এশিয়ার সব থেকে ছোট মা কালী কোথায় আছেন জানেন? ইতিহাসটা জানেন
ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায়, উনিশ শতকের গোড়ার দিকে আজকের এই দক্ষিণ কলকাতার এলাকা মোটেই এমন ছিল না। তখন বিস্তীর্ণ অংশ জুড়ে ছিল জঙ্গল, ফাঁকা জমি। লোকালয় থেকে একেবারেই বিচ্ছিন্ন ছিল এই পথ। মাঝ দিয়ে বয়ে যেত আদিগঙ্গা। বিভিন্ন ঐতিহাসিক লেখা ও স্থানীয়দের সূত্র অনুযায়ী , এই এলাকায় এক সময় নিয়মিত ডাকাতদের আনাগোনা ছিল । জঙ্গলকীর্ণ কলকাতায় ডাকাতদের যথেষ্ট দাপট ছিল।

কলকাতার দক্ষিণ অংশে, ব্যস্ত রাস্তা আর ঘন জনবসতির মাঝেই দাঁড়িয়ে রয়েছে একটি কালীমন্দির। বাইরে থেকে দেখলে এটি আর পাঁচটা পুরনো মন্দিরের মতোই। কিন্তু নামটা চোখে পড়লেই থমকে যান অনেকেই- ডাকাত কালীবাড়ি।
শহরের বুকে থাকা একটি দেবালয়ের নামের সঙ্গে কেন জুড়ে রয়েছে ‘ডাকাত’ শব্দটি? এই নাম কি নিছক লোককথা, নাকি সত্যিই লুকিয়ে আছে কোনও অন্ধকার ইতিহাস?
ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায়, উনিশ শতকের গোড়ার দিকে আজকের এই দক্ষিণ কলকাতার এলাকা মোটেই এমন ছিল না। তখন বিস্তীর্ণ অংশ জুড়ে ছিল জঙ্গল, ফাঁকা জমি। লোকালয় থেকে একেবারেই বিচ্ছিন্ন ছিল এই পথ। মাঝ দিয়ে বয়ে যেত আদি গঙ্গা। বিভিন্ন ঐতিহাসিক লেখা ও স্থানীয়দের সূত্র অনুযায়ী , এই এলাকায় এক সময় নিয়মিত ডাকাতদের আনাগোনা ছিল । জঙ্গলকীর্ণ কলকাতায় ডাকাতদের যথেষ্ট দাপট ছিল।
সেই জঙ্গলের গভীরে সেই সময়ের কুখ্যাত ডাকাত মনোহর বাগদীর ডেরা। এমনই তার ক্ষমতা ছিল যে স্থানীয় জমিদারদের পাশাপাশি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকেও নাজেহাল করে ছেড়েছিল। ডাকাতি করতে বের হওয়ার আগে তিনি এবং তাঁর দল এখানে কালীপুজো করতেন।
শোনা যায় একদিন মাঝরাতে মনোহর আর তার দলবল ডাকাতি করে ফেরার সময় দেখতে পায় জঙ্গলের মধ্যে বাঘের আক্রমণে আহত এক মহিলা জ্ঞান হারিয়েছেন। মায়ের পাশে বসে কাঁদছে একটি ছোট্ট শিশু। শিশুটির কান্নায় মনোহরের কঠিন মন নরম হতে থাকে। দুজনকেই তুলে এনে সেবা শুশ্রুষা করা শুরু করে। মারা যান মহিলা। এদিকে ডাকাত সর্দার মা হারা সেই শিশুটিকে নিয়ে পড়ল মহা বিপদে। সেতো ডাকাত! বাচ্চা কিভাবে মানুষ করবে? তবে বাচ্চাটি তার মনে পিতৃস্নেহ জাগায়। মনোহর তাকে নিজের কাছেই রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। বাচ্চাটির নাম দেন হারাধন। সন্তানস্নেহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার ডাকাতির ইচ্ছে চলে যেতে থাকে। হারাধনকে পাঠশালাতেও ভর্তি করেন তিনি। তখন হারাধনের নাম হয় হারাধন বিশ্বাস।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, ছেলের কাছে নিজের ডাকাতি করার কথা লুকানোর অনুতাপে মৃত্যুর মুখে এগিয়ে যেতে থাকেন মনোহর। মৃত্যুর আগে সে তার ডাকাতি করা কয়েক ঘড়া মোহর দিয়ে হারাধনকে বলেন যে তিনি গুপ্তধন পেয়েছিলেন এবং তাঁর মৃত্যুর পর এলাকায় জলাশয় বানাতে বলেন। বাবার কথা পালন করে হারাধন। এলাকার মানুষের জলকষ্ট দূর হয়।
একটি কষ্টি পাথরের কালীমূর্তির পুজো করত মনহর ডাকাত। সেই কালিমুর্তির পুজো হয় আজও। মনোহরের মারা যাওয়ার পর দীর্ঘদিন সেই মূর্তিটি পড়েছিল পাতকুয়োতে। পরে মা এলাকার এক বাসিন্দা কামাক্ষা চরণ মুখোপাধ্যায়কে স্বপ্নাদেশ দেন তাঁর মন্দির প্রতিষ্ঠা করার। দেবী এতটাই ছোট যে তার নাম হয় ডাকাতের ছানা কালী। শোনা যায় এশিয়ার সব থেকে ছোট মায়ের মূর্তি মনহর পুকুর ডাকাত কালীবাড়ির ছানা কালী।
