এক থালায় খাবার খাচ্ছেন? ভালোবাসার এই অভ্যাসই কি ডেকে আনছে দাম্পত্য কলহ! কী বলছে শাস্ত্র?
যাঁরা মনে করেন এক থালায় খেলে টান বাড়ে, শাস্ত্র কিন্তু তাঁদের সাবধান করছে। বলা হচ্ছে, এই অভ্যাসের ফলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অকারণ দাম্পত্য-কলহ বৃদ্ধি পায়। ছোটখাটো বিষয়ে মতপার্থক্য এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে তা বড় বিবাদের রূপ নেয়। শুধু তাই নয়, এর ফলে একে অপরের প্রতি দায়বদ্ধতা বা দায়িত্ববোধও নাকি কমতে শুরু করে।

বাঙালি বাড়িতে একসময় নিয়ম ছিল কর্তার খেয়ে যাওয়া থালায় গিন্নি ভাত খাবেন। তবে আধুনিক সময়ে ছবিটা বদলেছে। এখনকার দম্পতিরা ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে একই সঙ্গে, একই থালায় খাবার খেতে পছন্দ করেন। বিশেষ করে নবদম্পতিদের মধ্যে এই প্রবণতা সবথেকে বেশি। কিন্তু আপনি কি জানেন, যে অভ্যাসকে আপনি প্রেমের প্রতীক ভাবছেন, শাস্ত্রের বিধান অনুযায়ী তা আপনার সাজানো সংসারে অশান্তির আগুন জ্বালিয়ে দিতে পারে? শুনতে অবাক লাগলেও, প্রাচীন শাস্ত্র মতে স্বামী-স্ত্রীর নিয়মিত এক পাত্রে ভোজন করা মোটেই শুভ লক্ষণ নয়। বরং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে ।
কেন এক থালায় খাওয়া বারণ?
শাস্ত্রীয় বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত এক থালায় খাবার খেলে দম্পতিদের মধ্যে নেতিবাচক শক্তির সঞ্চার হয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে ঘরের লক্ষ্মীর ওপর। বিশ্বাস করা হয়, এই অভ্যাসের ফলে পরিবারে ধীরে ধীরে আর্থিক অনটন দেখা দেয়। স্বচ্ছল সংসারেও অভাবের কালো ছায়া নেমে আসতে পারে। আপনি যদি মাঝেমধ্যে শখে বা বিশেষ কোনও দিনে সঙ্গীর সঙ্গে পাত ভাগ করে নেন, তবে তা বড় কোনও বিপত্তি ঘটে না। কিন্তু এটাকে অভ্যাসে পরিণত করলেই ঘনিয়ে আসতে পারে দারিদ্র্য।
যাঁরা মনে করেন এক থালায় খেলে টান বাড়ে, শাস্ত্র কিন্তু তাঁদের সাবধান করছে। বলা হচ্ছে, এই অভ্যাসের ফলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অকারণ দাম্পত্য-কলহ বৃদ্ধি পায়। ছোটখাটো বিষয়ে মতপার্থক্য এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে তা বড় বিবাদের রূপ নেয়। শুধু তাই নয়, এর ফলে একে অপরের প্রতি দায়বদ্ধতা বা দায়িত্ববোধও নাকি কমতে শুরু করে। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে যে ভারসাম্য থাকা প্রয়োজন, তাও নষ্ট হয়ে যায় এই একটি ভুলের কারণে।
শাস্ত্রের এই বিধানে আরও কিছু কড়া নিয়ম রয়েছে। বলা হয়েছে, খাবারের পাত্র যদি কেউ ডিঙিয়ে যায় কিংবা কারও পা যদি ভুলবশত ভাতের থালায় লেগে যায়, তবে সেই অন্ন গ্রহণ করা একেবারেই উচিত নয়। এতে অশুভ শক্তির প্রভাব বাড়ে। সংসারে সুখ-শান্তি বজায় রাখতে এবং আর্থিক শ্রীবৃদ্ধি ধরে রাখতে প্রতিটি মানুষের উচিত কিছু চিরাচরিত নিয়ম মেনে চলা। অন্তত শাস্ত্র বলছে তেমনটাই।
