Pratikur Rahaman: শূন্য CPM থেকে কেন প্রতীক-উরকেই নিল তৃণমূল?
TMC: তবে শুধুই গ্রহণযোগ্যতার বিষয় নয়, প্রতীক গরিব কৃষক পরিবারের ছেলে। প্রান্তিক পরিবার থেকে তিনি উঠে এসেছেন। আদতেই যিনি 'সর্বহারা নেতা'। সিপিএম-এর যে একদল ঝকঝকে তরুণ-যুব পার্টিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, তাঁর মধ্যে অন্যতম ছিলেন এই প্রতীক-উর।

কলকাতা: নেই কোনও সাংসদ, নেই কোনও বিধায়ক। থাকার মধ্যে রয়েছে একজন কাউন্সিলর ও একটা পঞ্চায়েত। চৌত্রিশ বছর ধরে যে দলটা বাংলায় দাপটের সঙ্গে শাসন করেছে এখন সেই দলটাই শূন্য। আর এই শূন্য দল থেকেই এক তরুণ-যুব যোগদান করেছেন তৃণমূলে। কথা হচ্ছে প্রতীক-উর রহমানকে নিয়ে। লোকসভা ভোটে এই প্রতীক-উরই ছিলেন তৃণমূলের নম্বর ২ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বামেদের তাস। আজ সেই তাস দিয়েই নিজেদের ঘর আরও একটু শক্ত করে নিল তৃণমূল। তবে প্রশ্ন, যে দলটা এখনও পর্যন্ত শূন্য, সেই দল থেকেই কেন প্রতীক-উরকে নিল তৃণমূল? কী কারণ রয়েছে এর পিছনে?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মূলত এর পিছনে দু’টি কারণ লক্ষ্য করেছেন। প্রথমটি হল-সংখ্যালঘু মুখ। দীর্ঘদিনের রাজনীতিবিদ তথা রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম দলের অন্যতম সংখ্যালঘু নেতা। তাঁর হাতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিয়েছেন রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কিছু দায়িত্ব। কিন্তু এত সবেরও পরও ববি হাকিমের বিরুদ্ধে রয়েছে দুর্নীতির অভিযোগ। কেন্দ্রীয় এজেন্সি তদন্ত করেছে তাঁর বাড়িতে। যদিও, সেই সময়ই রাজ্যের মন্ত্রী বারেবারে জানিয়েছিলেন, এইসব শুধুমাত্র তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা। কিন্তু সেই অর্থে তরুণ সংখ্যালঘু মুখ খুব একটা নেই বললেই চলে। প্রতীক-উর দক্ষ সংগঠক সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাঁর ছেড়ে আসা দলের কমরডেরাই এই কথা স্বীকার করেছেন। মাঠে পড়ে থেকে দিনের পর দিন তিনি লড়াই করেছিলেন তৃণমূলের বিরুদ্ধে। এখনও পর্যন্ত দুর্নীতির কোনও দাগ নেই তাঁর গায়ে। ভোটের ঠিক আগে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির ঝকঝকে এই তরুণ তৃণমূলে এলে দলের যে লাভ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। শুধু তাই নয়, গ্রামের প্রান্তিক মানুষের কাছে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির এই তরুণের গ্রহণযোগ্যতা যে কী হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
তবে শুধুই গ্রহণযোগ্যতার বিষয় নয়, প্রতীক গরিব কৃষক পরিবারের ছেলে। প্রান্তিক পরিবার থেকে তিনি উঠে এসেছেন। আদতেই যিনি ‘সর্বহারা নেতা’। সিপিএম-এর যে একদল ঝকঝকে তরুণ-যুব পার্টিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, তাঁর মধ্যে অন্যতম ছিলেন এই প্রতীক-উর। যোগ্যতা প্রমাণ করে কম বয়সেই প্রবেশ করেছিলেন রাজ্য কমিটিতে। সেই মাঠ কামড়ে পড়ে থাকা ছেলেকে ঘাসফুল শিবিরে যোগ দান করানো মানে দলে বাড়তি অক্সিজেন জোগান দেওয়া। যে সময় অভিষেক যুবদের বারেবারে রাজনীতিতে আসার জন্য আবেদন জানাচ্ছেন, একদল তরুণ মুখ দিয়ে ‘অভিষেকে সেনা’ তৈরি করেছেন সেখানে প্রতীক-উরদের মতো যুবদের জায়গা ঠিক কতখানি তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
বিশ্লেষকদের একাংশের এও মত, প্রতীক-উরের এই যোগদান বিরোধীদের উদ্দেশেও খানিক বার্তা অভিষেকের। যার বিরুদ্ধে একসময় লোকসভা ভোটে প্রতীক-উর লড়াই করেছিলেন আজ তাঁর হাতেই ঘাসফুলের পতাকা তুলে নিজের দলে টেনে নেওয়া কিছুটা হলেও ক্ষমতার আস্ফালনই বলা চলে।
