AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

কম বয়সে চুল পাকা, বড় কোনও রোগের ইঙ্গিত নয় তো?

২০১৮ সালে International Journal of Trichology-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, যাঁদের কম বয়সে চুল পাকে, তাঁদের মধ্যে অনেকেরই ভিটামিন বি১২-এর মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কম। এই ভিটামিনের অভাব থাকলে অল্প বয়সেই চুল পেকে যায়

কম বয়সে চুল পাকা, বড় কোনও রোগের ইঙ্গিত নয় তো?
| Updated on: Feb 10, 2026 | 5:12 PM
Share

একসময় চুল পাকা ছিল বার্ধক্যের স্বাভাবিক লক্ষণ। কিন্তু এখন বহু মানুষই কুড়ির কোঠা পেরোতে না পেরোতেই বা তারও আগেই চুলে পাক দেখতে পাচ্ছেন। অনেকের মনেই প্রশ্ন আসছে, এটা শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা কোনও বড় রোগের ইঙ্গিত নয়তো? চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, সব ক্ষেত্রে নয়, তবে কিছু পরিস্থিতিতে কম বয়সে চুল পাকা শরীরের স্বাস্থ্যগত সমস্যার সতর্ক সংকেত হতে পারে। চুলের রং নির্ভর করে মেলানিন নামের একটি রঞ্জক পদার্থের উপর। বয়সের সঙ্গে এই রঞ্জক কমে যাওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু যখন অল্প বয়সেই এই প্রক্রিয়া শুরু হয়, তখন এর পেছনে একাধিক চিকিৎসাগত কারণ থাকতে পারে।

বৈজ্ঞানিক গবেষণা কী বলছে?

ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি

২০১৮ সালে International Journal of Trichology-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, যাঁদের কম বয়সে চুল পাকে, তাঁদের মধ্যে অনেকেরই ভিটামিন বি১২-এর মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কম। এই ভিটামিনের অভাব থাকলে অল্প বয়সেই চুল পেকে যায়।

থাইরয়েডের সমস্যা ও হরমোনের ভূমিকা Journal of Clinical Endocrinology & Metabolism er গবেষণা থেকে জানা গিয়েছে, থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও রং প্রভাবিত হতে পারে। হাইপোথাইরয়েডিজমে চুল দ্রুত ধূসর হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।

অটোইমিউন রোগ Dermatology Research and Practice-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভিটিলিগো ও অ্যালোপেসিয়া এরিয়াটা-র মতো অটোইমিউন রোগে চুলের রঞ্জক কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যার ফলে আগেভাগেই চুল পাকে।

মানসিক চাপ ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ২০২০ সালে Nature জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়ায়, যা চুলের রঙের জন্য দায়ী স্টেম সেল নষ্ট করতে পারে। অর্থাৎ স্ট্রেস সরাসরি চুলে পাক ধরাতে পারে।

লাইফস্টাইলের প্রভাবও বড় ভূমিকা রাখে

চিকিৎসকদের মতে রাত জাগা, অপুষ্টিকর খাদ্য, ধূমপান, দূষণ এবং অতিরিক্ত রাসায়নিকযুক্ত হেয়ার প্রোডাক্ট চুলের স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

তবে মনে রাখা জরুরি সব ক্ষেত্রেই চুল পাকা মানেই বড় রোগ নয়। অনেক সময় এটি শুধুই বংশগত বা স্বাভাবিক প্রবণতাও হতে পারে। কিন্তু যদি চুল পাকার সঙ্গে অস্বাভাবিক ক্লান্তি, চুল পড়া, ওজন কমা বা হরমোনজনিত সমস্যা দেখা যায়, তাহলে দ্রুত রক্ত পরীক্ষা করা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।