সাবধান! স্মার্টফোন ব্যবহারে ক্ষয় হচ্ছে দাঁত? বিজ্ঞান যা বলছে শুনলে চমকে যাবেন
ইসরায়েলের তেল আবিব ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যারা অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া বা স্মার্টফোন ব্যবহার করেন, তাঁদের মধ্যে 'ব্রুক্সিজম' (Bruxism) বা ঘুমের মধ্যে দাঁতে দাঁত ঘষার প্রবণতা অনেক বেশি। স্মার্টফোন ব্যবহারের ফলে যে মানসিক চাপ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়, তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে চোয়ালের পেশিতে। এর ফলে দাঁতের এনামেল স্তর দ্রুত ক্ষয়ে গিয়ে দাঁত শিরশির করা বা ভেঙে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

আপনার হাতের স্মার্টফোনটি কেবল আপনার চোখের বা ঘুমের ক্ষতি করছে না, এটি নিঃশব্দে আপনার হাসিরও বারোটা বাজাচ্ছে। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও, সাম্প্রতিক একাধিক আন্তর্জাতিক গবেষণায় স্মার্টফোন আসক্তির সঙ্গে দাঁত ও চোয়ালের সমস্যার সরাসরি যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে। ‘ন্যাশনাল ডেন্টিস্ট ডে’-তে জানুন আসল কারণ।
কী বলছে বিজ্ঞান?
স্মার্টফোনের দিকে তাকিয়ে মাথা নিচু করলে (প্রায় ৪৫ থেকে ৬০ ডিগ্রি কোণ), ঘাড়ের ওপর প্রায় ২৭ কেজি ওজন বা চাপ পড়ে। একে বলা হয় ‘টেক-নেক’ (Tech-neck)। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এই অতিরিক্ত চাপের ফলে আমাদের চোয়ালের সন্ধিস্থল বা Temporomandibular Joint (TMJ) তার স্বাভাবিক অবস্থান থেকে সরে যেতে পারে। এর ফলে চোয়ালে ব্যথা, মুখ খুলতে সমস্যা এবং দাঁতের পাটির অ্যালাইনমেন্ট বা বিন্যাস নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
ইসরায়েলের তেল আবিব ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যারা অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া বা স্মার্টফোন ব্যবহার করেন, তাঁদের মধ্যে ‘ব্রুক্সিজম’ (Bruxism) বা ঘুমের মধ্যে দাঁতে দাঁত ঘষার প্রবণতা অনেক বেশি। স্মার্টফোন ব্যবহারের ফলে যে মানসিক চাপ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়, তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে চোয়ালের পেশিতে। এর ফলে দাঁতের এনামেল স্তর দ্রুত ক্ষয়ে গিয়ে দাঁত শিরশির করা বা ভেঙে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।
ফোনের স্ক্রিনে মগ্ন থাকার সময় অনেক ক্ষেত্রে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া হয়। অনেকে আবার দীর্ঘক্ষণ জল পান করেন না। আমেরিকার ‘এ কে ডেন্টাল’ ক্লিনিকের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, স্মার্টফোন ব্যবহারের সময় আমাদের লালা নিঃসরণ (Saliva secretion) কমে যেতে পারে। লালা হল মুখের প্রাকৃতিক পরিষ্কারক, যা ব্যাকটেরিয়া ধুয়ে দেয়। লালা কমে গেলে মুখ শুকিয়ে যায়, যার ফলে ক্যাভিটি এবং মাড়ির রোগের প্রকোপ বহুগুণ বেড়ে যায়।
যদিও স্ক্রিনের নীল আলো (Blue Light) সরাসরি দাঁত নষ্ট করে না, তবে এটি শরীরের ‘মেলাটোনিন’ হরমোন কমিয়ে দেয়। এর ফলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। দুর্বল ইমিউনিটির কারণে মাড়িতে সংক্রমণ বা পিরিওডন্টাইটিস হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
বাঁচবেন কীভাবে?
গবেষকরা বলছেন, স্মার্টফোন পুরোপুরি ছাড়ার প্রয়োজন নেই, তবে অভ্যাসে কিছু বদল আনা জরুরি:
ফোন ব্যবহারের সময় সেটি চোখের সোজাসুজি রাখুন, যাতে ঘাড়ে বা চোয়ালে চাপ না পড়ে। প্রতি ২০ মিনিট অন্তর ফোন থেকে বিরতি নিন এবং চোয়ালের পেশি শিথিল করুন। ফোন ব্যবহারের মাঝে পর্যাপ্ত জল পান করুন যাতে মুখ শুকিয়ে না যায়।
