
কলকাতা: বছর ১৩ আগে উত্তর ২৪ পরগনার কামদুনিতে এক কলেজ ছাত্রীকে গণধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ শোরগোল পড়েছিল রাজ্যে। কামদুনির সেই নৃশংস ঘটনার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কামদুনির সেই আন্দোলনের অন্যতম টুম্পা কয়াল কি এবার বিজেপির টিকিটে বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন? শনিবার সল্টলেকে বিজেপির দফতরে শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে টুম্পার বৈঠকের পর এই নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
বিজেপির সঙ্গে টুম্পার সম্পর্ক অনেকদিনের। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্ম পতাকা হাতে নেননি তিনি। দিন কয়েকের মধ্যে টুম্পা বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নিতে পারেন বলে খবর। রাজনীতির কারবারিরা বলছেন, মধ্যমগ্রাম আসন থেকে বিজেপির প্রার্থী হিসাবে টুম্পাকে দেখা গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। কারণ, বিজেপি এখনও ৩৯টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেনি। সেই প্রার্থী তালিকা নিয়েই রবিবার দিল্লিতে আলোচনা হওয়ার কথা। সেই বৈঠকে থাকবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তার আগে বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীকের সঙ্গে এদিন দেখা করেন কামদুনি আন্দোলনের অন্যতম মুখ টুম্পা।
২০১৩ সালের ৭ জুন কামদুনিতে পাঁচিলঘেরা ফাঁকা জমি থেকে উদ্ধার হয়েছিল এক কলেজছাত্রীর দেহ। অভিযোগ ওঠে, গণধর্ষণের পর খুন করা হয় ওই ছাত্রীকে। দশদিন পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কামদুনি যান। মুখ্যমন্ত্রীর সামনেই সেদিন সরব হয়েছিলেন মৃত ছাত্রীর বান্ধবী টুম্পা কয়াল। ধীরে ধীরে কামদুনি আন্দোলনের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠে টুম্পা কয়াল ও মৌসুমী কয়াল।
কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের মামলায় ব্যাঙ্কশাল আদালত ৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। আর ৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। তবে ২০২৩ সালের অক্টোবরে কলকাতা হাইকোর্ট ৩ আসামির কারাদণ্ড রদ করে। ২ দোষীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় আর ৪ জনকে খালাসের নির্দেশ দেয়। হাইকোর্টের রায়ে সেদিন ভেঙে পড়েছিলেন টুম্পা কয়ালরা। এবার বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফের আলোচনায় কামদুনির প্রতিবাদী মুখ টুম্পা। তিনি বিজেপির টিকিটে প্রার্থী হন কি না, সেটাই দেখার।