
কলকাতা: গত পাঁচ বছর ধরে রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছে। ভবানীপুরে দলের কর্মিসভায় সেই চাপানউতোরকেই উস্কে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিরাব দলের কর্মীদের নিয়ে সম্মেলনে ‘লোডশেডিং’ বিতর্ক উস্কে মমতা বললেন, “ভোট শেষ হলেই বাড়ি চলে যাবেন না। লোডশেডিং করে দিতে পারে।” ভোট শেষের পর স্ট্রং রুমেও কড়া নজর রাখতে হবে বলে তৃণমূল কর্মীদের বার্তা দেন তিনি। একইসঙ্গে এদিন তৃণমূল সুপ্রিমো জানিয়ে দেন, বাংলায় ভোট শেষ হলেই ‘মিশন দিল্লি’ শুরু করবেন।
ছাব্বিশের নির্বাচনে সব নজর ভবানীপুর কেন্দ্রে। একুশের মতোই এবার ভবানীপুরে মেগা ডুয়েল হতে চলেছে। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। একুশের নির্বাচনে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামের পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছিলেন তাঁরা। ৫ বছর আগে ১৯৫৬ ভোটে মমতাকে হারিয়েছিলেন শুভেন্দু। তবে ফল নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন মমতা। লোডশেডিং করে তাঁকে হারানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।
পাঁচ বছর পর এবার ভবানীপুরে মুখোমুখি হচ্ছেন মমতা ও শুভেন্দু। এদিন তৃণমূলের কর্মিসভায় দলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়য় বার্তা দেন, কমপক্ষে ৬০ হাজার ভোটে জেতাতে হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আত্মতুষ্টিতে ভুগলে চলবে না বলে সতর্ক করে দেন সবাইকে।
তখন ভোটগ্রহণের পরও সজাগ থাকার কথা বললেন মমতা। এদিন কর্মিসভায় তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, “এখন থেকে সতর্ক থাকুন। ভোট শেষ হলেই বাড়ি চলে যাবেন না। লোডশেডিং করে দিতে পারে। স্ট্রং রুমে বিশেষ নজর দিতে হবে।” এদিন কেন্দ্র ও বিজেপিকে নিশানা করে মমতা বলেন, “ওরা গ্যাস দিতে পারে না, কিন্তু নির্বাচনে ক্যাশ দেয়।” এসআইআর-এ সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় কারও নাম বাদ গেলে তৃণমূল আইনি সহায়তা করবে বলেও এদিন বার্তা দেন তিনি। ভোট মিটলে তৃণমূলের পরবর্তী লক্ষ্য যে ‘মিশন দিল্লি’, ভবানীপুরে কর্মিসভায় তাও জানিয়ে দিলেন মমতা।