Shashi Panja Shyampukur Nomination: কয়েক কোটির অস্থাবর সম্পত্তি, হলফনামায় আর কী জানিয়েছেন শশী?
Shashi Panja assets disclosure: নিজের পেশা হিসেবে বছর তেষট্টির শশী জানিয়েছেন, তিনি পেশায় চিকিৎসক। তাঁর স্বামীও চিকিৎসক। আয়ের উৎস হিসেবে শ্যামপুকুরের তৃণমূল প্রার্থী জানিয়েছেন, বেতন, প্রফেশনাল ফি ও বিনিয়োগ থেকে আয় হয় তাঁর। আর তাঁর স্বামীর আয়ের উৎস হল চিকিৎসক হিসেবে প্রফেশনাল ফি ও বিনিয়োগ থেকে আয়। নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা MBBS বলে জানিয়েছেন শশী পাঁজা।

কলকাতা: তিনি অন্ধ্র প্রদেশের মেয়ে। তবে এখন পুরোপুরি বাঙালি। পেশায় চিকিৎসক। আর রাজনৈতিক পরিবারে বিয়ে হওয়ার পর রাজনীতিতে পদার্পণ। আজ তিনি তৃণমূলের বিধায়ক ও মন্ত্রী। সেই শশী পাঁজা ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে শ্যামপুকুর আসনে প্রার্থী হয়েছেন। মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। হলফনামায় নিজের এবং স্বামীর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিয়ে কী জানিয়েছেন শশী পাঁজা? গত ৫ অর্থবর্ষে তাঁর আয় কত? জেনে নিন হলফনামায় কী কী জানিয়েছেন শ্যামপুকুরের তৃণমূল প্রার্থী?
প্রয়াত তৃণমূল নেতা অজিত কুমার পাঁজার পুত্রবধূ শশী পাঁজা। গত ৫ অর্থবর্ষে তাঁর আয়ের হিসেব দিতে গিয়ে তিনি জানিয়েছেন, ২০২০-২১ অর্থবর্ষে তাঁর আয় ছিল ১৪ লক্ষ ১ হাজার ৫৭৫ টাকা। ২০২১-২২ অর্থবর্ষে তা ছিল ১৪ লক্ষ ৩৬ হাজার ৯১৭ টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে তৃণমূল এই বিধায়কের আয় ছিল ১৩ লক্ষ ৪১ হাজার ১১৪ টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে সেই আয় অনেকটাই বাড়ে। ওই অর্থবর্ষে তাঁর আয় ছিল ২৪ লক্ষ ১০ হাজার ২৬৭ টাকা। আর ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে শশীর আয় ছিল ২৯ লক্ষ ২২ হাজার ৮৭৮ টাকা।
স্বামী প্রসূন কুমার পাঁজার গত ৫ অর্থবর্ষের আয়ও হলফনামায় জানিয়েছেন শশী পাঁজা। ২০২০-২১ অর্থবর্ষে প্রসূনের আয় ছিল ৬ লক্ষ ৭৬ হাজার ৬২৮ টাকা। ২০২১-২২ অর্থবর্ষে আয় ছিল ৯ লক্ষ ৩৮ হাজার ৯৮২ টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে শ্যামপুকুরের তৃণমূল প্রার্থীর স্বামীর আয় ছিল ১০ লক্ষ ৪৩ হাজার ৩২৭ টাকা। পরের অর্থবর্ষে প্রসূনের আয় প্রায় দ্বিগুণ বাড়ে। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে তাঁর আয় ছিল ১৯ লক্ষ ৭ হাজার ৬৮৬ টাকা। আর ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে আয় ছিল ২০ লক্ষ ২ হাজার ৬৮৪ টাকা।
নিজের ও স্বামীর অস্থাবর সম্পত্তি নিয়ে হলফনামায় কী জানিয়েছেন শশী?
হলফনামায় শশী জানিয়েছেন, তাঁর কাছে নগদ রয়েছে ২২ হাজার ৫০০ টাকা। আর তাঁর স্বামীর কাছে নগদ রয়েছে ১৯ হাজার ৩০০ টাকা। শ্যামপুকুরের তৃণমূল প্রার্থীর ২ কোটি ৪৭ লক্ষ ৮ হাজার ৭১ টাকার একটি স্থায়ী আমানত রয়েছে। আবার একটি অ্যাকাউন্টে ৩২ লক্ষ ৬ হাজার ৬৯০ টাকা রয়েছে। আবার তাঁর স্বামীর ৯১ লক্ষ টাকার একটি স্থায়ী আমানত রয়েছে। প্রসূনের একটি অ্যাকাউন্টে ৫ লক্ষ ৭৯ হাজার ৯১৩ টাকা রয়েছে।
হলফনামায় শশী জানিয়েছেন, একটি ফ্ল্যাটের জন্য তিনি ৯০ লক্ষ টাকা অগ্রিম দিয়েছেন। শ্যামপুকুরের তৃণমূল প্রার্থী নামে দুটি গাড়ি রয়েছে। একটি ২০২১ সালে কেনা। দাম পড়ে ১৩ লক্ষ ৩০ হাজার ৬৬৫ টাকা। অন্য গাড়িটি ২০২৪ সালে কেনা। দাম ১১ লক্ষ ২৫ হাজার ৬৪৫ টাকা। শশীর স্বামী ২০২৫ সালে একটি গাড়ি কেনেন। দাম পড়ে ৫ লক্ষ টাকা।
শ্যামপুকুরের তৃণমূল প্রার্থী জানিয়েছেন, তাঁর ১৫৪ গ্রাম সোনার গয়না রয়েছে। যার বর্তমান বাজারমূল্য ১৩ লক্ষ টাকা। আর তাঁর স্বামীর কাছে ৮৩ গ্রাম সোনার গয়না রয়েছে। যার বর্তমান বাজারমূল্য ৭ লক্ষ টাকা। সবমিলিয়ে শশী পাঁজার অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ৪ কোটি ৬ লক্ষ ৯৩ হাজার ৩৭১ টাকার। আর তাঁর স্বামীর অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ১ কোটি ৮৮ লক্ষ ৩৩ হাজার ২১৩ টাকার।
শশী পাঁজা ও তাঁর স্বামীর স্থাবর সম্পত্তি কত?
হলফনামায় শশী জানিয়েছেন, তাঁর ও স্বামীর নামে কোনও কৃষি ও অকৃষি জমি নেই। যে বাড়িতে শশী থাকেন, সেটা তাঁর নামে নেই বলে শ্যামপুকুরের তৃণমূল প্রার্থী জানিয়েছেন। তবে তাঁর স্বামীর নামে একাধিক বাসভবন রয়েছে। তার মধ্যে দুটি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন। আর ওড়িশার পুরীতে ২০০৯ সালে একটি দোতলা বাড়ি কেনেন। সেইসময় দাম পড়েছিল ১৫ লক্ষ ৯৬ হাজার ৩০০ টাকা। যার বর্তমান বাজারমূল্য ৩১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। সবমিলিয়ে হলফনামায় শশী জানিয়েছেন, তাঁর কোনও স্থাবর সম্পত্তি নেই। তবে তাঁর স্বামীর স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ১ কোটি ৭৮ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার। শশী জানিয়েছেন, একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে তাঁর ৬৮ লক্ষ ১ হাজার ৭৬৫ টাকা ঋণ রয়েছে।
নিজের পেশা হিসেবে বছর তেষট্টির শশী জানিয়েছেন, তিনি পেশায় চিকিৎসক। তাঁর স্বামীও চিকিৎসক। আয়ের উৎস হিসেবে শ্যামপুকুরের তৃণমূল প্রার্থী জানিয়েছেন, বেতন, প্রফেশনাল ফি ও বিনিয়োগ থেকে আয় হয় তাঁর। আর তাঁর স্বামীর আয়ের উৎস হল চিকিৎসক হিসেবে প্রফেশনাল ফি ও বিনিয়োগ থেকে আয়। নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা MBBS বলে জানিয়েছেন শশী পাঁজা।
