জল কম খেলে বিপদ, বেশি খেলে আরোও বড় বিপদ, জানেন দিনে ঠিক কতটা জল পান করবেন?
অতিরিক্ত জলপান কী কী ক্ষতি করতে পারে? বমি বমি ভাব থেকে শুরু করে হতে পারে ডায়ারিয়া। শুধু কম জলপানেই নয় প্রচুর পরিমানে জলপানেও হতে পারে মারাত্মক মাথা যন্ত্রনা, কারণ প্রচুর জল রক্তে নুনের মাত্রা অনেকটাই কমিয়ে দেয় ফলস্বরূপ ব্রেনের ওপর প্রভাব পড়ে। প্রয়োজনের বেশি জলপান দেহে ইলেকট্রোলাইটসের ভারসাম্য বিগড়ে দেয়। ফলে টান লাগে পেশীতে।

বর্তমান সময়ে বাড়ছে ডায়েট মেনে চলার প্রবণতা। ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ না নিয়েই সোশ্য়াল মিডিয়া দেখে আর ইন্টারনেট ঘেঁটে অনেকেই তৈরি করে নিচ্ছেন নিজেদের ডায়েট রুটিন। অনেকেই বলেন সুস্থ থাকতে সারাদিনে প্রচুর পরিমাণে জল খেতে হবে। জানেন অতিরিক্ত জলপান কমিয়ে দিতে পারে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা? শুধু তাই নয় সম্মুখীন হতে পারেন ভয়াবহ শারীরিক অসুস্থতার।
কথায় আছে ‘জল-ই জীবন’। ভাবছেন তো, কিভাবে সেই জলই ডেকে আনতে পারে বিপদ? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রচুর পরিমাণে জলপান রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা কমিয়ে দেয়,ফলে মস্তিষ্কের কোষগুলো ফুলে উঠে মস্তিষ্কের উপর চাপ সৃষ্টি করে,চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘হাইপোন্যাট্রেমিয়া’ যার জেরে বিভ্রান্তি,খিঁচুনি,কোমায় চলে যাওয়া এমনকী, মৃত্যুও হতে পারে।
অতিরিক্ত জলপান কী কী ক্ষতি করতে পারে? বমি বমি ভাব থেকে শুরু করে হতে পারে ডায়ারিয়া। শুধু কম জলপানেই নয় প্রচুর পরিমানে জলপানেও হতে পারে মারাত্মক মাথা যন্ত্রনা, কারণ প্রচুর জল রক্তে নুনের মাত্রা অনেকটাই কমিয়ে দেয় ফলস্বরূপ ব্রেনের ওপর প্রভাব পড়ে। প্রয়োজনের বেশি জলপান দেহে ইলেকট্রোলাইটসের ভারসাম্য বিগড়ে দেয়। ফলে টান লাগে পেশীতে।
ডায়েটিশিয়ান ভাস্বতী বন্দোপাধ্যায় চট্টোপাধ্যায় এই বিষয়ে TV9 Bangla কে বলেছেন পরিমিত জলপান অবশ্যই প্রয়োজন তবে অতিরিক্ত জলপান ডাকতে পারে বিপদ। তিনি বলেছেন ” প্রয়োজনের বেশি জল খেলে ইডিমা (ইডিমা হলো এমন একটি চিকিৎসাগত অবস্থা যাতে শরীরের টিস্যুতে অতিরিক্ত তরল জমা হওয়ার ফলে শরীর ফুলে যেতে পারে।), শরীরে ক্লান্তি , নেগেটিভ এনার্জি কাজ করে, খাবার সঙ্গে সঙ্গে জল খেলে বা বেশি জল খেলে হজমের সমস্যা হয়। প্রতিটা মানুষের উচ্চতা ও ওজন অনুযায়ী জলের পরিমান নির্ধারন করা হয়, কেউ অতিরিক্ত জল খেলে গরমে প্রচুর ঘাম, ইউরিনেশন হবে, শীতে বার বার ইউরিনেশন হবে। সাইকোলজিকাল সমস্যাও হতে পারে।” তবে তিনি বলেছেন কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে, গর্ভবতী হলে, স্কিনের সমস্যা থাকলে জল বেশি খাওয়া প্রয়োজন তবে অবশ্যই অভিজ্ঞ কারও পরামর্শ নিয়ে।
যত বেশি জলপান করবেন কিডনিকে কাজ করতে হবে তত বেশি। কিডনি অতিরিক্ত কাজ করলে প্রয়োজনের বেশি হরমোন সক্রিয় হয়ে উঠবে,ফলে শরীরে দেখা দিতে পারে ক্লান্তি। কিডনির সমস্যায়,হার্ট ফেলিওর এবং এন্ড স্টেজ লিভার ডিজিজ থাকলে অবশ্য়ই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে জলপান করা দরকার।
ঠিক কতটা জলপান করলে বিপদ আপনার থেকে দূরে থাকবে ? অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের মতে,দিনে ৩ লিটার জলপান করাই যথেষ্ট। তবে জলের প্রয়োজনীয়তা নির্ভর করে প্রতিদিন আপনি কতটা কাজ করছেন তার ওপর। তবে সুস্থ থাকতে ঠিক কতটা জল আপনার প্রয়োজন? জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। আপনি অতিরিক্ত জলপান করে বিপদ ডেকে আনছেন না তো? শরীর সুস্থ রাখতে অবশ্যই চিকিৎসকদের পরামর্শ মত জল পান করুন। নিজে সুস্থ থাকুন আর সুস্থ রাখুন আপনার পরিবারকে।
