DRDO GaN Chip: কীভাবে গ্যালিয়াম নাইট্রাইড চিপ তৈরি করে ফেলল ভারত?
Defence Research and Development Organisation: ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট বা MMIC তৈরি করার ফলে ভারত ঢুকে পড়ল পৃথিবীর ৬টি দেশের মধ্যে। যে সব দেশ এই সব অত্যাধুনিক চিপ নিজেরাই তৈরি করতে পারে। গ্যালিয়াম নাইট্রাইড চিপ সাধারণ সিলিকন চিপের থেকে অনেকটা বেশী শক্তিশালী। অনেক বেশি তাপমাত্রা, হাই ভোল্টেজ আর দ্রুত স্যুইচিং; সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে রয়েছে এই গ্যালিয়াম নাইট্রাইড চিপ।

প্রায় ৩ বছর আগের এক ঝকঝকে সকাল। দিল্লির এক ল্যাবেরোটরিতে হঠাৎ উচ্ছ্বাস। কিন্তু কীসের সেই আনন্দ? আসলে সেই দিনই ভারতের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির এক বিরাট অধ্যায় লেখা হয়ে গেল। ডিআরডিও-র সলড স্টেট ফিজিক্স ল্যাবেরটরি ও হায়দরাবাদে অবস্থিত ডিআরডিও-রই গ্যালিয়াম আর্সেনাইড এনাবলিং টেকনোলজি সেন্টার একসঙ্গে সফলভাবে তৈরি করলও গ্যালিয়াম নাইট্রাইড ভিত্তিক মনোলথিক মাইক্রোওয়েভ ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট।
এই ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট বা MMIC তৈরি করার ফলে ভারত ঢুকে পড়ল পৃথিবীর ৬টি দেশের মধ্যে। যে সব দেশ এই সব অত্যাধুনিক চিপ নিজেরাই তৈরি করতে পারে। গ্যালিয়াম নাইট্রাইড চিপ সাধারণ সিলিকন চিপের থেকে অনেকটা বেশী শক্তিশালী। অনেক বেশি তাপমাত্রা, হাই ভোল্টেজ আর দ্রুত স্যুইচিং; সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে রয়েছে এই গ্যালিয়াম নাইট্রাইড চিপ। মাত্র ১০.৫ বর্গ মিলি মিটারের এই গ্যালিয়াম নাইট্রাইডের চিপ ৩০ ওয়াট শক্তি দিতে পারে। এ ছাড়াও সাধারণ সিলিকন চিপের থেকে এই চিপ ৩০০ গুণ দ্রুত কাজও করে। ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র, রাডার, যুদ্ধবিমান থেকে নৌসেনার প্ল্যাটফর্ম; আধুনিক যুদ্ধপদ্ধতির সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে রয়েছে এই চিপ।
বিদেশি নিষেধাজ্ঞার জের ও প্রযুক্তি হস্তান্তরে অন্য দেশের অনীহাই ভারতের এই গ্যালিয়াম নাইট্রাইড চিপ তৈরির প্রয়োজনীয়তা সৃষ্টি করে। দীর্ঘদিনের গবেষণা, শত শত জটিল প্রক্রিয়া ও দিনের পর দিন পরীক্ষার পর অবশেষে সাফল্যের মুখ দেখেছিল ডিআরডিও। ভারতের এই সাফল্য যদিও শুধুমাত্র আত্মনির্ভরতার প্রতীক নয়। ভবিষ্যতের যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি ও মহাকাশ অভিযানে ভারতের কৌশলগত ক্ষমতার ভিত্তিকেও শক্ত করল এই চিপ। এটি প্রযুক্তিতে ভারতের নির্ভরতা নয়, আসলে এটি নেতৃত্বের সূচনা।
