘প্রতিবাদী মুখ’। সেই সময়ই তাঁদের কাছে ফোন এসেছিল বিজেপি নেতা সজল ঘোষের। অবশ্য, তখন বিজেপিতে যাওয়ার প্রসঙ্গকে ‘অপ্রাসঙ্গিক’ বলে এড়িয়ে গিয়েছিলেন দু’জনেই। তা হলে কি এবার সেই প্রশ্নই নতুন করে প্রাসঙ্গিক হতে চলেছে। সূত্রের খবর, আজই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি যোগ দিতে পারেন দু’জনে, তুঙ্গে জল্পনা। তাঁদের সঙ্গেই গেরুয়া শিবিরে যোগদানের সম্ভবনা আরও কয়েক জন ছাত্রনেতার।
এদিন টিভি৯ বাংলার তরফ থেকে ফোন করা হয়েছিল প্রান্তিক-রাজন্যাকে। বিজেপিতে যোগদানের প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাননি তাঁরা। রাজনীতিতে সবই সম্ভব, সেই ইঙ্গিতটাই দিয়েছেন এই দুই ছাত্রনেতা। এদিন রাজন্যা বলেন, ‘রাজনীতিতে সবই সম্ভবনাময়। সময় উত্তর দেবে।’ অন্যদিকে প্রান্তিক বললেন, ‘দলবদল কথায় আমি বিশ্বাস করি না। বরং আমি বিশ্বাস করি, ভাবনার পরিবর্তনে। আমি শুধুমাত্র সময়ের চাহিদাটা বুঝি। রাজনীতি সব সময়ই সম্ভবনাময়। সময় উত্তর দেবে।’