AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

কাঁচা ডিম খেলে কি বেশি প্রোটিন মেলে? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

তাপ বা আগুনের সংস্পর্শে এলে ডিমের পুষ্টিগুণ কমে যায়, তাই কাঁচা খেলেই বোধহয় শরীরের বেশি লাভ। তবে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং পুষ্টিবিদরা এই ধারণাকে সম্পূর্ণ ভুল এবং বিপজ্জনক বলে মনে করছেন।

কাঁচা ডিম খেলে কি বেশি প্রোটিন মেলে? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা
| Updated on: Jan 28, 2026 | 4:00 PM
Share

শরীরচর্চাকারী বা ক্রীড়াবিদদের অনেকের মধ্যেই কাঁচা ডিম খাওয়ার একটি প্রবণতা দেখা যায়। প্রচলিত ধারণা হল, তাপ বা আগুনের সংস্পর্শে এলে ডিমের পুষ্টিগুণ কমে যায়, তাই কাঁচা খেলেই বোধহয় শরীরের বেশি লাভ। তবে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং পুষ্টিবিদরা এই ধারণাকে সম্পূর্ণ ভুল এবং বিপজ্জনক বলে মনে করছেন।

কাঁচা না রান্না করা, শরীরে প্রোটিন শোষিত হয় কোথায় বেশি? বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঁচা ডিমের তুলনায় রান্না করা ডিম থেকে শরীর অনেক বেশি প্রোটিন গ্রহণ করতে পারে। নোয়েডার ‘নিদান মাদার অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার’-এর শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ রাজীব রঞ্জন জানান, ডিম রান্না করে খেলে শরীর তার ৯০ শতাংশ পর্যন্ত প্রোটিন শোষণ (Absorption) করতে পারে। অন্যদিকে, কাঁচা ডিম খেলে শরীর মাত্র ৫০ শতাংশ প্রোটিন গ্রহণ করতে সক্ষম হয়। অর্থাৎ, কাঁচা ডিম খেলে প্রোটিনের অর্ধেকটাই অপচয় হয়।

বিশেষজ্ঞরা কাঁচা ডিম খাওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু সতর্কবার্তা দিয়েছেন:

কাঁচা ডিমে ‘সালমোনেলা’ নামক এক ধরণের ব্যাকটেরিয়া থাকার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। এর ফলে ফুড পয়জনিং, ডায়রিয়া, বমি এবং পেটের সমস্যা হতে পারে। কাঁচা ডিমে ‘অ্যাভিডিন’ নামক একটি প্রোটিন থাকে যা শরীরে ভিটামিন-বি৭ বা বায়োটিন শোষণে বাধা দেয়। এর ফলে চুল পড়া এবং নখের ভঙ্গুরতা দেখা দিতে পারে। রান্না করলে এই অ্যাভিডিন নষ্ট হয়ে যায় এবং বায়োটিন সহজেই শরীর গ্রহণ করতে পারে।

কাঁচা ডিম খেলে বমি বমি ভাব, গ্যাস এবং বদহজমের মতো সমস্যা হওয়া খুবই সাধারণ।

ডিমে কেবল প্রোটিন নয়, রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ডি, বি১২, জরুরি ফ্যাট এবং খনিজ উপাদান। তবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ হলো, ব্যক্তির বয়স এবং ওজন অনুযায়ী ডিমের সংখ্যা নির্ধারণ করা উচিত। যেহেতু ডিমের প্রকৃতি গরম, তাই গরমকালে এর পরিমাণ সীমিত রাখাই শ্রেয়।

পরিশেষে, পুষ্টির পূর্ণ সুবিধা পেতে এবং শরীরকে ব্যাকটিরিয়া মুক্ত রাখতে ডিম সবসময় সেদ্ধ বা রান্না করেই খাওয়া উচিত।