পুষ্টিকর খাবার খেতে গিয়ে খরচ বাড়ছে? ঠিকঠাক প্ল্যানিংয়ে বাঁচবে পকেট ও শরীর দুইই
প্রথমেই সারাদিন কী খাবেন সেটা ঠিক করে নিতে হবে। প্রতিদিন কী রান্না হবে, সেটা ঠিক না করে বাজারে গেলে অপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনা হয়ে যায়। সপ্তাহের শুরুতেই যদি মোটামুটি একটা খাবারের তালিকা বানিয়ে নেওয়া যায়, তাহলে বাড়তি খরচ অনেকটাই কমে। এতে খাবার নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাও কম থাকে।

আজকাল বাজারে পা দিলেই মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর প্রথম চিন্তা একটাই পুষ্টি আর খরচ দুটো একসঙ্গে সামলানো যাবে তো? অনেকের ধারণা, ভালো ও স্বাস্থ্যকর খাবার মানেই বেশি টাকা খরচ। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, বিষয়টা মোটেও এমন নয়। একটু বুদ্ধি করে পরিকল্পনা করলে, দৈনন্দিন খরচের মধ্যেই পুষ্টিকর খাদ্য খাওয়া সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুষ্টিকর খাবার মানেই দামি ফল, বিদেশি শাকসবজি বা বিশেষ খাদ্যসামগ্রী নয়। বরং আমাদের চারপাশে সহজলভ্য বহু খাবারই আছে, যেগুলি নিয়ম মেনে খেলে শরীর সুস্থ থাকে, আবার পকেটেও টান পড়ে না।
খরচ বাঁচাবেন কী করে?
প্রথমেই সারাদিন কী খাবেন সেটা ঠিক করে নিতে হবে। প্রতিদিন কী রান্না হবে, সেটা ঠিক না করে বাজারে গেলে অপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনা হয়ে যায়। সপ্তাহের শুরুতেই যদি মোটামুটি একটা খাবারের তালিকা বানিয়ে নেওয়া যায়, তাহলে বাড়তি খরচ অনেকটাই কমে। এতে খাবার নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাও কম থাকে।
পুষ্টির দিক থেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ হল মৌসুমি এবং স্থানীয় ফল ও সবজি। মরসুমি শাকসবজি বা ফলের দাম কম হয় এবং পুষ্টিগুণও ভালো থাকে। কলাই শাক, পুঁই শাক, লাউ, কুমড়ো, পেঁপে বা কলা। এগুলো নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারেল পায়, আবার খরচও বাড়ে না।
প্যাকেটজাত খাবারের উপর নির্ভরতাও বেশ বড় সমস্যার। বাইরে থেকে কেনা খাবার কিছু সময় সস্তা মনে হলেও, সেগুলোতে পুষ্টি কম এবং খরচ বেশি পড়ে। তার পরিবর্তে বাড়িতে রান্না করা ভাত, ডাল, সবজি, ডিম বা দই খেলে খরচও কমবে শরীরও ভালো থাকবে।
অনেকেই ভাবেন, প্রোটিন মানেই দামি মাছ বা মাংস। ডাল, ছোলা, মটরশুঁটি, ডিম বা বাদামের দামও কম আবার প্রোটিনেও পরিপূর্ণ। এগুলো তুলনামূলক কম দামে সহজেই পাওয়া যায় এবং নিয়মিত খেলে শরীর সুস্থ থাকে।
খরচ বাঁচানোর আরেকটি উপায় হল একসঙ্গে বেশি পরিমাণে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী কেনা। চাল, ডাল বা আটা যদি একবারে বেশি নেওয়া যায়, তাহলে দাম তুলনামূলক কম পড়ে। এতে বারবার বাজারে যাওয়ার ঝামেলাও কমে।
অনেক বাড়িতেই রান্না করা খাবার ফেলে দেওয়া হয়। অথচ আগের দিনের ভাত বা সবজি সামান্য পরিবর্তন করে নতুন খাবার বানানো যায়। এতে একদিকে খাবার নষ্ট হয় না, অন্যদিকে নতুন করে রান্নার খরচও বাঁচে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সবচেয়ে জরুরি বিষয় হল সচেতনতা। দাম দেখে নয়, পুষ্টিগুণ বুঝে খাবার বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। সঠিক পরিকল্পনা আর কিছু ছোট অভ্যাস বদলালেই, অল্প খরচে সুস্থ ও পুষ্টিকর জীবনযাপন করা সম্ভব।
