Sujan meets Suvendu: হঠাৎ শুভেন্দুর ঘরে হাজির সুজন! স্মৃতিচারণায় উঠে এল শান্তিকুঞ্জ
WB Assembly: বিধানসভার পুরনো দিনের স্মৃতিচারণা যেমন থাকল, তেমনই কাঁথির শান্তিকুঞ্জের আলোচনাও বাদ গেল না। মিনিট ২০ সেই ঘরেই কাটালেন সুজন, পরে শুভেন্দুর ঘর ছাড়লেন তিনি।
প্রদীপ্ত কান্তি ঘোষ, কলকাতা: বাংলায় হারাচ্ছে রাজনৈতিক সৌজন্য। এমন অভিযোগ বিভিন্ন সময়েই ওঠে। তবে শুক্রবার বিকেলে বঙ্গ বিধানসভা (Assembly) সাক্ষী থাকল হারিয়ে যাওয়া সৌজন্যে ফিরে আসার কিয়দংশের স্মারক হিসেবে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikary) ঘরে দেখা গেল সুজন চক্রবর্তীকে (Sujan Chakraborty)।
এ দিন বিকেল ঠিক ৪ টে ২২ মিনিটে নন্দীগ্রামের (Nandigram) বিজেপি (BJP) বিধায়কের ঘরে হাজির হলেন সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। প্রত্যাশিতভাবেই হাসিমুখেই দু’জনেই একে অপরের দিকে হাত বাড়িয়ে দিলেন। কাছাকাছি এলেন আদর্শগত ভাবে রাজনৈতিক ময়দানের দুই মেরুর সেনানীরা। তাঁর বরাদ্দ চেয়ারে বসলেন বিরোধী দলনেতা আর কয়েক হাত দূরত্বে বসতে দেখা গেল প্রাক্তন বাম পরিষদীয় দলনেতাকে।
তাঁদের মধ্যে শুরু হল নানা কথা। তাতে বিধানসভার পুরনো দিনের স্মৃতিচারণা যেমন থাকল, তেমনই কাঁথির শান্তিকুঞ্জের আলোচনাও বাদ গেল না। মিনিট ২০ সেই ঘরেই কাটালেন সুজন, পরে শুভেন্দুর ঘর ছাড়লেন তিনি। অবশ্য ‘শুভেন্দুর ঘর’ বলায় আপত্তি আছে অধিকারী বাড়ির মেজ ছেলের। শুভেন্দু বললেন, “এটা শুভেন্দুর ঘর নয়। বিরোধী দলনেতার ঘর। দল আমাকে বিরোধী দলনেতা করেছে, তাই এই পদে আছি। আমার ঘর হতে পারে না।”
আর এসবের মাঝেই উঠে এল রাজ্যে দলবদলের প্রসঙ্গ, তাতে বিজেপি কী করছে তা-ও স্পষ্ট করলেন শুভেন্দু। আর তা মন দিয়ে শুনলেন সুজন। তবে বেশিরভাগ অংশ জুড়ে থাকল শনিবারের চার উপনির্বাচনের ফলাফল বা দলীয় অবস্থান নিয়ে আলোচনা। কখনও সুজন শুভেন্দুর মতের সঙ্গে সহমত হলেন, আবার কখনও মত মিলল না সুজন আর শুভেন্দুর। আর সে মতের যতই মিল বা অমিল খোঁজার চেষ্টা হোক না কেন! বড় হয়ে উঠল সৌজন্য।
বিধানসভার বিরোধী দলনেতার লাগোয়া ঘর সংস্কার হচ্ছে। আর তাতে শুভেন্দুর জন্য বরাদ্দ ঘরের সামনেও পুরু হচ্ছে ধুলো, ইটের গুঁড়ো। সে সব সঙ্গী করেই শুভেন্দুর ঘরে গিয়ে শুক্রের বিকেলে সুজন সৌজন্যের রাজনীতির আলপনা আঁকলেন, তা বললে হয়তো বাড়তি বলা হবে না।
আরও পড়ুন: তোলা না পেয়ে তিন ইঞ্জিনিয়ারকে অপহরণ! তৃণমূল বিধায়ক ঘনিষ্ঠের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ
পরে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, বাংলা থেকে সৌজন্যের রাজনীতি শেষ করে দিয়েছে তৃণমূল। তাঁর দাবি, ফোনে আড়ি পাতে গোয়েন্দা সংস্থা, তাই ফোনে সবসময় কথা বলা সম্ভব হয় না। তৃণমূলের রাজনীতিতে সৌজন্য বলে কিছু নেই। যাঁরা সৌজন্য় বাঁচিয়ে রাখতে চান, তাঁরা এ ভাবেই বাঁচিয়ে রেখেছেন বলে দাবি করেন শুভেন্দু।
আরও পড়ুন: শেষ মুহূ্র্তে সফরে কাটছাঁট, রাহুলের আগমনেই কি এই সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রীর?