RG Kar: লিফটে পিষে যাচ্ছে ভাই…! মধ্যরাতে কী ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা, ভুলতে পারছেন না দিদি
Lift Accident: ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে সেই রাতের ঘটনার কথা বলতে গিয়ে শিউরে উঠছেন স্ত্রী। লিফট দুর্ঘটনায় আঘাত পেয়েছেন তিনিও। আপাতত হাসপাতালেই আছেন। সেখানে বসেই তিনি জানালেন, যখন তিনি ও তাঁর ছেলে আটকে পড়েছিলেন, তখন রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁর স্বামী তাঁর হাতের উপর এসে পড়েন।

কলকাতা: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের সেই ভয়াবহ রাত হয়ত কোনওদিনই ভুলতে পারবে না নাগেরবাজারের ওই পরিবার। জন্মদিনেই মৃত্যু হয়েছে অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। স্ত্রী সোনালি আর তাঁর তিন বছরের সন্তানের আর্ত চিৎকার কানে যায়নি কারও! কোথায় ছিলেন লিফটম্যান, কোথায় নিরাপত্তারক্ষী? লিফটের রক্ষণাবেক্ষণ কাদের হাতে থাকে? প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে যখন স্বামী-স্ত্রী, সন্তান লিফটে আটকে, তখন কেন কেউ তালা খুলতে এগিয়ে গেল না?
ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে সেই রাতের ঘটনার কথা বলতে গিয়ে শিউরে উঠছেন স্ত্রী। লিফট দুর্ঘটনায় আঘাত পেয়েছেন তিনিও। আপাতত হাসপাতালেই আছেন। সেখানে বসেই তিনি জানালেন, যখন তিনি ও তাঁর ছেলে আটকে পড়েছিলেন, তখন রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁর স্বামী তাঁর হাতের উপর এসে পড়েন। তখন তিনি চিৎকার করেছিলেন, কেউ শুনতে পাচ্ছে কি না বুঝতে পারেননি।
ঘটনার সময় লিফটের বাইরে ছিলেন অরূপের দিদি। ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রীর চিৎকার শুনে তিনি দৌড়ে গিয়ে সবাইকে ডাকতে থাকেন। বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করতে থাকেন তিনি। অরূপের দিদি বলেন, “কেউ সাড়া দেয়নি। আমাকে বলা হয়, এভাবে চেঁচাবেন না, ডিস্টার্ব হচ্ছে। একজনের প্রাণ চলে যাচ্ছে অথচ ডাক্তাররাও কেউ সেদিন এগিয়ে আসেনি।”
জানা গিয়েছে, বেসমেন্টে লিফটের দরজা খুলেছিল, বেরনোর সুযোগও ছিল অরূপদের। কিন্তু সেখানে গ্রিলে তালা দেওয়া ছিল, চাবি কারও কাছে ছিল না বলেই অভিযোগ। মৃতের দিদির প্রশ্ন, “অত বড় হাসপাতাল, কারও কাছে চাবি নেই কেন? আর চাবি নেই যখন, তখন তালা দেওয়া থাকলই বা কেন!” যদিও এখন এই সব প্রশ্নের উত্তর পেয়েও আর কোনও লাভ নেই।
