Suvendu Adhikari: অনুপ্রবেশকারীদের ‘ডিপোর্ট’ করার বড় ঘোষণা শুভেন্দুর, আজ থেকেই রাজ্যে লাগু হচ্ছে আইন
গত কয়েকদিন উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকার জেলাশাসক, পুলিশ এবং বিএসএফের সঙ্গে কো অর্ডিনেশন বৈঠক হয়েছে। এরপর থেকে প্রতিনিয়ত এই বৈঠক হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যনমন্ত্রী। বুধবার ২৭ কিমি জমি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার সেই জমির টাকা দিয়ে দেবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

কলকাতা: ক্ষমতায় আসার দু সপ্তাহের মধ্যেই বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তর করল রাজ্য সরকার। সেই সঙ্গে অনুপ্রবেশকারীদের জন্যও বড় বার্তা দিলেন শুভেন্দু। বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের কথা প্রচারেই বারবার বলে এসেছে বিজেপি। আর এবার ক্ষমতায় আসার পর বড় সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের (Infiltrators) ধরতে পারলেই গ্রেফতার করবে পুলিশ। তুলে দেওয়া হবে বিএসএফের হাতে। কেন্দ্রের আইন এবার আজ (বুধবার) থেকেই রাজ্যে লাগু করার কথা বললেন শুভেন্দু।
১১ দিনের মধ্যেই সীমান্তের জমি হস্তান্তর
বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর জন্য যে জমি হস্তান্তর করা প্রয়োজন ছিল, তা নিয়ে অনেক জটিলতা তৈরি হয়। তৃণমূল আমলে সরকার জমি দিচ্ছিল না বলে অভিযোগ ওঠে। এমনকী কেন্দ্র টাকা দিয়ে দেওয়া সত্ত্বেও জমি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। ফলে দীর্ঘ এলাকা কাঁটাতারহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ক্ষমতায় এসে বিজেপি সরকার জানায়, ৪৫ দিনের মধ্যে জমি হস্তান্তর করা হবে। আর মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার ১১ দিনের মধ্যেই বিএসএফের হাতে ২৭ কিলোমিটার জমি তুলে দিলেন শুভেন্দু।
বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে বসে শুভেন্দু বলেন, “বিএসএফ এবং কেন্দ্রীয় সরকার আবেদন করেছিল ইন্দো- বাংলাদেশ সীমান্তের জন্য জমি দিতে। কিন্তু আগের সরকার দিতে চায়নি। ফলে এই মুহূর্তে খুব খারাপ জায়গায় রয়েছে সীমান্ত এলাকা। দুই সপ্তাহের মধ্যে আমাদের আমলারা, বিশেষ করে ভূমি এবং রাজস্ব দফতরের সচিবরা ২৭ কিমি ফেনসিং এবং আউটপোস্টের জন্য জমি চিহ্নিত করে আজ তুলে দিচ্ছে।”
‘জমি চেয়েছিলেন রাজনাথ সিং-অমিত শাহ’
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “আমাদের রাজ্য ২২০০ কিমির মধ্যে ১৬০০ কিমিতে কাঁটাতার দিতে পারেনি। ৬০০ কিলোমিটার অংশ রয়েছে কাঁটাতারবিহীন। ২০১৬ সালে রাজনাথ সিং ব্যক্তিগত ভাবে জমি চেয়েছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু জমি দেওয়া হয়নি।”
আজ থেকে কার্যকর আইন
শুভেন্দু অধিকারী জানান, আজ থেকেই অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ডিপোর্ট করার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৫-এর ১৪ মে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছিল, অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের সরাসরি বিএসএফের হাতে অর্পণ করার জন্য। কিন্তু বিগত সরকার, একদিকে সিএএ-র বিরোধিতা করেছে এবং ভারত সরকারের এই আইন কাজে লাগায়নি। এবার সেই আইন কার্যকর করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
CAA বা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনে বলাই আছে ২০২৪-এর ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত, আইনে নির্দিষ্ট করা সম্প্রদায়ের যে সব মানুষ বাংলাদেশ থেকে এসেছেন, তাঁদের কোথাও কোনও হেনস্থা করা হবে না। যাঁরা ওই সময়ের পর এসেছেন, তাঁদের রাজ্য পুলিশ সরাসরি গ্রেফতার করে বিএসএফের হাতে তুলে দেবে, যাতে বিডিআর-এর সঙ্গে কথা বলে তাঁদের ডিপোর্ট করা যায়।
