বেশিদিন ধরে একই টুথব্রাশ ব্যবহার করছেন? অবহেলা করলেই মুশকিল
আপনি যদি সর্দি-কাশি, ভাইরাল জ্বর বা মুখের সংক্রমণে ভুগে থাকেন, তাহলে সুস্থ হওয়ার পরই ব্রাশ বদলে নেওয়া উচিত বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ পুরনো ব্রাশে থেকে যাওয়া জীবাণু পুনরায় সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এমন সতর্কবার্তাও দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

সকালে ঘুম থেকে উঠেই দাঁত মাজা, রাতে শোয়ার আগে আবার দাঁত মাজা এই অভ্যাস প্রায় সবারই আছে। কিন্তু যে টুথব্রাশ দিয়ে এত যত্ন করে দাঁত মাজছেন, সেটি শেষ কবে বদলেছেন মনে আছে? অনেকেই বছরের পর বছর একই ব্রাশ ব্যবহার করেন। আর সেখানেই শুরু হয় সমস্যা।
দাঁতের চিকিৎসকদের মতে, সাধারণভাবে প্রতি ৩ থেকে ৪ মাস অন্তর টুথব্রাশ বদলানো উচিত। আমেরিকান ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশন সহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থাও একই পরামর্শ দিচ্ছেন। কারণ, নির্দিষ্ট সময় পর ব্রাশের ব্রিসল নরম হয়ে বেঁকে যায়। তখন তা দাঁতের ফাঁক থেকে জমে থাকা প্লাক ঠিকমতো পরিষ্কার করতে পারে না।
দন্তচিকিৎসকরা বলছেন, “ব্রিসল ছড়িয়ে গেলে বা বা ব্রাশের মাথা ফোলা দেখলে বুঝতে হবে ব্রাশ তার কার্যকারিতা হারিয়েছে।”
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ক্ষয়প্রাপ্ত ব্রিসল দাঁতের এনামেল ও মাড়ির সুরক্ষায় আগের মতো কার্যকর থাকে না। ফলে দাঁতে প্লাক জমে ক্যাভিটি, মাড়ির প্রদাহ বা রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল জীবাণু। আমাদের মুখের ভিতর স্বাভাবিকভাবেই অসংখ্য ব্যাকটেরিয়া থাকে। প্রতিবার ব্রাশ ব্যবহারের পর সেই জীবাণুর কিছু অংশ ব্রাশের লোমে থেকে যায়। ঠিকভাবে শুকোতে না দিলে সেখানে ব্যাকটেরিয়া বাড়তে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা বলেন, ব্রাশ ব্যবহারের পর ভালো করে ধুয়ে খোলা জায়গায় শুকোতে দিতে হবে। ঢাকনা দিয়ে ভেজা অবস্থায় রাখা ঠিক নয়।
আপনি যদি সর্দি-কাশি, ভাইরাল জ্বর বা মুখের সংক্রমণে ভুগে থাকেন, তাহলে সুস্থ হওয়ার পরই ব্রাশ বদলে নেওয়া উচিত বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ পুরনো ব্রাশে থেকে যাওয়া জীবাণু পুনরায় সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এমন সতর্কবার্তাও দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
শিশুদের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। তারা অনেক সময় বেশি জোরে ব্রাশ করে, ফলে ব্রিসল দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। তাই অভিভাবকদের নিয়মিত নজর রাখা উচিত।
একটি ছোট অভ্যাস বদলালেই বড় সমস্যার হাত থেকে বাঁচা যায়। দামি টুথপেস্ট ব্যবহার করলেই হবে না, কার্যকর ব্রাশও সমান জরুরি। তাই সময় হলেই বদলে ফেলুন টুথব্রাশ।
