AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

West Bengal Budget 2026: চাষিদের জন্য ‘ডবল ধামাকা’, মোট কত টাকা পাবেন জেনে নিন

West Bengal Budget 2026 prioritises agriculture: কেন্দ্রের পিএম কিষাণে এতদিন যোগ্য কৃষকরা তিনটি সমান কিস্তিতে বছরে ৬ হাজার টাকা পান। এদিন স্বপন দাশগুপ্ত ঘোষণা করেন, "কৃষির জন্য কৃষকদের বাড়তি চাহিদা মেটাতে আমি প্রতি কৃষক পরিবার পিছু বছরে অতিরিক্ত ৩ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করছি।" অর্থাৎ কেন্দ্রের ৬ হাজার টাকা ছাড়াও রাজ্যের আরও ৩ হাজার টাকা একটি কৃষক পরিবার পাবে বছরে।

West Bengal Budget 2026: চাষিদের জন্য 'ডবল ধামাকা', মোট কত টাকা পাবেন জেনে নিন
বাজেটে কৃষি নিয়ে কী ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত?Image Credit: TV9 Bangla
| Edited By: | Updated on: Jun 22, 2026 | 2:56 PM
Share

কলকাতা: কর্মসংস্থানের জন্য শিল্প দরকার। আবার কৃষিতেও গুরুত্ব বাড়াতে হবে। এই ভাবনাকে সামনে রেখেই সোমবার বাজেট পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। কৃষিতে সাড়ে আট হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দের প্রস্তাব করলেন বাজেটে। কৃষকদের জন্য একাধিক ছাড় ও কৃষিপণ্যের যাতে উপযুক্ত দাম পান তাঁরা, সেজন্য একাধিক প্রস্তাব করা হয়েছে। বাজেট শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বললেন, “এবারের বাজেটে শিল্প ও কৃষিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।” 

বাজেটে কৃষি নিয়ে কী কী বললেন অর্থমন্ত্রী? 

এদিন বাজেট পেশের সময় কৃষি নিয়ে বলতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, “কৃষিজ বিপণন বিভাগের জন্য আগামী অর্থবর্ষে ৩৬৪.৯৯ কোটি টাকা ব্যয় বরাদ্দের প্রস্তাব করছি। আর কৃষি বিভাগের জন্য আগামী অর্থবর্ষে ৮৫৬৫.৮৪ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করছি।” তন্তু চাষ নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, “তন্তু চাষের আধুনিকীকরণ, তন্তুজ দ্রব্যের প্রক্রিয়াকরণ, এই শিল্পের উন্নতি এবং বাজারে প্রবেশের সুযোগ বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের ন্যাশনাল ফাইবার মিশন প্রকল্পটি চালু করা হবে।”

কৃষকরা যাতে সহজেই সরকারি সুবিধা পেতে পারেন, সেজন্য কেন্দ্রীয় সরকারের ডিজিটাল এগ্রিকালচার মিশন রাজ্যে চালু হচ্ছে বলে অর্থমন্ত্রী জানান। স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, “ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কৃষি ফসলের জন্য ঋণ পাওয়ার সুবিধা করার জন্য রাজ্য সরকার ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সঙ্গে একযোগে RBI Unified Lending Interface (ULI) সুবিধাযুক্ত ডিজিটাল কিষাণ ক্রেডিট কার্ড ব্যবস্থা পশ্চিমবঙ্গে চালুর প্রস্তাব রাখছে। এই উদ্যোগের ফলে ঋণ অনুমোদনের সময়সীমা ১৫ দিন থেকে কমে ১৫ মিনিট হবে। এবং এপিআই-নির্ভর জমির তথ্য প্রাপ্তির মাধ্যমে কাগজবিহীন ঋণ অনুমোদন সম্ভব হবে।”

যেসব কৃষকদের ২ হেক্টর পর্যন্ত চাষযোগ্য জমি রয়েছে, তাঁদের উদ্দেশে অর্থমন্ত্রী বলেন, “যোগ্য কৃষকরা প্রকল্প ব্যয়ের মাত্র ১০ শতাংশ দিয়ে PMKSY PDMC-র সুবিধা নিতে পারবেন। এবং বাকি অর্থ PMKSY PDMC স্কিমে (যা প্রকল্প ব্যয়ের ৫৫ শতাংশ বহন করবে) রাজ্যের শেয়ার ছাড়াও অতিরিক্ত টপ-আপ হিসেবে রাজ্য সরকার বহন করবে। এর জন্য আমি ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করছি।”

চাষিদের বিদ্যুৎ খরচেও ছাড়ের কথা এদিন বাজেটে ঘোষণা করেন স্বপন দাশগুপ্ত। তিনি বলেন, “চাষের খরচ কমাতে ও চাষিদের আয় বাড়াতে সরকার কৃষি সেচের উদ্দেশে ব্যবহৃত সাবমার্সিবল পাম্পে ব্যবহৃত বিদ্যুতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ খরচের উপর ২ টাকা হিসেবে ভর্তুকি দেবে।”

কেন্দ্রের পিএম কিষাণে এতদিন যোগ্য কৃষকরা তিনটি সমান কিস্তিতে বছরে ৬ হাজার টাকা পান। এদিন স্বপন দাশগুপ্ত ঘোষণা করেন, “কৃষির জন্য কৃষকদের বাড়তি চাহিদা মেটাতে আমি প্রতি কৃষক পরিবার পিছু বছরে অতিরিক্ত ৩ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করছি।” অর্থাৎ কেন্দ্রের ৬ হাজার টাকা ছাড়াও রাজ্যের আরও ৩ হাজার টাকা একটি কৃষক পরিবার পাবে বছরে। ফসলবিমা নিয়ে এদিন অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেন, ২০২৬ সালের খরিফ মরশুম থেকে সকল ফসলের জন্য এই সুরক্ষা পাওয়া যাবে।

কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, ফসল বৈচিত্র্যকে উৎসাহ দিতে ও গ্রামীণ পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে পিএম ধনধান্য কৃষি যোজনা (DDKY) আলিপুরদুয়ার, দার্জিলিং, পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রাম জেলায় চালু করা হয়েছে বলে বাজেট পেশের সময় জানান অর্থমন্ত্রী।

কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী?

বাজেট শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এই বাজেটে শিল্প ও কৃষিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের জন্য একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে। শিল্প, কর্মসংস্থানের বাইরে অন্নদাতা ভগবান কৃষকদের দু’হাতে এই বাজেটে দেওয়া হয়েছে। এখন প্রায় ২৫০০ টাকা করে ধানের কুইন্টাল। বাড়তি ২০০ টাকা করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। আমাদের সংকল্পপত্র মেনে ধাপে ধাপে ৩১০০ টাকা করব। এখন ২০০ টাকা বাড়ানো হল। আলু চাষিদের জন্য বিশেষ প্যাকেজ দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক আলু চাষি কুইন্টালে ২০০ টাকা অতিরিক্ত পাবেন।” কৃষকদের জন্য ধীরে ধীরে আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সেকথা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই সরকার অনেকদিন থাকবে। ধীরে ধীরে কৃষকদের জন্য আমরা আরও পদক্ষেপ করব।”

Follow Us