বাড়ির বাইরে বের হওয়া মানেই হালকা মেকআপ আর লিপস্টিক (Lipstick) মাস্ট। অফিসের বের হওয়ার যতই তাড়া থাকুক, ঠোঁটে লিপ শেড ছাড়া বের হোন না? রোজ লিপস্টিক ব্যবহার করার ফলে ঠোঁটের উপর কালচে ভাব (Dark Lips) লক্ষ্য করা যায়। সাজ যতঅ ক্যাজুয়াল হোক না কেন সামান্য লিপস্টিক ঠোঁটে না দিলে পছন্দ হয় না অনেকেরই। রোজ যদি লিপস্টিক ব্যবহার করতেই হয়, তাহলে ঠোঁটের যত্ন (Lips Care) নেওয়াও প্রয়োজন। জন্মের সময় প্রত্যেকের ঠোঁটে আলাদা গোলাপী আভা থাকে। তবে মেকআপ, লিপস্টিক ব্যবহারের ফলে বাড়তে শুরু করে হাইপারপিগমেন্টেশনের সমস্যা। যার ফলে ঠোঁটের মধ্যে কালচে ভাব লক্ষ্য করা যায়। কালো ঠোঁটকে ফের গোলাপী করে তুলতে ঘরোয়া কিছু প্রতিকার রয়েছে, যার মধ্যে মধু ও লেবুর রস অল অন্যতম উপকরণ।
তবে ঠোঁটের কালো ছোপ বা কালচে ভাব দূর করার আগে এর কারণগুলি জেনে রাখা উচিত। দূষণ, সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি , কমদামি প্রসাধনী দ্রব্য ব্যবহারে ঠোঁটের পিগমেন্টেশন সৃষ্টি করে। ঠোঁটের স্বাভাবিক গোলাপীভাব ও কোমলতা হ্রাস পায়।
ঠোঁট কালো হওয়ার কারণ
– সূর্যের ক্ষতিকর ইউভি রশ্মির কারণে ত্বকে মেলানিন উৎপাদন বাড়িয়ে পিগমেন্টেশন হতে পারে।
– ধূমপায়ীদের মেলানোসিস, অত্যাধিক ধূমপান দ্বারা আনা এক ধরনের পিগমেন্টেশন তৈরি হয়।
– টুথপেস্ট, লিপস্টিক ইত্যাদির মতো নির্দিষ্ট জিনিসের অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া থেকেও ঠোঁট কালো হয়ে যেতে পারে।
– Laugier-Hunziker syndrome, Peutz-Jeghers syndrome, posttraumatic pigmentation এর মতো অসুস্থতার চিকিৎসার কারণেও ঠোঁট কালো হয়ে যেতে পারে। এছাড়া কেমোথেরাপি, অ্যানিমিয়া,ভিটামিনের অভাব ও অত্যধিক ফ্লোরাইড ব্যবহারে ঠোঁট কালচে হয়ে যায়।
কালো ঠোঁটের জন্য লেবু-মধু লিপ সিরাম
পদ্ধতি
– একটি বাটিতে ১-২ চা চামচ লেবুর রস ও ১ চামচ মধু যোগ করুন।
– উপাদানগুলি ভালো করে মিশিয়ে নিন।
– এরপর ঠোঁটের উপর এই প্য়াকটি পুরু করে প্রয়োগ করুন।
– এক ঘণ্টা রেখে দিয়ে একটি নরম, ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন।
লেবু-মধু লিপ সিরামের উপকারিতা
ব্লিচিং এজেন্ট হিসাবে লেবুর বেশ সুনাম রয়েছে। কালো ঠোঁটের জন্য মোক্ষম দাওয়াই। লেবুতে উপস্থিত সাইট্রিক অ্যাসিড কালচে ভাবকে হালকা করে ঠোঁটের স্বাভাবিক গোলাপী আভা এনে দিতে সক্ষম। মধু এমন একটি প্রাকৃতিক উপাদান যা শুধু ঠোঁটকে হালকা করতেই সাহায্য করে তাই নয়, নরম করে তুলতেও চেষ্টা করে। এছাড়াও নিয়মিত জীবনযাপনের আচরণে কিছু পরিবর্তন করতে পারেন, যেমন সানস্ক্রিন ব্যবহার করা, কফি খাওয়া কমানো , টুথপেস্ট পরিবর্তন করা।